নোটবন্দি ও তড়িঘড়ি জিএসটি চালুর জোড়া ধাক্কায় এখনও ক্ষুব্ধ ছোট শিল্প। ভোট-বছরে যে তা আদৌ সুখবর নয়, তা বিলক্ষণ জানে কেন্দ্র। সেই কারণেই তা সামাল দিতে ঋণের রাস্তা প্রশস্ত করতে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের উপরে নাগাড়ে চাপ দিচ্ছে তারা। দ্রুত এবং সহজে ধার দেওয়ার রাস্তা খুলতে ঢাক-ঢোল পিটিয়ে বলা হয়েছে ৫৯ মিনিটের মধ্যে তা দেওয়ার কথা। শনিবার কলকাতায় বণিকসভা বিএনসিসিআইয়ের এক সভায় শিল্প মহলের মুখোমুখি হয়ে সেই প্রকল্পের সুবিধা তুলে ধরলেন সংশ্লিষ্ট মন্ত্রকের যুগ্ম সচিব সুধীর গর্গও। কিন্তু তার পরেও প্রকল্পটির সাফল্য নিয়ে শিল্প মহলের একাংশের প্রশ্নের মুখে পড়তে হল তকে। 

শিল্প মহলের একাংশের অভিযোগ, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী পূর্ব ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলকে বাড়তি গুরুত্ব দেওয়ার কথা বলেন ঠিকই। কিন্তু নোট বাতিল ও জিএসটিতে সমস্যায় পড়েছে সেখানকার ছোট শিল্প। গর্গের আশ্বাস, ‘‘প্রথমে কিছু সমস্যা হলেও জিএসটির অনেক ইতিবাচক দিক রয়েছে। আশা করি এ বছর ভাল কাটবে।’’

এর পরেই ৫৯ মিনিটের ঋণ প্রকল্প প্রসঙ্গে শিল্প মহলের প্রতিক্রিয়া  চান ওই আমলা। তখনই বণিকসভাটির প্রাক্তন প্রেসিডেন্ট সমীর ঘোষের বক্তব্য, এতে গোড়ার নীতিগত অনুমোদনটুকু মিলছে মাত্র। ঋণ পাওয়ার প্রক্রিয়া সেই দীর্ঘই। 

বণিকসভার সদস্য সৈকত বিশ্বাসের দাবি, গুগ্‌লে খুঁজলে অনেক সময় প্রকল্পের মূল ওয়েবসাইটটি দেখা যাচ্ছে না। ফলে তৈরি হচ্ছে বিভ্রান্তি। গর্গের অবশ্য দাবি, অন্তত নীতিগত ছাড়পত্র পেলে, ব্যাঙ্কের কাছে ঋণ পাওয়ায় সংশ্লিষ্ট সংস্থার যোগ্যতা বাড়বে। ঋণ দিতে ব্যাঙ্কও বাড়তি ভরসা পাবে। 

কিন্তু শিল্প মহলের অভিযোগ, ঋণ পাওয়ায় ছোট শিল্প কখনও অগ্রাধিকার পায় না। সমস্যা থাকে বন্ধকেরও। তাই না আঁচানো পর্যন্ত  সরকারি আশ্বাসে পুরোপুরি ভরসা রাখছেন না শিল্প মহলের অনেকেই।