ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে চিনের একাধিপত্যের মোকাবিলায় ভারত, আমেরিকা, জাপান এবং অস্ট্রেলিয়ার চতুর্দেশীয় অক্ষ বা কোয়াডভুক্ত রাষ্ট্রের বিদেশমন্ত্রীরা বৈঠক করলেন। আলোচনায় ওই অঞ্চলে সহযোগিতা বৃদ্ধির মোড়কেই উঠে এল অবরুদ্ধ হরমুজ় প্রণালী নিয়ে আশঙ্কার কথা। পরে আমেরিকার বিদেশসচিব মার্কো রুবিয়ো বলেছেন, ‘‘যত দ্রুত সম্ভব হরমুজ় খুলতেই হবে।’’ অস্ট্রেলিয়ার বিদেশমন্ত্রী পেনি ওং জোর দেন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে গুরুত্বপূর্ণ ওই জলপথে জাহাজ চলাচলের স্বাধীনতার উপর। অগ্নিগর্ভ পশ্চিম এশিয়া এবং অনিশ্চিত বিশ্ব বাণিজ্যের আবহে হায়দরাবাদ হাউসের এই বৈঠকে নজর ছিল কূটনৈতিক শিবিরের। মঙ্গলবার সেখানে বিদেশমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর জোর দিয়েছেন জ্বালানি-উদ্বেগে। পরে বলেন, “বিশ্ব বাজারে আর্থিক স্থিতিশীলতা আনতে মজবুত জোগান শৃঙ্খল দরকার।” সার এবং বিরল খনিজ নিয়েও কথা বলেন তিনি।
আলোচনার মূল লক্ষ্য ছিল সমুদ্রপথে চিনের প্রভাব আটকানো। স্থির হয়েছে দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র ফিজ়িতে (যারা কোয়াড সদস্য নয়) যৌথ ভাবে বন্দর বানাবে কোয়াড দেশগুলি। সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, বিষয়টি চাপে ফেলেছে চিনকে। এই ঘোষণা হতেই প্রতিবাদে নেমে বেজিং জানিয়েছে, তারা ‘একচেটিয়া শিবির’ গঠনের বিরোধী। রুবিয়োর কথায়, “সমুদ্রের নিরাপত্তা খুব গুরুত্বপূর্ণ। বিশ্বব্যাপী সমুদ্রপথে হওয়া বাণিজ্যের ৬০% হয় ভারত-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চল দিয়ে।” তাঁর দাবি, এই দ্বীপটিতে বন্দরের ঘাটতি মেটানো উদ্দেশ্য। ফিজ়ির বন্দর পরিকাঠামো উন্নত করা হবে। এই প্রথম কোয়াড দেশগুলি একসঙ্গে তৃতীয় কোনও দেশে বন্দর প্রকল্পে কাজ করবে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)