এত দিন নাগাড়ে দাম চড়ছিল সোনা-রুপোর। এক এক দিন তা লাফাচ্ছিল নজিরবিহীন গতিতে। বহু দিন বাদে শুক্রবারের বাজার দেখল উল্টোটা। কলকাতায় কার্যত উল্কার বেগে নামল দামি ধাতু দু’টির দাম। এ দিন ১০ গ্রাম খুচরো পাকা সোনা (২৪ ক্যারাট) ৮৫০০ টাকা কমে হয়েছে ১,৬৯,৯৫০ টাকা। প্রতি কেজি রুপো একলপ্তে ৩৪,১৫০ টাকা পড়ে নেমেছে ৩,৫১,২৫০ টাকায়। গয়নার সোনার দামও কমেছে কিছুটা। বৃহস্পতিবার সোনা ও রুপোর দাম বেড়েছিল যথাক্রমে ১১,৭৫০ টাকা এবং ১৮,৫০০ টাকা।
বিশেষজ্ঞ মহলের অবশ্য দাবি, দামি ধাতুর দাম কমলে তা কিনতে ছোটেন মানুষ। এই পতনেও হয়তো সেটা ঘটবে, ঠিক যেমন শেয়ারের ক্ষেত্রে হয়। তবে এতে স্বস্তি বা আশঙ্কা, কোনওটারই মানে নেই। দাম এখনও যথেষ্ট চড়া। বৃহস্পতিবার কেন্দ্রের আর্থিক সমীক্ষাতেও বলা হয়েছে, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং আমেরিকার চড়া শুল্কের সমস্যা না মেটা পর্যন্ত সোনা-রুপোর দাম বাড়তে পারে। কারণ, সুরক্ষার লগ্নি হিসেবে একেই আঁকড়ে ধরবেন লগ্নিকারী। সোনার ব্যবসায়ী জে জে গোল্ডের ডিরেক্টর হর্ষদ অজমেঢ়া বলেন, ‘‘দাম আরও কিছুটা সংশোধন হতে পারে। কিন্তু সপ্তাহ খানেকের মধ্যে ফের দেখা যাবে তার ঊর্ধ্বগতি।’’
আন্তর্জাতিক বাজারে প্রতি আউন্স সোনার দাম কমেছে প্রায় ৪০০ ডলার। তার প্রভাব পড়েছে দেশে। বিশেষজ্ঞদের একাংশের দাবি, চড়া দামের কারণে লাভের টাকা ঘরে তুলতে অনেকে সোনা-রুপো বেচছেন। তাতেই পড়ছে দাম। এক দিকে পণ্য লেনদেনের বাজারে সোনা-রুপো বিক্রি হয়েছে। অন্য দিকে শেয়ার বাজারে সোনা ভিত্তিক ইটিএফের লগ্নি তোলা হয়েছে। সোনার কয়েন বা বাটও বেচতে দেখা গিয়েছে। তবে অশান্তির পরিবেশে এই ছবিও যে কোনও মুহূর্তে পাল্টে যেতে পারে বলেও মনে করছেন অনেকে।
সোনার দামের এই ঊর্ধ্বগতির মোকবিলা করতে কাল বাজেটে কিছু প্রস্তাব আশা করছেন বিশেষজ্ঞদের একাংশ। অল ইন্ডিয়া জেম অ্যান্ড জুয়েলারি ডোমেস্টিক কাউন্সিলের ডিরেক্টর সমর দে এবং বঙ্গীয় স্বর্ণশিল্পী সমিতির সাধারণ সম্পাদক টগর পোদ্দার চান, সোনা কেনায় ঋণ চালু হোক, কমুক আমদানি শুল্ক।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)