দেশের বিভিন্ন বিমানবন্দরে জেট এয়ারের বিমান ছাড়ার সময় (স্লট) অন্য সংস্থাকে বণ্টন বন্ধ করা হোক বলে সোমবার দাবি জানিয়েছিলেন সংস্থার কর্মীদের একাংশ। হুমকি দিয়েছিলেন তা না হলে আইনি পথে হাঁটার। মঙ্গলবার সেই অভিযোগেরই জবাব দিল কেন্দ্র। জানাল, জেট যে স্লট কিনে রেখেছিল, তা অন্য সংস্থার হাতে পাকাপাকি ভাবে তুলে দেওয়া হচ্ছে না। ১৭ এপ্রিল জেটের পরিষেবা বন্ধ হওয়ার পরে সেগুলি খালি পড়ে রয়েছে। তা কাজে লাগাতেই চাহিদা মতো অন্য সংস্থাকে দেওয়া হচ্ছে। বিমান মন্ত্রক জানিয়েছে, জেট আবার ফের পরিষেবা শুরু করলে স্লটগুলিও তাদের ফিরিয়ে দেওয়া হবে।

বিভিন্ন বিমানবন্দরে ব্যস্ত সময়ের প্রচুর স্লট কিনে রেখেছিল জেট। তাদের পরিষেবা বন্ধ হওয়ার পরে সেগুলি কেন্দ্র অন্য উড়ান সংস্থাকে বিক্রি করে দিচ্ছে বলে জল্পনা ছড়ায়। তার প্রতিবাদে নামেন কর্মীরা। এমনকি, যে স্টেট ব্যাঙ্কের হাতে এখন জেট এয়ার পরিচালনার দায়িত্ব রয়েছে, তারাও আপত্তি জানায় কেন্দ্রের কাছে। সেই প্রেক্ষিতেই এ দিন বিমান মন্ত্রক জানিয়েছে, অস্থায়ী ভাবে এই স্লটগুলি অন্য সংস্থার হাতে তুলে দেওয়া হচ্ছে।

মন্ত্রকের যুক্তি, সম্প্রতি প্রচুর উড়ান বাতিল হয়েছে। ফলে অসুবিধায় পড়েছেন সাধারণ যাত্রীরা। আবার অনেক সংস্থা নতুন বিমান নিয়ে এসে পরিষেবা সম্প্রসারণ করতে চাইছে। সে জন্য তাদের নতুন স্লটের প্রয়োজন। এই কারণেই জেটের ফাঁকা স্লটগুলি তিন মাসের জন্য তাদের ব্যবহার করতে দেওয়া হচ্ছে। কোন সংস্থাকে ক’টি স্লট দেওয়া হবে, তা ঠিক করার জন্য আলাদা কমিটি গঠন করা হয়েছে। তবে তিন মাসের মধ্যে জেট ফের পরিষেবা শুরু করলে স্লটগুলি তাদের ফেরানো হবে। তার মধ্যে পরিষেবা শুরু করতে না পারলে স্লটগুলির কী হবে, কমিটি সেই সিদ্ধান্ত নেবে।

এ দিন জেটের সিইও বিনয় দুবে সাক্ষাৎকারে জানিয়েছেন, তাঁরা কেন্দ্রের সঙ্গে কথা বলছেন। সংস্থা ফের চালুর জন্য সব রকম চেষ্টা করা হবে। তাঁর কথায়, ‘‘আশা, কিছু দিনের মধ্যেই সম্ভাব্য ক্রেতা খুঁজে পাব।’’

এ দিকে আজ, বুধবার থেকে নীরব প্রতিবাদে নামছেন জেটের কর্মী-অফিসারেরা। বুধবার সকালে কলকাতা বিমানবন্দরের টার্মিনালের সামনে মিছিল করবেন অফিসারেরা। বৃহস্পতিবার দিল্লি বিমানবন্দরের সামনে। রাজ্য ও কেন্দ্রের দৃষ্টি আকর্ষণের জন্যই এই সিদ্ধান্ত।