শুক্রবারের চটকল ধর্মঘট সফল বলে দাবি করল সিটু-সহ বামপন্থী শ্রমিক সংগঠনগুলি। সূত্রের খবর, এর জেরে এ দিন রাজ্যে উৎপাদনে অনেকটাই ধাক্কা লেগেছে। সংগঠনগুলির দাবি, ৪৬টি চালু চটকলের মধ্যে ২২টি পুরো বন্ধ ছিল। বাকিগুলিতে ৪০-৭০% শ্রমিক কাজে আসেন। সিটু সমর্থিত বেঙ্গল চটকল মজদুর ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক অনাদি সাহু বলেন, মজুরি বৃদ্ধি সংক্রান্ত ত্রিপাক্ষিক চুক্তি নিয়ে শ্রমিকেরা অখুশি। তাই এক দিনের মধ্যে ডাকা ধর্মঘটেও সাড়া মিলেছে। উত্তর ২৪ পরগনার অধিকাংশ চটকলই এ দিন বন্ধ ছিল।

এ দিন ধর্মঘটের প্রভাব কিছুটা পড়েছে বলেই মেনেছেন চটকল মালিকদের একাংশ। কয়েকজনের বক্তব্য, অনেক মিলে কিছু শ্রমিক কাজে এলেও, পরে শিফ্‌ট বন্ধ করতে হয়েছে। কিছু চটকল বন্ধও ছিল। তবে কয়েকটিতে ভাল কাজ হয়েছে।

আইএনটিইউসি শ্রমিক ইউনিয়নের নেতা গণেশ সরকারের যদিও দাবি, ধর্মঘটের কোনও প্রভাব পড়েনি চটকলগুলিতে। বিক্ষিপ্ত ভাবে কিছু চটকলে কাজের সমস্যা হলেও, অধিকাংশ শ্রমিকই হাজিরা দিয়েছেন। আইএনটিটিইউসি-র সভানেত্রী দোলা সেনেরও দাবি, ধর্মঘট ব্যর্থ হয়েছে। শ্রমিকেরা রাজ্যের ঘোষিত নীতি মেনে কাজে যোগ দিয়েছেন। তবে হুকুমচাঁদ ও হাওড়ার বাউড়িয়া চটকলে কাজ কিছুটা ব্যাহত হয়েছে।

বাম ইউনিয়নগুলির বক্তব্য, দৈনিক মজুরি বৃদ্ধির যে প্রস্তাব দেওয়া হয়েছিল, তা চটকল মালিক ও সরকার কেউই মানেনি। এই চুক্তিতে চটকল শ্রমিকেরা বঞ্চিত হয়েছেন। রাজ্য অবশ্য আগেই দাবি করেছে যে, শ্রমিক স্বার্থ রক্ষা করেই চুক্তি হয়েছে। ধর্মঘট করে তাঁদের কোনও লাভ হবে না। বাম ইউনিয়নগুলি ভোটের আগে চটকল শিল্পে রাজনীতি করার চেষ্টা করছে।