এক দিনে প্রায় ছ’লক্ষ বিমা বিক্রির জের। বিশ্বরেকর্ড করল লাইফ ইনস্যুরেন্স কর্পোরেশন অফ ইন্ডিয়া বা এলআইসি। ফলে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডে নাম উঠেছে এই রাষ্ট্রায়ত্ত বিমা সংস্থার। এই সাফল্যের জন্য বিমা এজেন্টদের ধন্যবাদ জানিয়ে বিবৃতি দিয়েছে এলআইসি। শুধু তা-ই নয়, আগামী দিনে গ্রাহক সংখ্যা আরও বাড়বে বলে আশাবাদী সংশ্লিষ্ট সরকারি বিমা কোম্পানিটির পদস্থ কর্তারা।
চলতি বছরের ২০ জানুয়ারি মাত্র ২৪ ঘণ্টার মধ্যে ৫ লক্ষ ৮৮ হাজার ১০৭টি বিমা পলিসি বিক্রির যাবতীয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে এলআইসি। এর জন্য দেশব্যাপী ৪ লক্ষ ৫২ হাজার ৮৩৯ জন এজেন্টকে কাজে লাগিয়েছিল এই রাষ্ট্রায়ত্ত বিমা সংস্থা। এক দিনের মধ্যে বিপুল সংখ্যক বিমা পলিসি বিক্রি হওয়ায় গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডের খাতায় নাম ওঠে লাইফ ইনস্যুরেন্স কর্পোরেশনের। এই রেকর্ডের নেপথ্যে ‘ম্যাড মিলিয়ান ডে’ নামের একটি বিশেষ উদ্যোগ কাজ করেছে বলে জানা গিয়েছে।
এলআইসি জানিয়েছে, ২০ জানুয়ারির দিন দেশের প্রতিটি এজেন্টকে অন্তত একটি করে বিমা বিক্রির আহ্বান জানানো হয়েছিল। অধিকাংশ এজেন্টই সেই লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করতে সক্ষম হন। ফলে নতুন মাইলফলক স্পর্শ করতে সক্ষম হয় এই রাষ্ট্রায়ত্ত বিমা সংস্থা। এ ব্যাপারে এলআইসির তরফে জারি করা বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‘গ্রাহক এবং তাঁদের পরিবারের আর্থিক সুরক্ষা নিশ্চিত করতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’’ এই রেকর্ডের ফলে সরকারি সংস্থাটির বিমা কেনার প্রতি আমজনতার আগ্রহ আরও বাড়বে বলে মনে করা হচ্ছে।
চলতি বছরের মে মাসে গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ড থেকে স্বীকৃতির শংসাপত্র পায় এলআইসি। পরে অফিশিয়াল ইনস্টাগ্রাম পেজে তার ছবি শেয়ার করে সংশ্লিষ্ট রাষ্ট্রায়ত্ত বিমা সংস্থা। উল্লেখ্য একটা সময়ে ভারতের বিমার বাজারে একচেটিয়া ব্যবসা করত এলআইসি। কিন্তু, বর্তমানে বেসরকারি বিমা সংস্থাগুলির ব্যবসা করার সুযোগ মেলায় প্রবল প্রতিযোগিতার মুখে পড়েছে লাইফ ইনস্যুরেন্স কর্পোরেশন।
২০০০ সালে বিমা ক্ষেত্রে বেসরকারিকরণে উদ্যোগী হয়েছে কেন্দ্র। বর্তমানে দেশে ২৪টি বেসরকারি বিমা সংস্থা রয়েছে। চলতি বছরের বাজেটে তাদের জন্য ১০০ প্রত্যক্ষ বিদেশি লগ্নির দরজা খুলে দিয়েছে কেন্দ্র। এ ছাড়া আগে জীবন বিমায় আয়করে মোটা অঙ্কের ছাড় পাওয়া যেত। কিন্তু, বর্তমানে নতুন কর ব্যবস্থায় সেই সুবিধা নেই। তা সত্ত্বেও এলআইসি পলিসি বিক্রির রেকর্ড করায় এই ঘটনাকে অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলছেন আর্থিক বিশ্লেষকেরা।