মাত্র দুই মাস চলে সেপ্টেম্বর থেকে গুয়াহাটি-ঢাকা সরাসরি উড়ান বন্ধ হয়ে গিয়েছে। পাঁচ বছর আগে পরীক্ষামূলক বাস চলা শুরু হলেও এখন পর্যন্ত গুয়াহাটি-ঢাকা বাস চলা শুরু হয়নি। এই নেতিবাচক প্রেক্ষাপটেই আজ থেকে গুয়াহাটিতে শুরু হল ভারত-বাংলা বাণিজ্য বৈঠক। জলপথ বাণিজ্য ও চট্টগ্রাম-মংলা বন্দর ব্যবহার সংক্রান্ত চুক্তি দ্রুত রূপায়ণ করা, প্রাক স্বাধীনতা রেল ও সড়ক যোগাযোগ ফের শুরু করা, ত্রিপুরা সীমান্ত ব্যবহার করে বাংলাদেশের বাণিজ্য বৃদ্ধি, উড়ান ফের চালু করার উপরে জোর দিলেন দুই দেশের বক্তারা।

বাংলাদেশের সড়ক পরিবহণ দফতরের সহকারী সচিব এহসান ই ইলাহি বলেন, “দুর্ভাগ্যজনকভাবে পাঁচ বছর হয়ে গেলেও আজ পর্যন্ত ঢাকা-গুয়াহাটি বাস চলল না। আমরা যাত্রী জোগাড় করে সপ্তাহে একবার শিলং পর্যন্ত বাস চালাচ্ছি। অন্তত দুই প্রধানমন্ত্রী মান রক্ষার জন্য একটি ছোট বাস গুয়াহাটি থেকে ঢাকা পর্যন্ত চালান হোক।” বরাকের প্রতিনিধিরা জানান নিয়মিত ঢাকা-সিলেট-শিলচর বাস পরিষেবা শুরু হোক। সেদিকে সড়কও ভাল। যাত্রীরও অভাব নেই। 

সহকারী হাই কমিশনার শাহ মহম্মদ তনভির মনসুরের আক্ষেপ, ২২ সেপ্টেম্বর থেকে গুয়াহাটি-ঢাকা বিমান বন্ধ। অথচ বিমানের ৬৫ শতাংশ আসন ভরা থাকত। বিষয়টিকে বাণিজ্যিক নয় দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের দিক থেকে থেকে অবিলম্বে উড়ান চালু করা দরকার। না হলে বাণিজ্য ও পর্যটনের বিকাশ থমকে যাবে। তিনি অভিযোগ করেন, গুয়াহাটির অনেক হোটেল বাংলাদেশী পাসপোর্ট থাকলে জায়গা দেয় না। রাজ্য সরকারের তরফে পরিবহণ কমিশনার বীরেন্দ্র মিত্তল জানান, বিষয়গুলি নিয়ে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়া হবে। উড়ান শুরু করা নিয়ে মুখ্যমন্ত্রী ও মুখ্যসচিব ইতিমধ্যে কেন্দ্রীয় অসামরিক বিমান পরিবহনমন্ত্রকের সঙ্গে আলোচনা চালাচ্ছেন। দ্রুত সমাধানসূত্র বেরোবে।

আরও পড়ুন: ব্যাঙ্কের পর টেলিকম, বিএসএনএল-এমটিএনএল-এর সংযুক্তিকরণে নীতিগত সায় কেন্দ্রীয় মন্ত্রিসভার

অসমের শিল্প-বাণিজ্যমন্ত্রী চন্দ্রমোহন পাটোয়ারি করিমগঞ্জ, মহিষাসন, সিলেট রেল যোগাযোগ চালু করার আবেদন রাখেন। এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাঙ্কের কান্ট্রি ডিরেক্টর কেনিজি য়োকোয়ামা জানান, ভারত ও বাংলাদেশ বাণিজ্যের মোট বাণিজ্যের মাত্র ১.২ শতাংশ উত্তর-পূর্ব থেকে আসে। তিনি দ্রুত বন্দর চুক্তি রূপায়ণ ও বাংলাদেশের সঙ্গে নিয়মিত পণ্যবাহী ট্রেন চালানোয় জোর দেন।

ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার রিভা গঙ্গোপাধ্যায় বলেন, বিশ্বের খুব কম দুই দেশই এত গভীর ও বহুমুখী সম্পর্কে জড়িত। জলপথ ও বন্দর চুক্তি এবং মোটর ভেহিক্যালস চুক্তি সেই সম্পর্ক আরও দৃঢ় করবে। 

আরও পড়ুন: পাঁচ বছরে পাঁচ কোটি চাকরি, নয়া লক্ষ্য কেন্দ্রের

কেন্দ্রীয় বস্ত্র কমিশনার রবি কপুর দুই দিকের সীমান্ত সড়ক ৬-৮ লেনের করার উপরে জোর দেন। তিনি বাংলাদেশ সরকারের কাছে কক্সবাজারকে ত্রিপুরা হয়ে উত্তর-পূর্ব ভারতের জন্য আইটি গেটওয়ে হিসেবে গড়ে তোলায় অনুমতি দেওয়ার অনুরোধ রাখেন।

মিজো বাণিজ্যমন্ত্রী আর লালথাংলিয়ানা অভিযোগ করেন, বাংলাদেশের সীমান্ত ব্যবহার করে অস্ত্র-মাদক পাচার, চোরা কারবার চলছে। কিন্তু সীমান্ত হাট গড়ে বাণিজ্য পরিকাঠামো গড়তে দুই দেশের সরকার আগ্রহ দেখাচ্ছে না।

ত্রিপুরার মুখ্যমন্ত্রী বিপ্লব দেব বলেন, বন্দর চুক্তিতে লাভবান বাংলাদেশ হবে। কারণ কলকাতা ও হলদিয়া বন্দরের ব্যবসা চলে আসবে চট্টগ্রামে। তিনি গন্তব্য থেকে গন্তব্য পর্যন্ত একই বাস চলায় অনুমতি দিতে দুই দেশের সরকারের কাছে অনুরোধ রাখেন। তিনি ত্রিপুরা সীমান্তের বাণিজ্যে বিধিনিষেধ শিথিল করে বাণিজ্য বাড়ানোর অনুরোধ রাখেন। 

শেখ হাসিনার অর্থ উপদেষ্টা মাসিউর রহমান বাংলাদশের মাটিতে জঙ্গি ঘাঁটি উৎখাত করার সাহসী সিদ্ধান্তের জন্য প্রধানমন্ত্রীর প্রশংসা করেন। জানান, ইমিগ্রেশনের সময় কমলে ও বাংলাদেশ লোকোমোটিভ বাড়ালে কলকাতা-খুলনা ট্রেনের সংখ্যা বাড়তে পারে। বাংলাদেশের টেস্টিং ল্যাবের শংসাপত্রকে নির্দিষ্ট মানদণ্ডের ভিত্তিতে ভারত মান্যতা দিলে সুবিধা হয়। 

বাংলাদেশের শিল্প-বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মুন্সি ভারত সরকারকে পিঁয়াজ রফতানির উপরে নিষেধাজ্ঞা তোলার অনুরোধ জানিয়ে বলেন, নিষেধাজ্ঞার ফল বাংলাদেশের মানুষ ভুগছেন। আমাদের মিশর ও তুরস্ক থেকে পিঁয়াজ আনতে হচ্ছে।

এছাড়া বক্তব্য রাখেন মুখ্যমন্ত্রী সর্বানন্দ সোনোয়াল, কেন্দ্রীয় সড়ক পরিবহনমন্ত্রী ভি কে সিংহ, কেন্দ্রীয় বাণিজ্য সচিব অনুপ ওয়াধওয়ান, দিল্লিতে নিযুক্ত ভারতের ডেপুটি কমিশনার মহম্মদ এইচইএটিএম রোকেবুল হক।