E-Paper

ভোট মিটলেই ২৫-২৮ টাকা বাড়তে পারে তেলের দাম? আর্থিক উপদেষ্টার ভবিষ্যদ্বাণীতে অস্বস্তিতে কেন্দ্র

মন্ত্রকের দাবি, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলি তেলে লোকসান করছে বটে। পেট্রলের লিটারে তা প্রায় ২০ টাকা এবং ডিজ়েলে প্রায় ১০০ টাকা ছুঁয়েছে। তবুও দাম বৃদ্ধির পরিকল্পনা নেই। এমন কোনও প্রস্তাব সরকার বিবেচনাই করছে না।

নিজস্ব প্রতিবেদন

শেষ আপডেট: ২৪ এপ্রিল ২০২৬ ০৮:৪৭

— প্রতীকী চিত্র।

পশ্চিমবঙ্গ ও তামিলনাড়ুর বিধানসভা নির্বাচনে ভোটগ্রহণের দিনই মোদী সরকারকে অস্বস্তিতে ফেলে আর্থিক উপদেষ্টা সংস্থা কোটাক ইনস্টিটিউশনাল একুইটিজ় ভবিষ্যৎবাণী করল, ভোট পর্ব মিটলেই পেট্রল, ডিজ়েলের দাম লিটারে ২৫-২৮ টাকা বাড়তে পারে। এর আগেও বেশ কিছু উপদেষ্টা এই আশঙ্কা প্রকাশ করেছে। কারণ পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধে বিশ্ব বাজারে অশোধিত তেলের দাম বাড়লেও এ দেশে পেট্রল-ডিজ়েল এখনও বাড়েনি। অথচ বিশ্ব বাজারে তেলের ব্যারেল ফের ১০০ ডলার পেরিয়েছে। আমদানি খাতে খরচ বৃদ্ধির কথা তুলে দেশে তেলের খুচরো দামে রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলির বিপুল ক্ষতির হিসাবও দিচ্ছে কেন্দ্র। তার উপর এলপিজি-সহ অন্যান্য জ্বালানি দাম বাড়ানো হয়েছে ইতিমধ্যেই। ফলে মনে করা হচ্ছে, ভোট মিটলে পেট্রল-ডিজ়েলের পালা। কিন্তু ভোটগ্রহণের দিনই এ নিয়ে কোটাক ভবিষ্যৎবাণী করায় বৃহস্পতিবার তেল ও গ্যাস মন্ত্রক একে ‘ভুয়ো খবর’ বলে দাবি করেছে।

মন্ত্রকের দাবি, রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলি তেলে লোকসান করছে বটে। পেট্রলের লিটারে তা প্রায় ২০ টাকা এবং ডিজ়েলে প্রায় ১০০ টাকা ছুঁয়েছে। তবুও দাম বৃদ্ধির পরিকল্পনা নেই। এমন কোনও প্রস্তাব সরকার বিবেচনাই করছে না। মানুষের মধ্যে আতঙ্ক তৈরি করতে এ সব রিপোর্ট ছড়ানো হচ্ছে। মন্ত্রকের বক্তব্য, বরং বিশ্বে একমাত্র ভারতে চার বছরে পেট্রল, ডিজ়েলের দাম বাড়েনি। কেন্দ্র এবং তেল সংস্থাগুলি বিশ্ব বাজারের চড়া দাম থেকে দেশবাসীকে সুরক্ষিত রাখার চেষ্টা করেছে। যদিও সংশ্লিষ্ট মহল মনে করাচ্ছে, গত মাসে গৃহস্থের রান্নার গ্যাসের দাম তো বেড়েইছে। একাধিক বার অটো এলপিজির দাম বাড়ানোয় চড়েছে অটোর ভাড়া।

কোটাক-এর রিপোর্টে দাবি, বিশ্ব বাজারে অশোধিত তেলের ব্যারেল ১২০ ডলারে পৌঁছেছে। তাই দেশে দাম বাড়াতে হতে পারে। কারণ তিনটি রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থা মাসে প্রায় ২৭ হাজার কোটি টাকা লোকসান করছে। কেন্দ্র যে উৎপাদন শুল্ক কমিয়েছিল, রফতানি কমাতে শুল্ক চাপিয়েছিল, তাকে আংশিক সুরাহা বলেই মনে করছে কোটাক। তবে তাদের মতে, ২৯ এপ্রিল পশ্চিমবঙ্গে দ্বিতীয় দফার ভোট শেষ না হওয়া পর্যন্ত দাম বাড়ার আশঙ্কা নেই।

কংগ্রেস সভাপতি মল্লিকার্জুন খড়্গের অভিযোগ, মোদী সরকার জ্বালানি ক্ষেত্রে ব্যর্থ। ৫৪ দিন ধরে হরমুজ় প্রণালীতে ১৪টি ভারতীয় জাহাজ আটকে। বিভিন্ন দেশ থেকে তেল আমদানির চেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। ১১ বছর ধরে দেশে অশোধিত তেল উৎপাদন কমছে। বন্ধ হয়েছে নতুন রান্নার গ্যাসের সংযোগ দেওয়া। কিন্তু কেন্দ্র মুখে বলছে, সব ঠিক চলছে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Petrol price Central Government Diesel Price

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy