নজিরবিহীন লাফ সোনার। বৃহস্পতিবার কলকাতায় ১১,৭৫০ টাকা বেড়ে ১০ গ্রাম খুচরো পাকা সোনা ছুঁয়ে ফেলল ১,৭৮,৪৫০ টাকা। খুচরো রুপোর কেজি ১৮,৫০০ টাকা বেড়ে হয়েছে ৩,৮৫,৪০০। এমন নজিরবিহীন দাম নিয়ে চর্চার মধ্যেই এ দিন আর্থিক সমীক্ষায় দাবি, বিশ্ব অর্থনীতির চূড়ান্ত অস্থিরতা এবং শুল্ক যুদ্ধই লগ্নির সুরক্ষিত গন্তব্য হিসেবে চাহিদা বাড়াচ্ছে। তাই চড়ছে দাম। সমস্যা না মিটল কমার সম্ভাবনা কম।
বিশেষজ্ঞদের মতে, পণ্য লেনদেনের বাজারে লগ্নির জেরেই চড়ছিল সোনা-রুপো। এখন খুচরো লগ্নিকারীরাও কিনতে ঝাঁপাচ্ছেন। চিন-সহ নানা দেশের শীর্ষ ব্যাঙ্ক সোনা-রুপো কিনছে। বৈদ্যুতিক গাড়ি, বৈদ্যুতিন পণ্য-সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে রুপোর ব্যবহারও তার চাহিদা বাড়াচ্ছে। অথচ চিনের রুপো রফতানিতে কড়াকড়ি বিশ্ব বাজারে জোগান কমিয়েছে। যদিও ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিলের দাবি, দামের জেরে ২০২৫-এ দেশে সোনার চাহিদা ১১% কমে হয়েছে ৭১০.৯০ টন। এ বছর আরও কমে ৬০০-৭০০ টনে নামতে পারে। বুলিয়ন বাজারের বক্তব্য, বিশ্ব বাজারে দাম বৃদ্ধির প্রভাব আছেই। চড়া ডলারে আমদানি খরচ বৃদ্ধিও দেশে খুচরো দাম বাড়াচ্ছে।
সোনা-রুপো লেনদেনকারী জেজে গোল্ডের ডিরেক্টর হর্ষদ আজমেরার দাবি, সোনার এক্সচেঞ্জ ট্রেডেডে ফান্ডে (ইটিএফ) লগ্নি বিপুল বেড়েছে। ইটিএফ ছাড়াও মিউচুয়াল ফান্ডগুলি প্রতি দিন ২০০-২৫০ টন সোনা কিনছে। ইটিএফে লগ্নির টাকায় ফান্ড বাজার থেকে সোনা কেনে। এটাও দাম বৃদ্ধির কারণ। অঙ্কুরহাটি জেম অ্যান্ড পার্কের সভাপতি অশোক বেঙ্গানি বলেন, ‘‘বাজারে সোনার জোগান বাড়িয়ে দাম কমাতে কেন্দ্র বাজেটে ‘গোল্ড মনিটাইজ়েশনের’ মতো প্রকল্প আনুক।’’ আর স্বর্ণ শিল্প বাঁচাও কমিটির কার্যকরী সভাপতি সমর দের মতে, সোনার গয়না কিনতেও এ বার ঋণ চালু করুক কেন্দ্র।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)