সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

ভয় নয়, ভরসা

মাত্র কয়েকটা মাসে বদলে গিয়েছে গোটা পৃথিবী। করোনার কামড়ে বিধ্বস্ত জীবনকে আষ্টেপৃষ্ঠে জড়িয়ে ধরেছে আর্থিক নিরাপত্তহীনতা। কিন্তু এমন ভয়ে ভয়ে বাঁচা যায় না কি! বরং ভয়কে জয় করে ঘুরে দাঁড়ানোর পথ খুঁজলে কেমন হয়? সতর্ক ভাবে, সব স্বাস্থ্য বিধি মেনে সঞ্চয়ে ভরসা ফেরানোর লড়াইটা যদি শুরু করা যায় এখনই? পথ দেখাচ্ছেন শৈবাল বিশ্বাস

finance

মাস চারেক আগে, মার্চের মাঝামাঝি যখন আপনাদের সঙ্গে শেষ বার কথা বলেছিলাম, তখন দেশে করোনা আক্রান্তের সংখ্যা ছিল ১৫০-এর কাছাকাছি। মৃতের সংখ্যা পাঁচেরও কম। তার পরে একে একে জনতা কার্ফু, দু’মাসের বেশি লকডাউন, প্রায় দেড় মাসের আনলক পর্ব পেরিয়ে বুধবার আক্রান্ত প্রায় ৯.৩৬ লক্ষ। মারা গিয়েছেন ২৪,৩০০ জনেরও বেশি। ভয়াবহ? নিশ্চয়ই। কিন্তু তা বলে জীবন তো থেমে থাকে না। তাই ভবিষ্যতের চিন্তা করতেই হয়। শুধু নিজের নয়, আমাদের সঙ্গে জড়িয়ে থাকা কাছের মানুষগুলোরও। সে কথা ভেবেই আজকের আলোচনা। দেখে নেওয়া, এই দমবন্ধ করা অস্থির ও অনিশ্চিত সময়েও কী ভাবে এগোলে আর্থিক স্বস্তির খোঁজ মিলতে পারে। জিইয়ে রাখা যায় আশা-ভরসা। আলোর খোঁজে এগিয়ে যেতে যেটা বড় জরুরি এখন। যার ভরসায় নিশ্চিন্তে থাকবে পরিবার-পরিজনও। সেই সঙ্গে অনিশ্চিত আগামীর জন্য তৈরি রাখা যাবে আরও পোক্ত জমি।

 

আর ভয় নয়

প্রথমেই বলব চারদিক অস্থির ঠিকই। তবে ভয় পাবেন না। কেউ বাড়িতে বসে কাজ করছেন। কাউকে রুজির প্রয়োজনে সংক্রমণের ঝুঁকি নিয়েই বেরোতে হচ্ছে। বাড়িতে ফিরে প্রথমেই ধড়াচূড়ো ছাড়া, নিয়ম মেনে পরিষ্কার হওয়ার কাজটা যেমন আয়ত্ত্বে এসে গিয়েছে, ঠিক সে ভাবেই লগ্নিতে মন দিন। ঝালিয়ে নিন এত দিন ধরে শিখে আসা এবং মেনে চলা পাঠগুলিকে। ভুল হলে শুধরে নিন। তা হলে দেখবেন ধাক্কা লাগলেও ভেসে যাবেন না। হয়তো মিউচুয়াল ফান্ডের হিসেব দেখলে বুকে কাঁপুনি ধরবে। শেয়ারের লাল সংখ্যা চঞ্চল করবে মনকে। ব্যাঙ্কের পাসবইয়ে কমে আসা সুদ দেখেও বাড়বে অস্থিরতা। কিন্তু লক্ষ্যগুলিকে ফের সাজিয়ে নিয়ে সঞ্চয়ের কাজটা ঠিক মতো করে গেলে শেষে ভালই হবে। তাই ভয় কাটিয়ে চলুন বুঝে নিতে চেষ্টা করি কী ভাবে এগোলে সুবিধা হবে। লগ্নির পাঠটা ফের ঝালিয়ে নিতে নিতে দেখি পরিস্থিতি অনুসারে কতটা পাল্টাতে হবে কৌশল।

 

খরচ বাঁধাই থাক

গত কয়েক মাসে বেড়াতে যাওয়ার পরিকল্পনা যেমন বাতিল হয়েছে, তেমনই কমেছে শখের খরচ। দোকানে ভাল কিছু দেখলেই কিনে ফেলা বন্ধ। অনেকেই বুঝেছেন অল্পেও জীবন চলে যায়। অর্থাৎ, সোজা কথায় বলতে গেলে বাজে খরচে কিছুটা রাশ পড়েছে। আর এটাই মস্ত বড় সুযোগ তৈরি করছে আরও বেশি সঞ্চয়ের। যে কারণে আমি বলব আগামী দিনেও রাশ থাকুক খরচে। যেটার দরকার নেই, সেটা দোকানেই থাকুক। ওষুধের মতো কিছু খরচ না-করে উপায় নেই। বরং আগামীর জন্য টাকা জমিয়ে রাখা আরও জরুরি হয়ে উঠেছে। আর তার উপায় হল খরচে রাশ টেনে রাখা।

তবে এটা ঠিক যে, এখন বাড়ি থেকে কাজ বা অনলাইনে ছেলেমেয়ের পড়াশোনার জন্য একটা তুলনায় ভাল মোবাইল বা ল্যাপটপ লাগবে। চাই ভাল নেট সংযোগ এবং তার সঙ্গে যুক্ত রাউটারের মতো বেশ কিছু পণ্য। ফলে এগুলিকে এই মুহূর্তে আবশ্যিক বলে ধরতে হবে। আর না-থাকলে তা কিনতেও হবে। কিন্তু যদি বাড়িতে ইতিমধ্যেই এগুলি থেকে থাকে, তা হলে শুধু বাজারে নতুন মডেল এসেছে বলেই মোবাইল কেনার মতো প্রবণতা ত্যাগ করাই ভাল।

 

হঠাৎ টাকার দরকার হলে!

গত কয়েক মাসে আমূল বদলে গিয়েছে চাকরির বাজারের ছবিটা। করোনার ধাক্কায় কিছু শিল্পে সংস্থাগুলি কর্মী ছাঁটাই করেছে, তো আবার কোনও জায়গায় কমেছে বেতন। সারা বছরের খাটনির পরে মাইনে বাড়ার আশাও ছাড়তে হয়েছে। আর যাঁরা দিন মজুরি করেন, তাঁদের তো কথাই নেই। পরিযায়ী শ্রমিকদের দুর্দশা তো আমরা দেখেছি টিভির পর্দায় চোখ রেখেই। কপর্দক শূন্য হয়ে বাড়ির পথ ধরেছেন কোটি কোটি মানুষ। তাই কখন কী হবে বলা মুশকিল। আর সেই জন্যই আরও বেশি করে জরুরি আপৎকালীন তহবিল গড়ে তোলা।

আমি সব সময়েই বলি অন্তত তিন-ছ’মাসের বেতন সেভিংস অ্যাকাউন্ট বা লিকুইড ফান্ডে রেখে দিতে। করোনা চোখে আঙুল দিয়ে দেখাচ্ছে যে শুধু চাকরি যাওয়াই নয়, জরুরি প্রয়োজনে হঠাৎ করে বাড়ির জন্য বেশি খাবার কিনে রাখা বা ওষুধপত্র সংগ্রহ করতে কী পরিমাণ টাকা খরচ হতে পারে। তাই এখনও যদি আপৎকালের টাকা জমিয়ে না-থাকেন, তা হলে আর দেরি না-করে এখনই সেই পথে হাঁটতে হবে। আর যাঁদের হাতে বেশ কিছু টাকা জমেছে, তাঁদের বলব অভ্যাসটা ছাড়বেন না। যে ভাবে সংক্রমণ বাড়ছে, তাতে ভবিষ্যতে কী হবে কেউ জানেন না। ফলে এই খাতে যে টাকা রাখছেন, সেটা চালিয়ে যান। লক্ষ্যের থেকে বেশি টাকা জমে গেলে বরং তা অন্য কোনও খাতে লগ্নির কথা ভাবা যেতে পারে।

অনেকেই প্রশ্ন করেন, বাড়তি টাকা হাতে থাকে না। জমাব কী ভাবে? তাঁদেরকে বলব, এখন প্রয়োজন ছাড়া বাড়ি থেকে বেরনো বন্ধ। আর তার ফলে খরচ কমার কথা আগেই বলেছি। সেই অতিরিক্ত খরচের টাকাই এখন জমা থাকুক জরুরি তহবিলে। তা হলেই আর বাড়তি টাকা জোগাড়ের চিন্তা করতে হবে না। আর তার বাইরে হাতে কিছু টাকা থেকে থাকলে, সেটাও এখানে জমান।

 

সুরক্ষার ঢাল তৈরি থাকুক

প্রথমত শরীরের সুরক্ষা এবং দ্বিতীয় পরিবারের নিশ্চয়তা। এই কারণে বর্তমান অবস্থায় জীবন বিমা অত্যন্ত জরুরি হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই এখনও বিমা না-কিনে থাকলে অবিলম্বে তা করাতে হবে। আমার মতে, আপনি যদি রোজগেরে হন এবং বয়স ৪০ বছরের কম, তা হলে বছরে যা আয়, তার ১৫-২০ গুণ অঙ্কের জীবন বিমা কেনার কথা ভাবুন। তার বেশি হলে ১০ গুণ।

 

স্বাস্থ্য বিমা রয়েছে তো?

ভারতে যে ভাবে কোভিড-১৯ ছড়াচ্ছে, তাতে এর জন্য চিকিৎসার খরচের ব্যবস্থা করে রাখা জরুরি। কথাটা শুনতে খারাপ লাগলেও, কিছু করার নেই।

এ জন্য প্রথমেই বলব অফিসের বিমার উপরে ভরসা করে বসে থাকবেন না। নিজের ও পরিবারের জন্য অবশ্যই আলাদা বিমা কিনুন। বিশেষত চাকরিরই যেখানে কোনও নিশ্চয়তা নেই, সেখানে নিজেদের বিমা না-থাকলে তো কথাই নেই।

এ ক্ষেত্রে সাধ্যের মধ্যে সব চেয়ে বেশি যে অঙ্কের বিমা করাতে পারবেন, তা-ই করুন। ভাল হয় শুরুতেই ১০ লক্ষের ব্যক্তিগত এবং ২০ লক্ষের ফ্যামিলি ফ্লোটার বিমা কিনতে পারলে। বেশি করেই বলছি, কারণ কম বয়সে বেশি অঙ্কের বিমা কিনলে প্রিমিয়াম তুলনায় কম পড়ে। আর এতটা না-পারলেও, যতটা সম্ভব ততটাই কিনুন।

আর যদি স্বাস্থ্য বিমা থাকে, তা হলে ভাল। সে ক্ষেত্রে ভাবুন তার অঙ্ক বাড়ানোর কথা।

এমনিতে সাধারণ স্বাস্থ্য বিমার মধ্যেই করোনার চিকিৎসার সুবিধা পাওয়ার কথা। তবে এ ছাড়াও, বিমা সংস্থাগুলি করোনার জন্য আলাদা দু’টি বিমা এনেছে। মেয়াদ সর্বাধিক সাড়ে ন’মাস। চাইলে সেগুলিও কেনা যায়। তবে আমার মতে, কিনছেনই যখন, তখন প্রচলিত বিমা কেনাই ভাল। যা পরেও কাজে লাগবে।

 

অবস্থা বুঝে লগ্নি

• নিয়মিত রোজগার হাতে পাওয়া নিয়ে সমস্যা না-থাকলে কোনও লগ্নি বন্ধ করার কথা ভাববেন না। কারণ, অর্থনীতি যখন অস্থির, তখন সব চেয়ে বড় ভুল হল তাড়াহুড়ো করে জমানো টাকা তুলে ফেলা বা একেবারে টাকাই না-ঢালা। বরং এ ক্ষেত্রে আরও সতর্ক হয়ে বুঝে শুনে সঞ্চয়ের পথে হাঁটতে হবে।

• আর যদি চাকরি হারানো বা অন্য কোনও কারণে আয় একেবারে বন্ধ হয়, সে ক্ষেত্রে অন্য পথ ভেবে দেখতে হবে। অর্থাৎ, সঞ্চয়ের মূল মন্ত্রই হবে অবস্থা বুঝে সিদ্ধান্ত নেওয়া। তবে চেষ্টা করে যেতে হবে কোনও ভাবে হাতে টাকা এলেই কমপক্ষে তার ৩০% কোনও খাতে জমিয়ে রাখার। তা সে ব্যাঙ্ক-ডাকঘরই হোক বা শেয়ার-মিউচুয়াল ফান্ড।

• পরিস্থিতি সব সময়ে এক রকম চলে না, তা করোনা দেখিয়ে দিয়েছে। তাই কোনও কাজ এ বছরই করতে হবে এমন ভেবে রাখার উপায়ও এই মুহূর্তে নেই। তাই যে লক্ষ্য পিছোলেও কোনও অসুবিধা হবে না, সেগুলি আপাতত মুলতুবি রাখুন।

• বরং জোর দিন নিজের নিরাপদ তহবিল তৈরির কাজে। দেখবেন ভবিষ্যতে গিয়ে সেটাই কিছুটা স্বস্তিতে রাখবে আপনাকে।

 

বিন্দুতে সিন্ধু হবে 

আমরা জানি, শেয়ার বাজার পড়লে ফান্ডের ন্যাভও কমে। তখন কম দামে মিউচুয়াল ফান্ডের ইউনিট কেনা যায়। পরে বাজার উঠলে ন্যাভ বাড়ে, হাতে আসে মোটা টাকা। তাই চারদিক অস্থির দেখে ফান্ডে এসআইপি বন্ধ করবেন না। তবে আমি বলব—

• ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা এবং পারফরম্যান্স বিচার করে অনুসারে এক ফান্ড থেকে অন্য ফান্ডে লগ্নি সরানোর কথা ভাবতে পারেন।

• সে ক্ষেত্রে স্মল বা মিড ক্যাপ ফান্ড থেকে দূরে থাকাই ভাল। বরং বাছা যেতে পারে লার্জ ক্যাপ বা ইন্ডেক্স ফান্ডগুলি। পরিস্থিতি শোধরালে যাদের ন্যাভ ওঠার সম্ভাবনাও বেশি।

• ছাঁটাই হলে অথবা বেতন কমলে পরিস্থিতি অনুসারে কোনও ফান্ড বন্ধের কথা ভাবা যেতে পারে।

• সে ক্ষেত্রে যে ফান্ড বেশি খারাপ করছে, সেটার ইউনিট ভাঙাতে পারেন।

• অবস্থা বুঝে তিন-ছ’মাসের জন্য ফান্ডে লগ্নি বন্ধ করতে হতে পারে। তবে সেটা একেবারে শেষ ধাপ। যত দিন তা না-করা যায়, ততই ভাল।

 

ঝুঁকির লগ্নি, যাঁরা পারবেন

মার্চে সূচকের বিপুল পতনের সময়ে অনেকেই শেয়ারে লগ্নি করে মুনাফা করেছেন। কিন্তু সকলের পক্ষে এ ভাবে লগ্নি করা সম্ভব নয়। প্রথমত, হাতে এত টাকা থাকে না, যে ঝুঁকি নিয়ে শেয়ারে খাটানো যাবে। দ্বিতীয়ত, কোন শেয়ার বাছবেন, সেটা বুঝে ওঠা সকলের পক্ষে সম্ভব নয়। তাই—

• খুব ঝুঁকি নিতে না-চাইলে সরাসরি শেয়ারে লগ্নির কথা ভাববেন না। এই মুহূর্তে বরঞ্চ হাতে টাকা রাখাটা বেশি জরুরি।

• যদি একান্তই শেয়ারে টাকা রাখতে চান, সে ক্ষেত্রে বুঝেশুনে অল্প অল্প করে লগ্নি করুন। অর্থাৎ, হাতে যদি লগ্নিযোগ্য ১০,০০০ টাকা থাকে, তা হলে একেবারে পুরোটা না-ঢেলে ২০০০ টাকা করে শেয়ার কিনুন। হয়তো এক বার খাটিয়ে কম শেয়ার আসবে, কিন্তু বেশি টাকা ক্ষতির ভয়টাও কম থাকবে।

• শেয়ারে টাকা রাখবেন নাকি তা থেকে দূরে থাকবেন, সেটা আপনার ঝুঁকি নেওয়ার ক্ষমতা ও ইচ্ছের উপরে নির্ভর করবে। তবে এটা বলতে পারি, হাতে এখন বেশ কিছুটা সময় থাকছে, তাই এই সুযোগে পড়াশোনা করে নিন। যাতে সিদ্ধান্ত নিতে সুবিধা হয়।

 

সোনা বাড়লে ভালই তো

হ্যাঁ, ঠিকই পড়েছেন। ২৪ ক্যারাট পাকা সোনার দাম ৫০,০০০ টাকা ছাড়ানো নিয়ে চর্চা হচ্ছে বিস্তর। কিন্তু তার মধ্যেও কথা বলছি সোনায় লগ্নি নিয়ে। কারণ, বিপদের দিনে সোনা সব সময়েই লগ্নির নিরাপদ গন্তব্য বলে মনে করা হয়। যে কারণে সঞ্চয়ের একাংশ এই খাতে করার কথা বলি আমরা। তবে সরাসরি সোনা নয়, এ ক্ষেত্রে আমার পছন্দ কাগুজে সোনা। বাজারে এসেছে সোনা বন্ডের নতুন সিরিজ। চাইলে সেখানে টাকা ঢালতে পারেন। অথবা বাছতে পারেন গোল্ড বা গোল্ড এক্সচেঞ্জ ট্রেডেড ফান্ডকে। এটা ঠিক যে, সোনার দাম যতটা উঁচুতে তাতে প্রথম লগ্নি করেই মুনাফা হয়ত দেখা যাবে না। যে কারণে ধৈর্য ধরার কথা বলব।

 

কিছু টাকা থাক ব্যাঙ্কেও

এটা ঠিক রিজার্ভ ব্যাঙ্ক সুদ কমানোর সঙ্গেই ব্যাঙ্কে ক্রমাগত সুদ কমে চলেছে। পিছিয়ে নেই স্বল্প সঞ্চয় প্রকল্পগুলিও। সেখানেও সুদের হার নিম্নমুখী। কিন্তু তা-ও আমি বলব,অস্থির বাজারে তুলনায় কিছুটা সুরক্ষার কথা ভেবে ব্যাঙ্ক বা ডাকঘরে লগ্নি করে রাখা ভাল। বিশেষত যাঁরা একেবারে ঝুঁকি নিতে পছন্দ করেন না, তাঁদের লগ্নির অন্তত ৫০% সরিয়ে রাখতে হবে এই খাতে। আর যাঁরা প্রবীণ নাগরিক, তাঁদের ক্ষেত্রেও স্বল্প সঞ্চয় প্রকল্পে লগ্নির কথা ভাবতে হবে। সুদ আরও কমে যাওয়ার আগেই।

 

ঋণের কথা ভুলে যান

খেতে যাওয়াই হোক বা অনলাইনে কেনাকাটা, কথায় কথায় ক্রেডিট কার্ড বার করাটা যেন আমাদের স্বভাবে পরিণত হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান অবস্থায় যতটা সম্ভব দূরে থাকতে হবে ক্রেডিট কার্ড ব্যবহার থেকে। সেই সঙ্গে বড় কোনও কিছু কেনাকাটার জন্য ব্যাঙ্ক বা আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে ঋণ নেওয়ার কথা ভাববেন না। এমনকি পারলে বন্ধুবান্ধব বা আত্মীয় স্বজনের কাছেও না-যাওয়া ভাল। বরং পারলে ব্যবহার করুন ডেবিট কার্ড। এতে নিজের টাকার উপরে নিয়ন্ত্রণ থাকবে। সুদও গুনতে হবে না। যদি একান্ত কোনও কারণে ধার নিতে হয়, তা হলে চেষ্টা করুন যত দ্রুত সম্ভব সেই টাকা মিটিয়ে দিতে।

 

কর কত, ভেবে বাছুন

এ বছর থেকে কম হারে করের বিকল্প পদ্ধতি চালু হয়েছে। চাইলে পুরনো কর ব্যবস্থায় থাকা যাবে। সে ক্ষেত্রে বিভিন্ন প্রকল্পে লগ্নি করে কর ছাড়ের সুবিধা নিতে পারবেন। অথবা নতুন ব্যবস্থায় কম হারের সুবিধা নিতে পারেন। কিন্তু সে জন্য ছাড়তে হবে কর ছাড়ের সুযোগ। ফলে শুধু কম হারে কর দিতে হচ্ছে দেখেই, নতুন প্রকল্পে যাওয়া ঠিক হবে না। বরং আগে থেকে সঞ্চয়ের পরিকল্পনা মাফিক কোন ব্যবস্থায় থাকা লাভের হবে, ঠিক করুন।

 

শেষপাত

শুরুর কথা দিয়েই শেষ করব। ভয় নয়, বুদ্ধি করে লগ্নি সাজান। পরিস্থিতি বুঝে ব্যবস্থা নিন। দেখবেন অশান্ত অবস্থাও কাটিয়ে ওঠা যাচ্ছে।

লেখক বিনিয়োগ বিশেষজ্ঞ (মতামত ব্যক্তিগত)

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন