বহু দিন ধরেই শিল্প তথা সাধারণ মানুষের অভিযোগ, রিজার্ভ ব্যাঙ্ক (আরবিআই) রেপো রেট বাড়ালে ঋণে যত দ্রুত সুদ বাড়ায় বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কগুলি, রেপো কমলে সুদের হার কমানোয় ততটা তৎপরতা দেখা যায় না তাদের মধ্যে। যা নিয়ে এর আগে বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কগুলিকে বহু বার বলেছে শীর্ষ ব্যাঙ্ক। সুদ কমানোর কথা বলেছে কেন্দ্রও। আর বুধবার শীর্ষ ব্যাঙ্ক বিজ্ঞপ্তিতে জানাল, আগামী ১ অক্টোবর থেকে সমস্ত নতুন ঋণে পরিবর্তিনশীল সুদের হার (ফ্লোটিং রেট) স্থির করার নতুন পদ্ধতি চালু করতে হবে বাণিজ্যিক ব্যাঙ্কগুলিকে। যার মাধ্যমে রেপো রেট অথবা তৃতীয় কোনও মাপকাঠির (এক্সটার্নাল বেঞ্চমার্ক) ভিত্তিতে সুদ ঠিক করতে হবে তাদের। লক্ষ্য, রেপো কমলে ঋণের সুদে তার সুবিধা দ্রুত গ্রাহকের কাছে পৌঁছে দেওয়া। ইতিমধ্যেই অবশ্য বেশ কিছু ব্যাঙ্ক রেপোর সঙ্গে ঋণে সুদ যুক্ত করার পথে হেঁটেছে।

শীর্ষ ব্যাঙ্ক আজ জানিয়েছে—

• নতুন ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি শিল্প (এমএসএমই) থেকে শুরু করে গৃহ, গাড়ি, ব্যক্তিগত ঋণ সবই আসবে এই নতুন পদ্ধতির আওতায়।

• রেপো রেট ছাড়াও ফিনান্সিয়াল বেঞ্চমার্কস ইন্ডিয়ার প্রকাশিত তিন মাস ও ছ’মাসের সরকারি ঋণপত্রের (ট্রেজারি বিল) ইল্ড বা প্রকৃত আয়-সহ বিভিন্ন মাপকাঠি ঋণে সুদের হার স্থির করতে ব্যবহার করা যাবে।

• ব্যাঙ্কগুলি চাইলে নির্দিষ্ট ঋণ ছাড়াও অন্যান্য ঋণে এই সুবিধা দিতে পারবে।

• অন্তত প্রতি তিন মাস অন্তর সুদের হার ফিরে দেখতে হবে তাদের।

• মাপকাঠির তুলনায় কত বেশি সুদ নেওয়া যাবে, তা ঠিক করবে ব্যাঙ্কই। ঋণে ঝুঁকির ভিত্তিতে হার স্থির হবে।

• বর্তমানে যে সমস্ত ঋণে তহবিল সংগ্রহের ভিত্তিতে সুদ স্থির হয় (এমসিএলআর) অথবা বেস রেটের ভিত্তিতে সুদ ঠিক করা হয়, তা চালু থাকবে (যত দিন না ঋণ শেষ হচ্ছে অথবা তা বদলানো হচ্ছে)।

• এক ধরনের ঋণের ক্ষেত্রে কোনও ব্যাঙ্কে একটি মাপকাঠি ব্যবহার হবে।