পরের বছরের গোড়ায় বাজেট। নিছক ব্যয়মঞ্জুরি হলেও, লোকসভা নির্বাচনের আগে তা যথেষ্ট গুরুত্বপূর্ণ। অনেকে মনে করেছিলেন, এই অবস্থায় বর্তমান অর্থ সচিব হাসমুখ আঢিয়ার কাজের মেয়াদ বাড়বে। কিন্তু আঢিয়া নিজেই জানিয়ে দিয়েছেন, ৩০ নভেম্বর অবসরের পরে আর এক দিনও কাজ করবেন না।
অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি আজ ব্লগে আঢিয়ার অবসরের কথা জানিয়ে লিখেছেন, ‘‘সরকার ওঁর (আঢিয়া) দক্ষতা, অভিজ্ঞতাকে অন্য পদে কাজে লাগাতে চেয়েছিল। কিন্তু উনি আমাকে বছরের শুরুতেই জানিয়ে দিয়েছিলেন, ৩০ নভেম্বর অবসরের পরে তিনি আর এক দিনও কাজ করবেন না।’’
সংশ্লিষ্ট মহলের বক্তব্য, অনেকেই মনে করেছিলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী আঢিয়াকে ক্যাবিনেট সচিব করবেন। মোদীর আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত হলেও, গুজরাত ক্যাডারের আমলার ভাগ্যে শিকে ছেঁড়েনি। কেন্দ্র তাঁকে অন্য পদে বসাতে চেয়েছিল। কিন্তু রাজি হননি আঢিয়া। কাজের বাইরে যোগ ও আধ্যাত্মিকতা নিয়ে সময় কাটান তিনি। তাঁর গবেষণাও যোগ নিয়ে। জেটলির মন্তব্য, ‘‘অবসরের পরে ওঁর সময় দখল করবে প্রিয় আবেগ ও ছেলে।’’
সরকারি সূত্রের খবর, বর্তমান ব্যয় সচিব অজয় নারায়ণ ঝা ৩১ জানুয়ারি পর্যন্ত অর্থ সচিবের দায়িত্ব পালন করবেন। আঢিয়া রাজস্ব সচিবেরও দায়িত্বে। সেই পদে আসছেন আধার কর্তৃপক্ষের সিইও অজয়ভূষণ পাণ্ডে।
জিএসটি রূপায়ণের দায়িত্বে ছিলেন আঢিয়া। সামলান নোটবন্দির ঝক্কিও। গুজরাতে থাকার সময় থেকেই তিনি মোদীর আস্থাভাজন। কিন্তু সাম্প্রতিক অতীতে মোদীর সঙ্গে আঢিয়ার দূরত্ব বাড়ছিল বলে খবর। এয়ারসেল-ম্যাক্সিস কাণ্ডে ইডি-র এক অফিসার আঢিয়ার বিরুদ্ধে অভিযুক্তদের সাহায্য করার অভিযোগ তোলেন। বিজেপি নেতা সুব্রহ্মণ্যম স্বামীও তাঁর বিরুদ্ধে দুর্নীতিতে প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ তুলেছেন। কিন্তু আঢিয়ার পক্ষে কেউই দাঁড়াননি। উল্টে তাঁকে ক্যাবিনেট সচিব না করে বর্তমান ক্যাবিনেট সচিব পি কে সিন্হার কাজের মেয়াদ বাড়িয়ে দেওয়া হয়। তার পরেই লম্বা ছুটি নিয়ে মাইসুরুর যোগ কেন্দ্রে চলে যান আঢিয়া।