আয়করে ছাড়ের পরে এ বার শেয়ার বাজার থেকে আয়ে কর ছাড়! অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারামনের রবিবাসরীয় বাজেটের আগে এ নিয়ে প্রত্যাশা তুঙ্গে। বিশেষ করে মধ্যবিত্তের মধ্যে। যাঁরা এখন ব্যাঙ্কে টাকা জমা রাখার বদলে শেয়ার বাজার, মিউচুয়াল ফান্ডে সঞ্চয়ের টাকা লগ্নি করছেন।
অর্থ মন্ত্রক সূত্রে খবর, শেয়ার বাজারে যে ভাবে সাধারণ মানুষ টাকা লগ্নি করছেন, তা মাথায় রেখেশেয়ার কেনাবেচা বা লেনদেনের উপরে কর কমানোর কথাভাবা হচ্ছে। যাতে শেয়ারবাজারে লগ্নি অব্যাহত থাকে। গত বাজেটে ১২ লক্ষ টাকা পর্যন্ত যাঁদের বছরে আয়, তাঁদের যাতে কোনও আয়কর দিতে না হয়, সেই ব্যবস্থা করেছিল কেন্দ্রীয় সরকার। নতুন আয়কর আইন আগামী ১ এপ্রিল থেকে কার্যকর হবে। ফলে রবিবারের বাজেটে আয়করে আর কোনও নাটকীয় ঘোষণা হওয়া মুশকিল। তবে শেয়ার বাজারে লগ্নিকারীদের জন্য সুরাহা থাকতে পারে।
আর্থিক সমীক্ষা জানিয়েছে, গৃহস্থের সঞ্চয়ের টাকা কোথায় যাচ্ছে, তার ছবি গত পাঁচ বছরে আমূল বদলে গিয়েছে। মিউচুয়াল ফান্ডে লগ্নির পরিমাণ সাত গুণ বেড়েছে। আগে মধ্যবিত্ত ব্যাঙ্কের ফিক্সড ডিপোজিটে টাকা জমা করে নিশ্চিন্তে থাকতেন। এখন ব্যাঙ্কের থেকে মানুষ মুখ ফিরিয়ে নিচ্ছেন। ২০১১-১২-তে গৃহস্থ পরিবারের সঞ্চয়ের ৫৮শতাংশ ব্যাঙ্কের ফিক্সড ডিপোজিটে যেত। ২০২৪-২৫-এ তা ৩৫ শতাংশে নেমে এসেছে। উল্টো দিকে, মিউচুয়াল ফান্ডে লগ্নি ২ শতাংশ থেকে বেড়ে ১৫ শতাংশ ছাপিয়ে গিয়েছে। গত পাঁচ বছরে গৃহস্থ পরিবারের শেয়ারে সম্পদের পরিমাণ ৫৩ লক্ষ কোটি টাকা বেড়েছে। প্রতি মাসে অল্প করে মিউচুয়াল ফান্ডে টাকা রাখার ‘সিস্টেমেটিক ইনভেস্টমেন্ট প্ল্যান’ বা এসআইপি-তে ৯ বছর আগেপ্রতি মাসে গড়ে ৪ হাজার কোটিটাকা লগ্নি হত। গত এপ্রিলথেকে নভেম্বরে প্রতি মাসেএসআইপি-তে গড়ে ২৮ হাজার টাকা লগ্নি হয়েছে। গত সেপ্টেম্বরে ব্যক্তিগত লগ্নিকারীদের শেয়ার বাজারে লগ্নির পরিমাণ ছিল ৮৪ লক্ষ কোটি টাকা। দশ বছর আগে যার পরিমাণ ছিল মাত্র ৮ লক্ষ কোটি টাকা।
বিশেষজ্ঞদের অভিযোগ, সাধারণ মানুষ শেয়ার বাজারে লগ্নি করতে এলেও, তাদের থেকে একই অর্থে দু’বার কর আদায় করা হচ্ছে।প্রথমে, শেয়ার কেনাবেচা বা লেনদেনের উপরে সিকিউরিটিজ় ট্রান্সজ়াকশন ট্যাক্স যা এসটিটি নামে পরিচিত। তার পরে, মূলধনী লাভে কর বা ক্যাপিটাল গেনস ট্যাক্স।দীর্ঘমেয়াদি ও স্বল্বমেয়াদি মূলধনী লাভে দু’রকম হারে এই কর আদায় করা হয়। ২০০৪ সালে এসটিটি চালুর পরে মনে করা হয়েছিল, মূলধনী লাভে কর তুলে দেওয়া হবে। দু’দশক কেটে গিয়েছে। মূলধনী লাভে কর জাঁকিয়ে বসেছে। দীর্ঘমেয়াদে মূলধনী লাভেকর ১০% থেকে বেড়ে ১২.৫%হয়েছে। আবার স্বল্পমেয়াদে মূলধনী লাভে কর ১৫% থেকে বেড়ে ২০% হয়েছে। গতবাজেটে এসটিটি দ্বিগুণ বাড়ানো হয়েছে। যা থেকে চলতি অর্থ বছরে প্রায় ৫৫হাজার কোটি টাকা কোষাগারে ঢুকবে বলে অর্থ মন্ত্রকের কর্তাদের অনুমান।
একই লগ্নিতে দু’বার করে কর আদায়ের ফলে শেয়ার বাজারের সঙ্গে সংযুক্ত লগ্নি প্রকল্পের আকর্ষণকমে যাচ্ছে, মত আর্থিকবিশেষজ্ঞদের। ইওয়াই ইন্ডিয়া-র কর বিশেষজ্ঞ সমীর গুপ্তের মতে, ‘‘ব্যক্তিগত লগ্নির ক্ষেত্রে এসটিটি নিয়ে ভাবনাচিন্তা করা উচিত। তা ইতিবাচক পদক্ষেপ হবে।’’ বিশেষজ্ঞদের মতে, শেয়ার বাজারে বিদেশি লগ্নিকারী সংস্থা বা এফপিআই-দের জন্যও ইতিবাচক বার্তা যাবে। কারণভারতের মতো গুটিকয়েক দেশেই এই কর দিতে হয়।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)