Advertisement
E-Paper

হু-র বিজ্ঞানীদের চিন্তার কারণ দুই ভাইরাস, ভবিষ্যতে ফের একবার অতিমারির আশঙ্কা আছে কি?

দুই ভাইরাস নিয়ে চিন্তা বাড়ছে বিজ্ঞানীদের। আবারও কি করোনার মতো আতঙ্ক তৈরি হতে পারে? কী বলছেন গবেষকেরা?

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ৩১ জানুয়ারি ২০২৬ ১১:৪২
Two pathogens with animal origins may become the next public health threats, scientists say

করোনার মতোই ভবিষ্যতে প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে কোন দুই ভাইরাস? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

করোনাভাইরাসেই শেষ নয়। আরও মারাত্মক বিপর্যয়কারী অতিমারির শঙ্কা বয়ে আনতে পারে দুই ভাইরাস। চিন্তা বাড়ছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)-র বিজ্ঞানীদের। ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর ডিজ়িজ় কন্ট্রোলের তরফেও আশঙ্কা করা হয়েছে, ভবিষ্যতে মানুষের জন্য ভয়াবহ হয়ে উঠতে পারে আরও দুই ভাইরাস। অনেক বেশি সংখ্যক মানুষের প্রাণ যেতে পারে সংক্রমণে। প্রাণঘাতী ওই দুই ভাইরাস হল ইনফ্লুয়েঞ্জা ডি ভাইরাস এবং ক্যানাইন করোনাভাইরাস।

আগামী দিনে কোন কোন রোগ অতিমারির কারণ হতে পারে, তার একটি তালিকা প্রস্তুত করেছে হু। এর মধ্যে রয়েছে ইবোলা, জ়িকার মতো রোগের নাম, যার সঙ্গে কমবেশি পরিচিতি রয়েছে। ইনফ্লুয়েঞ্জা ডি ও ক্যানাইন করোনাভাইরাসের উৎস হল বিভিন্ন পশু। মূলত পশুর শরীর থেকেই এই দুই ভাইরাস ছড়ায়। গবেষকেরা আশঙ্কা করছেন, আগামী দিনে পশুর শরীর থেকে এই ধরনের ভাইরাস মানুষের শরীরেও ছড়িয়ে পড়ে রোগ সৃষ্টি করতে পারে। বিজ্ঞানীমহল জানাচ্ছে, সময়ের সঙ্গে সঙ্গে প্যাথোজেনের আগ্রাসন যে ভাবে বেড়েছে, তাতে এটা স্পষ্ট, যে কোনও মহামারি যে কোনও সময়ে ছড়িয়ে পড়তে পারে। পরিসংখ্যানই বলছে, গত চার দশকে ১৮টি নতুন প্যাথোজেন চিহ্নিত করা হয়েছে। তাই আগে থেকেই প্রস্তুতি নিয়ে রাখা হচ্ছে।

ইনফ্লুয়েঞ্জা ডি ভাইরাসটিকে চিহ্নিত করা হয়েছিল ২০১১ সালেই। তবে মানুষের শরীরে সে সময়ে রোগ বিস্তার করেনি এই ভাইরাস। এর প্রধান উৎস হল গবাদি পশু। শূকর, ভেড়ার শরীরে এই ভাইরাস পাওয়া গিয়েছে। এটি ইনফ্লুয়েঞ্জা এ, বি বা সি ভাইরাসের মতো নয়। এর জিনের গঠন ভিন্ন। দেখা গিয়েছে, যে কোনও প্রতিকূল পরিবেশে টিকে থাকতে পারে এই ভাইরাস। এটি সরাসরি স্পর্শ বা বাতাসের জলীয় কণার মাধ্যমে ছড়াতে পারে। পশুর শরীর থেকে মানুষের শরীরে ছড়িয়ে পড়তে সক্ষম। তার কিছু উদাহরণও পাওয়া গিয়েছে। হার্ভার্ড মেডিক্যাল হেলথ ও ফ্লরিডা কলেজ অফ পাবলিক হেল্‌থের গবেষকেরা জানিয়েছেন, ইউরোপ ও আমেরিকার নানা দেশে পশুখামারে যাঁরা কাজ করেন, তাঁদের শরীরে এই ভাইরাসের অস্তিত্ব পাওয়া গিয়েছে। সেখান থেকেই চিন্তার শুরু। এই ভাইরাস শরীরে ঢুকে পড়তে পারে চুপিসারে। ধীরে ধীরে ফুসফুসের কোষ নষ্ট করতে শুরু করে। যত দিনে শ্বাসকষ্ট শুরু হবে, তত দিনে ভাইরাস ছড়িয়ে পড়বে সারা শরীরে। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কম হলে, এটি প্রাণঘাতী হয়ে উঠতে পারে।

সার্স-কভ-২ ভাইরাসের মতোই সংক্রামক ক্যানাইন করোনাভাইরাস। কুকুর ও বিড়ালের শরীরে এই ভাইরাস পাওয়া গিয়েছে। তা ছাড়া বন্য পশুর শরীরেও এই ভাইরাসের স্ট্রেন পাওয়া গিয়েছে। গবেষকেরা জানাচ্ছে, কোভিড-১৯ সৃষ্টিকারী ভাইরাস ছিল বিটা-করোনাভাইরাস, আর ক্যানাইন হল আলফা-করোনাভাইরাস। ক্যানাইন করোনা সাধারণত প্রাণীদের মধ্যে ডায়রিয়া বা পেটের সমস্যা তৈরি করে, কিন্তু এর নতুন রূপ মানুষের শরীরে ঢুকে সংক্রমণ ঘটানোর ক্ষমতা অর্জন করে ফেলেছে। এর বিবর্তিত রূপ ফুসফুস নষ্ট করে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হয়েছে। এই ভাইরাসের কারণে প্রাণঘাতী নিউমোনিয়াও দেখা দিতে পারে।

তবে এখনই আতঙ্কের কারণ নেই বলেই জানানো হয়েছে। কী ভাবে ওই দুই ভাইরাসকে জব্দ করা যায়, তার উপায় খুঁজছেন গবেষকেরা।

Viruses Influenza Coronavirus
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy