বিভিন্ন দেশের উপর জরুরি আইনের (আইইইপিএ) আওতায় ডোনাল্ড ট্রাম্পের চাপানো চড়া শুল্ককে সম্প্রতি বেআইনি ঘোষণা করে খারিজ করেছে আমেরিকার সুপ্রিম কোর্ট। ফলে ভারত-আমেরিকার বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আলোচনাও থমকে গিয়েছে। কেন্দ্রের আশা, শীঘ্রই তা আবার শুরু হবে। তবে সরকারি সূত্র বলছে, পুরো পরিস্থিতিটা বদলে গিয়েছে। তাই বাণিজ্য চুক্তির ধাঁচাটিও বদলাবে। এমনকি চুক্তি যুক্তিসম্মত কি না, তা-ও যাচাই করে দেখবে ভারত। তবে শেষ পর্যন্ত সব কিছু নির্ভর করছে ভারতীয় পণ্যে শুল্ক চাপানোর জন্য ট্রাম্প তাঁর হাতে থাকা আইনি অস্ত্রগুলির কোনটি প্রয়োগ করতে চান, তার উপর।
পূর্ব সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ মাসের মধ্যে চুক্তিটি চূড়ান্ত হওয়ার কথা ছিল। এ বার নয়াদিল্লির আশা, ৩-৪ মাসের মধ্যে তা হবে। তার মধ্যে দু’দেশই পরিবর্তিত পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবে। ট্রাম্প কোন আইনে কতটা শুল্ক চাপাচ্ছেন, তাতে কড়া নজর রাখছে কেন্দ্র। এক সরকারি আধিকারিকের বক্তব্য, ‘‘আমেরিকা শুল্ক বসাতে যে পথ নেবে, সেই অনুযায়ী চুক্তি করাটা কতটা অর্থপূর্ণ খতিয়ে দেখব আমরা। বিষয়টি বুঝে নিতে তিন-চার মাস লাগবে।’’ উল্লেখ্য, আইইইপিএ ছাড়াও ট্রাম্পের হাতে বেশ কিছু আইন রয়েছে, যার অধীনে তিনি শুল্ক চাপাতে পারেন। এমনকি তা চড়াও হতে পারে।
চুক্তির খসড়া নিয়ে দু’দেশের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছিল, ভবিষ্যতে শুল্কের হার বদল হলে দু’পক্ষই চুক্তির শর্ত পুনর্বিবেচনা করতে পারবে। সরকারি সূত্র বলছে, ট্রাম্প-শুল্ক খারিজ হওয়ার পরে সেই ধারাটি প্রয়োগের সময় এসেছে। চুক্তির শর্তগুলিতে দু’দেশের স্বার্থ রক্ষার বিষয়ে যাতে ভারসাম্য থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে। সূত্রটির দাবি, ‘‘যে কোনও বাণিজ্য চুক্তিতেই কোন কোন বিষয়ে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে জোর দেওয়া হবে, তা দেখা হয়। ট্রাম্প-শুল্ক খারিজ হওয়ায় সুযোগ এসেছে পুরো চুক্তিটি ঢেলে সাজানোর।’’ তবে তাঁর এটাও বার্তা, ভারত চায় না আমেরিকার সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ক তিক্ত করতে। কারণ, ৩০ লক্ষ কোটি ডলারের ওই বাজার গুরুত্বপূর্ণ। তবু এগোনোর আগে ট্রাম্প বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে কী মনোভাব নিচ্ছেন, তাতে চোখ রাখছে নয়াদিল্লি।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)