E-Paper

দেশ জুড়ে চালু নয়া শ্রমবিধি, শামিল হল না পশ্চিমবঙ্গ

নতুন চারটি শ্রম বিধি হল— মজুরি বা বেতন, শিল্প ক্ষেত্রে সম্পর্ক, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা এবং সামাজিক সুরক্ষা। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এ রাজ্যে একটি বিধিও চালু হতে দেবে না।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০১ এপ্রিল ২০২৬ ০৭:৫২

—প্রতীকী চিত্র।

অবশেষে আজ থেকে দেশে চালু হয়ে গেল কেন্দ্রের আনা নতুন চারটি শ্রম বিধি। তবে পশ্চিমবঙ্গ-সহ কয়েকটি রাজ্য তাতে শামিল হল না। ১০টি কেন্দ্রীয় ট্রেড ইউনিয়নের যৌথ মঞ্চ জানিয়েছে, আজ ‘কালা দিবস’ পালন করছে তারা। উদ্দেশ্য, মোদী সরকারের অগণতান্ত্রিক, সংবিধান বিরোধী এই পদক্ষেপের বিরোধিতা।

নতুন চারটি শ্রম বিধি হল— মজুরি বা বেতন, শিল্প ক্ষেত্রে সম্পর্ক, কর্মক্ষেত্রে নিরাপত্তা এবং সামাজিক সুরক্ষা। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, এ রাজ্যে একটি বিধিও চালু হতে দেবে না। তৃণমূল অনুমোদিত আইএনটিটিইউসি-র সর্বভারতীয় সভাপতি দোলা সেন বলেন, ‘‘চূড়ান্ত অগণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে আইনটি পাশ করেছে মোদী সরকার। সংসদে যখন বিরোধীরা ছিলেন না, তখন পাশ হয়েছে। শ্রম কেন্দ্র ও রাজ্যের যৌথ তালিকাভুক্ত। তাই রাজ্য বিধিগুলি নিয়ে নিয়ম তৈরি না করায় এখানে আইনটি চালু হচ্ছে না। কিন্তু কিছু বিরোধী দল শ্রম সংক্রান্ত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে বিধির বিরোধিতা করলেও, তাদের শাসিত রাজ্যগুলিতে এই সংক্রান্ত নিয়ম তৈরি করে তা চালুর রাস্তা করে দিয়েছে।’’ তাঁর অভিযোগ, বর্তমানে দেশে চালু ন্যূনতম মজুরির থেকে কম বেতনের ব্যবস্থা করা হয়েছে শ্রম বিধিতে। ফলে মালিকপক্ষ এর সুযোগ নেবেন বলেই আশঙ্কা। সংগঠনের রাজ্য সম্পাদক ঋতব্রত বন্দ্যোপাধ্যায়ের বক্তব্য, ‘‘কেন্দ্র-রাজ্য যৌথ তালিকায় রয়েছে বলেই পশ্চিমবঙ্গ-সহ একাধিক রাজ্য নিয়ম তৈরি না করা সত্ত্বেও শ্রম বিধিগুলি চালু করা অগণতান্ত্রিক। তা সংবিধান বিরোধীও।’’

এআইইউটিইউসি-র দিলীপ ভট্টাচার্যের দাবি, ‘‘শ্রম বিধি শ্রমিকদের স্বার্থহানি করবে। লাভবান হবে কর্পোরেট। এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানাতে আজ দেশ জুড়ে শ্রমিকরা কালো ব্যাজ পরবেন। এগুলি প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত আন্দোলন চলবে।’’ ইউটিইউসি-র সাধারণ সম্পাদক অশোক ঘোষ জানান, এতে এমন বহু ব্যবস্থা রয়েছে, যেগুলি শ্রমিক স্বার্থের পরিপন্থী। যেমন, আগে ১০০ জনের বেশি কর্মী থাকলে সেই সংস্থা বন্ধ করতে সরকারের সায় লাগত। এখন ৩০০-র বেশি হলে, তবেই লাগবে। এ দেশের সিংহভাগ সংস্থাই এই শ্রেণির।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Labour Rules New Labour Codes Central Government Labours West Bengal government

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy