এসআইআর-এর আইনি বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করে যাবতীয় মামলার শুনানির শেষে আজ সুপ্রিম কোর্ট তার রায় সংরক্ষিত রাখল। প্রধান বিচারপতি সূর্য কান্ত ও বিচারপতি জয়মাল্য বাগচীর বেঞ্চ এই মামলার রায় পরে ঘোষণা হবে বলে জানিয়েছে।
বিহারে এসআইআর বা ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন শুরুর পরেই তার আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এক গুচ্ছ মামলা হয়েছিল। সুপ্রিম কোর্ট অবশ্য বিহার বা তার পরে পশ্চিমবঙ্গ-সহ ১২টি রাজ্যে এসআইআর প্রক্রিয়ায় স্থগিতাদেশ দিতে চায়নি। তবে সংবিধানের ৩২৬তম অনুচ্ছেদ, জনপ্রতিনিধিত্ব আইন ও তার বিধিনিয়মের আওতায় চলতি প্রক্রিয়ায় এসআইআর করার ক্ষমতা নির্বাচন কমিশনের রয়েছে কি না, তা সুপ্রিম কোর্ট খতিয়ে দেখতে রাজি হয়। সুপ্রিম কোর্টও সম্প্রতি প্রশ্ন তুলেছে, নির্বাচন কমিশনের এসআইআর করার ক্ষমতা সমস্তবাঁধন ও বিচারবিভাগীয় বিবেচনার ঊর্ধ্বে কি না!
আজ শুনানির শেষ দিনে মামলাকারীদের আইনজীবী প্রশান্ত ভূষণ অভিযোগ তোলেন, এসআইআর-এর কাঠামোগত সমস্যা হল, ভোটার হিসেবে যোগ্যতা প্রমাণের দায় নাগরিকের উপরে চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। আইনজীবী বৃন্দা গ্রোভার বলেন, জনপ্রতিনিধিত্ব আইন অনুযায়ীই নির্বাচন কমিশনকে এসআইআর-এর ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে চলতে হবে। কোথাও নিয়মের বাইরে গিয়ে কাজ করার ছাড় নেই। আইনজীবী শাদান ফারাসত বলেন, যেখানে নাগরিকপঞ্জি নেই, সেখানে নির্বাচন কমিশন কী ভাবে কে নাগরিক, কে নয়, তা নির্ধারণ করতে পারে? আইনজীবী পি সি সেন বলেন, নির্বাচন কমিশন এসআইআর-এর পিছনে কোনও যুক্তি বা নথি পেশ করতে পারেনি।
এসআইআর চলাকালীন বিজেপি নির্বাচন কমিশনের ফর্ম-৭ অপব্যবহার করে যোগ্য ভোটারদের বাদ দিচ্ছে বলে আজ মুখ্য নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারকে চিঠি লিখে অভিযোগ জানিয়েছেন কংগ্রেসের সাংগঠনিক সম্পাদক কে সি বেণুগোপাল। ফর্ম-৭ ব্যবহার করে যে কেউ ভোটার তালিকায় কারও নাম থাকা নিয়ে আপত্তি জানাতে পারেন। পশ্চিমবঙ্গেও বিজেপির বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছিল, একই ব্যক্তি গুচ্ছ গুচ্ছ ফর্ম-৭ পূরণ করে অন্য ভোটারদের নাম কাটার চেষ্টা করছেন। বেণুগোপালের অভিযোগ, রাজস্থানে প্রথম অভিযোগ আসে। তার পরে গুজরাত, পশ্চিমবঙ্গ, মধ্যপ্রদেশ, অসম, ছত্তীসগঢ়, উত্তরপ্রদেশ, অসম, কেরল সর্বত্র এই অভিযোগ মিলছে। যার অর্থ, এর কোনওটাই বিচ্ছিন্ন স্থানীয় ঘটনা নয়। পরিকল্পিত ভাবে কেন্দ্রের শাসক দল রাজ্যে রাজ্যে বিরোধী ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেওয়ার চেষ্টা করছে।
এসআইআর-এর আইনি বৈধতাকে চ্যালেঞ্জ করা মামলাগুলির শুনানিতে ইতি পড়লেও বিভিন্ন রাজ্যে এসআইআর-এ মানুষের অসুবিধা, অবিচারের প্রশ্ন তুলে যে সব মামলা হয়েছিল, তার শুনানি চলবে। বৃহস্পতিবারই যেমন সুপ্রিম কোর্ট পশ্চিমবঙ্গের মতোই তামিলনাড়ুতে তথ্যগত অসঙ্গতি বা লজিক্যাল ডিসক্রেপেন্সির ভিত্তিতে যাঁদের নোটিস পাঠানো হচ্ছে, তার তালিকা প্রকাশের নির্দেশ দিয়েছে। ডিএমকে-র অভিযোগ ছিল, তামিলনাড়ুতে ১ কোটি ৭২ লক্ষ মানুষের নাম তথ্যগত অসঙ্গতির যুক্তিতে বাদ দেওয়ার চেষ্টা হচ্ছে। পশ্চিমবঙ্গের মতোই ওই নাম তালিকা প্রকাশের ১০ দিনের মধ্যে নথি জমা দেওয়ার সময় স্থির করে দিয়েছে সুপ্রিম কোর্ট।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)