Advertisement
E-Paper

কোলেস্টেরল পরীক্ষা করাতে হবে শৈশবেই! কোন বয়সে ছোটদের এই পরীক্ষা করানো জরুরি, এল নয়া নির্দেশিকা

বয়স কুড়ি পেরোলে কোলেস্টেরল পরীক্ষা করিয়ে নেওয়ার কথা বলা হত এত দিন। তবে এখন আরও ছোট বয়সেই রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা পরীক্ষা করানোর পরামর্শ দিলেন চিকিৎসকেরা। এল নতুন নির্দেশিকা।

আনন্দবাজার ডট কম ডেস্ক

শেষ আপডেট: ১৮ মার্চ ২০২৬ ১৩:১৪
According to New guideline Cholesterol screening is recommended for all children between the ages of 9-11

কোন বয়সে ছোটদের কোলেস্টেরল পরীক্ষা করাবেন? গ্রাফিক: আনন্দবাজার ডট কম।

রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বেড়েছে শুনলেই বেশির ভাগ মানুষের কপালে চিন্তার ভাঁজ পড়ে যায়! কোলেস্টেরল বাড়লেই হৃদ্‌রোগেরও ঝুঁকিও বেড়ে যায়। অনিয়ন্ত্রিত জীবনযাপন এবং অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস রক্তে ‘খারাপ’ কোলেস্টেরলের মাত্রা ক্রমাগত বাড়িয়ে দেয়। দীর্ঘ দিন ধরে রক্তে ভাসতে থাকা ওই চটচটে পদার্থগুলিই এক সময়ে ধমনীর গায়ে আটকে যায়। শরীরে রক্ত চলাচল করতে বাধা পায়, শুরু হয় নানা সমস্যা। বয়স ২০ বা ৩০ বছর পেরোলে কোলেস্টেরল পরীক্ষা করিয়ে নেওয়ার কথা বলা হয়। কিন্তু এখন সে ধারণা বদলেছে। নতুন নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, কোলেস্টেরল পরীক্ষা করাতে হবে ছোট থেকেই। আদর্শ বয়স ৯ থেকে ১১ বছর।

আমেরিকান কলেজ অফ কার্ডিয়োলজি ও আমেরিকান হার্ট অ্যাসোসিয়েশনের তরফে এই নতুন নির্দেশিকা দেওয়া হয়েছে। এতে সম্মতি জানিয়েছে সেন্টার ফর ডিজ়িজ় কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনও (সিডিসি)। নির্দেশিকায় বলা হয়েছে, অস্বাস্থ্যকর খাওয়াদাওয়া, কার্বোনেটেড পানীয়, অত্যধিক জাঙ্ক ফুড খাওয়ার প্রবণতার জন্য এখন ছোটদেরও রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা বাড়ছে। তা ছাড়া বংশগত কারণে পরিবারে কারও উচ্চ কোলেস্টেরল বা হার্টের রোগ থাকলে, তা থেকেও বিপদ ঘনাতে পারে যখন তখন। রক্তে কোলেস্টেরল ও ট্রাইগ্লিসারাইডের মাত্রা বেড়ে গেলে ছোটদের ডিসলিপিডেমিয়া রোগ হয়। এর থেকে পরবর্তীতে হৃদ্‌রোগের ঝুঁকিও বাড়ে। তাই বয়স ৯ পেরিয়ে গেলে আর দেরি করা ঠিক হবে না। অতি দ্রুত তাদের কোলেস্টেরল পরীক্ষা করিয়ে নিতে হবে।

রক্তে কোলেস্টেরলের স্বাভাবিক মাত্রা প্রতি ডেসিলিটারে ১৫০ থেকে ১৭০ মিলিগ্রাম হওয়াই বাঞ্ছনীয়। তা ২০০ মিলিগ্রাম ছাড়িয়ে গেলেই বিপদ। খারাপ কোলেস্টেরল (এলডিএল) থাকতে হবে ১১০ মিলিগ্রামের কম। ট্রাইগ্লিসারাইড ৯০ মিলিগ্রামের কম। এর চেয়ে বেশি হলে ধমনীর দেওয়ালে পুরু চর্বির স্তর জমতে শুরু করবে। আর এই প্রক্রিয়া শুরু হতে পারে ৯ থেকে ১১ বছরেই। গবেষণায় দেখা গিয়েছে, খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা নিয়ন্ত্রণ করতে পারলে, অন্তত ৮০ শতাংশ ক্ষেত্রে হৃদ্‌রোগ ঠেকানো সম্ভব হবে। আচমকা হার্ট অ্যাটাকে মৃত্যুও রোখা যাবে।

রক্তে কোলেস্টেরলের মাত্রা কত, তা মাপতে লিপিড প্রোফাইল ও লিপিড প্যানেল টেস্ট করা যেতে পারে। এতে যদি খারাপ কোলেস্টেরলের মাত্রা বেশি আসে, তা হলে ক্যারোটিড আলট্রাসাউন্ড করিয়ে নেওয়া যেতে পারে। এই পরীক্ষাটিতে ধরা পড়ে, ধমনীর দেওয়াল কতটা পুরু হয়েছে। চর্বি জমে ব্লকেজ হয়েছে কি না, তা-ও ধরা পড়ে এই পরীক্ষায়। সময় থাকতে পরীক্ষাটি করিয়ে নিলে হার্ট অ্যাটাক ও স্ট্রোকের ঝুঁকি কমানো সম্ভব বলেই মত গবেষকদের।

Bad Cholesterol High Cholesterol
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy