বাংলাদেশ থেকে চটের জিনিস উৎপাদনের কাঁচামাল (স্লাইভার)-সহ আরও কিছু আধা তৈরি পাটের সামগ্রীর আমদানি চরম সমস্যায় ফেলেছে ভারতের চট শিল্পকে। চটকলগুলির অভিযোগ, ওই সব পণ্য তারা তৈরি করে। কিন্তু পড়শি দেশ থেকে জোয়ারের মতো রফতানিতে দেশে উৎপাদন কমছে। ১৪টির মতো চটকলে তালা ঝুলেছে। বাকিগুলি রাতের শিফ্ট বন্ধ করেছে। সব মিলিয়ে চট শিল্পের প্রায় ৮০ হাজার কর্মী কাজ হারিয়েছেন। কর্মী সংগঠনগুলির দাবি, বিষয়টি নিয়ে কেন্দ্রের কাছে অভিযোগ জানানো হবে। অবিলম্বে বন্ধ করতে হবে বাংলাদেশ থেকে পাটের পণ্য আমদানি।
চটকল মালিকদের দাবি, বাংলাদেশ ভারতে পাট রফতানি বন্ধ করেছে। তাতে পাটের অভাব এবং চড়া দাম তাঁদের বিপদে ফেলেছে। অথচ এ দেশে স্লাইভার-সহ পাটের জিনিস বিক্রি করে লাভ করছে ঢাকা। ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে দেশীয় চট শিল্প। সূত্রের খবর, সম্প্রতি ভারতে ১০ হাজার টন স্লাইভার, চটের চাদর, বস্তা এবং পাটের সুতো পাঠিয়েছে বাংলাদেশ। ‘ন্যাশনাল ইউনিয়ন অব জুট ওয়ার্কার্স’-এর সেক্রেটারি জেনারেল নিজাম মাস্টার জানান, “পাটের চড়া দামে এমনিতেই চটকলে উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। তার উপর এই সমস্যা পরিস্থিতি আরও জটিল করছে।’’
বিএমএস অনুমোদিত ভারতীয় জুট মজদুর সঙ্ঘের সভাপতি বিনোদ সিংহ বলেন, ‘‘সর্বাধিক ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে বাংলার চটকলগুলি। বাংলাদেশ থেকে আমদানি বন্ধ করতে হস্তক্ষেপ করার জন্য চট শিল্পের ট্রেড ইউনিয়নগুলি রাজ্যের মু্খ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে দেখা করবে। জুট কমিশনারের কাছেও স্মারকলিপি জমা দেবে। আমরা চাই, বাংলাদেশ থেকে পাটজাত পণ্যের বদলে কাঁচা পাট আনার ব্যবস্থা করুক কেন্দ্র।” তিনি জানান, পরিস্থিতি না বদলালে রাস্তায় নেমে আন্দোলন হবে। বহু মানুষের রুটি-রুজি জড়িয়ে। বিনোদের প্রশ্ন, যে দেশ ভারতকে পাট দিচ্ছে না, তাদের ভারত ভাল মানের পাটের বীজ রফতানি করছে কেন? এ দেশের সাহায্যে উন্নত মানের পাট উৎপাদন বাড়িয়ে, তাই দিয়ে তৈরি পণ্যে এ দেশের বাজারই দখল করে নিচ্ছে তারা।
অভিযোগ
বাংলাদেশ ভারতে কাঁচা পাট রফতানি বন্ধ করেছে।
অথচ জোয়ারের মতো পাটজাত পণ্য পাঠাচ্ছে।
ফলে দেশের চটকলগুলির উৎপাদন কমছে, বহু চটকল বন্ধ করতে হচ্ছে।
কাজ হারিয়েছেন ৮০ হাজার কর্মী।
দাবি
পড়শি দেশ থেকে কাঁচা পাট আমদানি চালুর ব্যবস্থা করুক কেন্দ্র।
তা না হলে পাটের পণ্য আমদানি বন্ধ করুক তারা।
বন্ধ করা হোক ভারত থেকে সে দেশে উন্নত মানের পাটের বীজ রফতানিও।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)