বিরল খনিজ (ক্রিটিকাল মিনারেলস) নিয়ে চিনের সঙ্গে লড়াইয়ে এ বার ভারতকে পাশে পেতে সক্রিয় হল আমেরিকা-সহ পশ্চিমি দুনিয়া। জি-৭ গোষ্ঠীভুক্ত দেশগুলি এ সংক্রান্ত আলোচনার জন্য ভারতকে একটি বিশেষ ‘ফিনান্স মিনিস্টার্স মিটিং’-এ আমন্ত্রণ জানিয়েছে। ভারত ছাড়াও আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে অস্ট্রেলিয়াকে। মার্কিন অর্থসচিব স্কট বেসেন্ট আমন্ত্রণের কথা জানিয়ে বলেছেন, ‘‘ভারত এবং অস্ট্রেলিয়া আমাদের গুরুত্বপূর্ণ সহযোগী।’’
আগামী সোমবার ওয়াশিংটনে জি-৭ দেশগুলির অর্থমন্ত্রীদের বৈঠক হবে। এ বারের মূল্য আলোচ্যসূচি, চিনের উপর নির্ভরতা কমিয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিরল খনিজগুলির সরবরাহ-শৃঙ্খল সুরক্ষিত করা এবং বিকল্প উৎসের সন্ধান। আলোচনার বিশেষ গুরুত্ব পাবে বিরল মৃত্তিকা (রেয়ার আর্থ) ও লিথিয়ামের মতো খনিজগুলি। কারণ, সামরিক সরঞ্জাম, সেমিকন্ডাক্টর এবং পুনর্ব্যবহারযোগ্য শক্তি-প্রযুক্তির জন্য এগুলি অপরিহার্য।
আরও পড়ুন:
গত ৯ অক্টোবর চিন সরকার বিরল খনিজ রফতানিতে কিছু বিধিনিষেধ জারি করার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। বিভিন্ন দেশে বিরল খনিজ সরবরাহের উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়েছে। বেজিং বিভিন্ন দেশে একটি নির্দেশিকা পাঠিয়ে জানিয়েছে, তারা বিরল খনিজ রফতানি নিয়ন্ত্রণ নীতি কার্যকর করতে চলেছে। শি জিনপিং সরকারের অভিযোগ, তাদের পণ্য বিভিন্ন দেশ সামরিক খাতে কাজে লাগাচ্ছে। বিশ্ব শান্তির কথা ভেবে তাই তারা বিরল খনিজের রফতানিতে কিছু বিধিনিষেধ আরোপের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। চিনের এই নীতির বিরোধিতা করে বেসেন্ট সে সময় বলেছিলেন, ‘‘এই লড়াই চিন বনাম বাকি বিশ্বের। আমরা চিনের বিরুদ্ধে কঠোর প্রতিরোধ গড়ে তুলেছি। আমেরিকা কখনওই বেজিংকে বিরল খনিজের উপর তার আধিপত্যকে অস্ত্র হিসাবে ব্যবহার করতে দেবে না।’’ এর পরেই তিনি বলেন, ‘‘আশা করি, ভারত, ইউরোপ এবং এশিয়ার অন্য গণতান্ত্রিক দেশগুলি থেকে সমর্থন আমরা পাব।’’