সোনা-রুপোর লক্ষাধিক দাম অক্ষয় তৃতীয়ার কেনাকাটায় বাধা হয়ে দাঁড়ায়নি বলেই দাবি করলেন বেশির ভাগ গয়না ব্যবসায়ী। অনেকে জানালেন, ভিড়ভাট্টা প্রত্যাশা ছাড়িয়েছে। তবে একাংশের মতে, গয়না কেনার ধরন বদলেছে। বেশিরভাগ কেনাকাটা করেছেন পরিকল্পনা করে। কতটা কিনবেন, কেন কিনবেন, বরাদ্দ কত ইত্যাদি রীতিমতো কাগজে-কলমে হিসাব ছকে এনেছেন।
স্বর্ণশিল্প মহলের মতে, অক্ষয় তৃতীয়ার কেনাকাটা চলেছে রবি এবং সোমবার। মাঝখানে অনেকটা দাম কমলেও, বেশ কয়েক দিন ধরে ঊর্ধ্বমুখী ছিল সোনা-রুপো।শনিবারও তা একটু বেড়েছে। কিন্তু সোমবারের দাম ছিল শনির থেকে কম। তাই রবিবারের তুলনায় বিক্রি বেশি হয়েছে এ দিন। সোমবারকলকাতায় ৮০০ টাকা কমে ১০ গ্রাম খুচরো পাকা সোনা (২৪ ক্যারাট) ১,৫৩,১৫০ টাকা হয়েছে। খুচরো রুপোর কেজি ৩৯০০ টাকা সস্তা হয়ে নেমেছে ২,৫২,২৫০ টাকায়।
সেনকো গোন্ড অ্যান্ড ডায়মন্ডস-এর এমডি শুভঙ্কর সেন বলেন, ‘‘গত বারের থেকে এ বার ব্যবসা প্রায় ২৫% বেশি হয়েছে। ছাড়ের সুযোগ নিতে অনেকে বিয়ের বাজারও সেরেছেন। তবে অন্য ক্ষেত্রে হাল্কা গয়নার চাহিদা ছিল বেশি।’’ রাখালচন্দ্র দে জুয়েলার্সের ডিরেক্টর নবীন চন্দ্র জানান, আগে খদ্দেররা দোকানে এসে ঠিক করতেন কী কিনবেন। এখন নকশা হয়তো গয়না দেখে পছন্দ করছেন। কিন্তু কতটা সোনা নেবেন কিংবা কত দামের মধ্যে, সেই সিদ্ধান্ত আগেই বাড়িতে বসে নিয়ে নিচ্ছেন। নবীন এবং অঞ্জলি জুয়েলার্সের অনর্ঘ উত্তীয় চৌধুরী, দু’জনেরই দাবি, এ বার ক্রেতার আগমন প্রত্যাশা ছাড়িয়ে গিয়েছে। ভাল হয়েছে বিক্রি।
স্বর্ণশিল্প বাঁচাও কমিটির কার্যকরী সভাপতি সমর দে-র অবশ্য দাবি, মোটামুটি ব্যবসা হয়েছে। গত অক্ষয় তৃতীয়ার সঙ্গে এখনই তুলনা করা যাবে না। তবে রবির থেকে সোমে বিক্রি বেড়েছে। তবে বনগাঁর গয়না ব্যবসায়ী বিনয় সিংহর ব্যবসা জমেনি। জানালেন, ভোটের আগে নাকা তল্লাশি চলায় অনেকেই নগদ টাকা বা পুরনো গয়না নিয়ে যাতায়াত করতে ভয় পেয়েছেন। ফলে গয়না কেনা কিংবা পুরনো বদলে নতুন কেনার পথে বাধা তৈরি হয়েছে।’’
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)