জেট এয়ারওয়েজের কর্মীদের জন্য সুখবর। ভোটের মুখে ঘুরে দাঁড়ানোর আরও একটা সুযোগ পেল আর্থিক সঙ্কটে জেরবার জেট এয়ারওয়েজ। ইতিমধ্যে ঋণদাতা ব্যাঙ্কগুলো বৈঠকে জেটকে আরও ঋণ দেওয়ার সবুজ সঙ্কেত দিয়েছে। মূলত এসবিআই এবং পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্কই জেট এয়ারওয়েজকে এই বাড়তি ঋণ দেবে, বৈঠকে এমনটাই স্থির করেছে ঋণদাতা ব্যাঙ্কগুলোর গোষ্ঠী।

ঋণের কিস্তি মেটাতে না পারা, নগদের সমস্যা, কর্মীদের বকেয়া— বিভিন্ন দিক থেকে রীতিমতো কোণঠাসা বিমান পরিষেবা সংস্থা জেট এয়ারওয়েজ। তাদের পুনর্গঠন নিয়ে স্টেট ব্যাঙ্কের নেতৃত্বাধীন ঋণদাতাদের গোষ্ঠী (এসবিআই, পঞ্জাব ন্যাশনাল ব্যাঙ্ক, কানাড়া ব্যাঙ্ক, ইন্ডিয়ান ওভারসিজ ব্যাঙ্ক, ইলাহাবাদ ব্যাঙ্ক)-র সঙ্গে নিয়মিত কথা বলছিলেন সংস্থার কর্তৃপক্ষেরা। পাশাপাশি সাহায্যের জন্য প্রধানমন্ত্রীকেও চিঠি দেন তাঁরা। তারপরই প্রশ্ন উঠতে শুরু করে ভোটের মুখে এতজনের কাজ হারানোর দায় প্রধানমন্ত্রী নিজের ঘাড়ে নেবেন কি না। উল্টে ব্যাঙ্কগুলোকে আরও ঋণ দিতে বলে সাধারণ মানুষকেই আরও বিপাকে ফেলতে পারেন প্রধানমন্ত্রী মোদী।

বিজেপি এত দিন অভিযোগ তুলেছিল, ইউপিএ-সরকার ঠিক এই ভাবেই বিজয় মাল্যর কিংফিশার এয়ারলাইনসকে সুরাহার বন্দোবস্ত করে দিয়েছিল। অর্থ মন্ত্রকের কর্তাদের মতে, নরেশ গয়ালও ভাল ভাবেই জানেন, লোকসভা ভোটের আগে সরকার জেটকে কোনওভাবেই মুখ থুবড়ে পড়তে দেবে না। একই ভাবে কিংফিশার এয়ারলাইন্সকেও ঋণ মেটাতে নতুন ঋণের বন্দোবস্ত করে দেওয়া হয়েছিল ইউপিএ আমলে। যদি তাতে কিংফিশার আরও বড় ঋণের বোঝার নীচে চাপা পড়েছিল। এ বার বিজেপি সরকারের আমলেও জেট সেই একই সুবিধা পেল।

আরও পড়ুন: ভোটে না দাঁড়াতে বার্তা পাঠানো হয়েছিল মাত্র! মোদী-শাহের উপেক্ষায় ক্ষুব্ধ আডবাণী

এ দিকে আরও একটি খবর জানা যাচ্ছে জেট সংস্থার সম্বন্ধে। জেট কর্ণধার নরেশ গয়াল এবং তাঁর স্ত্রী অনিতা গয়াল আজই বোর্ড থেকে পদত্যাগ করেছেন। নরেশ গয়াল বর্তমানে লণ্ডনে রয়েছেন। সেখান থেকেই জেটের ২৩,০০০ কর্মীকে পদত্যাগের কথা ঘোষণা করেছেন তিনি। তবে সংস্থার তরফে এখনও নরেশের পদত্যাগের কথা ঘোষণা করা হয়নি। তাঁর পরিবর্তে জেটের বর্তমান সিইও বিনয় দুবের ঘাড়ে জেটকে এই সঙ্কট থেকে বার করার বাড়তি দায়িত্ব চাপাতে চলেছে বোর্ড।

আরও পড়ুন: দিল্লি দখলের লড়াইলোকসভা নির্বাচন ২০১৯ 

নরেশ গয়াল সংস্থার ৫১ শতাংশ শেয়ারের মালিক। ঋণদাতা ব্যাঙ্কগুলোর গোষ্ঠী এই শেয়ারের শতাংশের জন্য নতুন ক্রেতার খোঁজ করবে। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী এটা জানা গিয়েছে। আরও জানা গিয়েছে, এসবিআইয়ের ম্যানেজিং ডিরেক্টর এবং জেট এয়ারওয়েজ বোর্ডের প্রাক্তন সদস্য শ্রীনিবাস বিশ্বনাথনকে সংস্থার বড় পদে যোগ দেওয়ার জন্য অনুরোধও জানানো হয়েছে সংস্থার তরফে। বোর্ডের সদস্য হতে পারেন এসবিআইয়ের প্রাক্তন চেয়ারম্যান এবং প্রাক্তন সিভিসি কমিশনার জানকী বল্লভও।

আবু ধাবির উড়ান সংস্থা এতিহাদ জেট এয়ারওয়েজের ২৪ শতাংশ শেয়ারের মালিক। তবে ভবিষ্যতে তাদের শেয়ারের পরিমাণও কমানোর চিন্তাভাবনা করছে বোর্ড।