লোকসভা নির্বাচন এবং তার ফলাফল সংক্রান্ত অনিশ্চয়তা ঘিরে এখন কিছুটা দোলাচলে রয়েছে শেয়ার বাজার। রবিবার ঘোষণা হল নির্বাচনের সময়সূচি। ফলে লগ্নিকারীদের কাছে এখন একটা বিষয় পরিষ্কার যে, আগামী আড়াই মাসের মধ্যে পরবর্তী সরকারের ছবিটা তাঁদের কাছে স্পষ্ট হয়ে যাবে। 

এই পরিস্থিতিতে লগ্নিকারীরা আপাতত সাবধানেই পা ফেলবেন। তেমন বড় ঝুঁকির প্রত্যাশা এখনই তাঁদের কাছ থেকে করা উচিত হবে না। শুধু নির্বাচন নয়, এর পিছনে রয়েছে আরও একাধিক কারণ। প্রথমত, তৃতীয় ত্রৈমাসিকে বৃদ্ধির হার হয়েছে প্রত্যাশার তুলনায় কিছুটা কম। বোঝাই যাচ্ছে, চলতি আর্থিক বছরে বৃদ্ধি কিছুটা কমবে। দ্বিতীয়ত, সাম্প্রতিক বিভিন্ন সমীক্ষায় ইঙ্গিত রয়েছে কর্মসংস্থান কমার। কর্মসংস্থানের সমস্যা নিয়ে উদ্বেগ শোনা গিয়েছে শিল্পের গলাতেও। তৃতীয়ত, ভাল রকম অনিশ্চয়তা রয়েছে বিশ্ব বাজারেও। চিন-মার্কিন বাণিজ্য সম্পর্ক এবং ব্রেক্সিট নিয়ে দুশ্চিন্তায় আছে অনেক দেশ। ফলে শক্তি তেমন ভাবে ফিরে পাচ্ছে না বিশ্ব বাজারও। এই সমস্ত বিষয় কিছুটা হলেও লগ্নিকারীদের সাবধানী করেছে। 

সেনসেক্স ও নিফ্‌টি আপাতদৃষ্টিতে ভাল জায়গায় থাকলেও ভিতরে ভিতরে তাদের দুর্বলতাও কিন্তু বেশ প্রকট। সেনসেক্স ৩৬,০০০ এবং নিফ্‌টি ১১,০০০-এর আশেপাশে ঘোরাঘুরি করলেও তা হয়েছে মূলত বড় মাপের কিছু শেয়ার ভাল প্রদর্শন করায়। নীচের দিকের ছবিটা কিন্তু তেমন আশাপ্রদ নয়। দীর্ঘ দিন ধরেই মাঝারি ও ছোট স্টকের অবস্থা ভাল যাচ্ছে না। বাজারের সামগ্রিক উত্থানের জন্য লার্জ ক্যাপের পাশাপাশি মিড ক্যাপ এবং স্মল ক্যাপ শেয়ারের উত্থানও বেশ জরুরি। গত সপ্তাহে কিছু মিডক্যাপ শেয়ারকে মাথাচাড়া দিতে দেখা গেলেও, এই প্রবণতা দীর্ঘমেয়াদি না হলে তা হতাশ করবে লগ্নিকারীদের। তার উপরে গত দেড়-দু’বছরে শেয়ার এবং মিউচুয়াল ফান্ডে বহু লগ্নিকারীই তেমন লাভের মুখ দেখেননি। অক্টোবর থেকে ক্রমশ কমছে ইকুইটি ফান্ডের লগ্নি। অক্টোবরের ১২,৬২২ কোটি টাকার জায়গায় ফেব্রুয়ারিতে ইকুইটি ফান্ডে নিট লগ্নির অঙ্ক এসে দাঁড়িয়েছে ৫,১২২ কোটি টাকায়, যা ২৫ মাসের মধ্যে সবচেয়ে কম। ইকুইটি ফান্ডে লগ্নি কমে আসার প্রভাব কিন্তু পড়তে পারে শেয়ার বাজারেও। 

ফেব্রুয়ারিতে যাত্রীগাড়ির বিক্রি কমেছে ১.১%। রফতানি কমেছে ১৭.২৫%। এর ফলে গোটা বছরে গাড়ি বিক্রি বৃদ্ধির হার ৬ শতাংশের লক্ষ্যমাত্রা না-ও ছুঁতে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। এই পরিস্থিতি কিন্তু শিল্প ও শেয়ার বাজারের পক্ষে যথেষ্ট অস্বস্তির। এই সমস্ত বিষয়ের পাশাপাশি অদূর ভবিষ্যতে লগ্নিকারীদের নজর থাকবে সংস্থাগুলির বার্ষিক ফল ও এপ্রিল-জুনে ডাকঘর স্বল্প সঞ্চয় প্রকল্পের সুদ এবং এপ্রিলে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের ঋণনীতির দিকে। 

(মতামত ব্যক্তিগত)