অভিযোগ উঠেছিল মুনাফা বাড়িয়ে দেখানোর জন্য চাপ। সংস্থারই কর্মীরা নাম প্রকাশ না করে শীর্ষকর্তাদের চিঠি লিখে নালিশ ঠুকেছিলেন পদস্থ দুই কর্মীর বিরুদ্ধে। সেই ‘হুইসলব্লোয়ার’ অভিযোগের দু’সপ্তাহের মধ্যেই ইনফোসিস জানিয়ে দিল, সংস্থার নিজস্ব প্রাথমিক তদন্তে তেমন কোনও প্রমাণ মেলেনি। ন্যাশনাল স্টক এক্সচেঞ্জকে (এনএসই) বিবৃতি দিয়ে সংস্থার তরফে অবশ্য আরও জানানো হয়েছে, তদন্ত এখনও শেষ হয়নি। ইনফোসিসের চেয়ারম্যান নন্দন নীলেকানি  বিবৃতিতে বলেছেন, ‘তদন্তে নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে সংস্থার সিইও এবং সিএফও-কে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে।’ এই ঘোষণার পরেই সকালের দিকে ইনফোসিসের শেয়ারের দাম বাড়তে শুরু করে। তবে বেলার দিকে তা কিছুটা নেমেও যায়।

ইনফোসিসের বিরুদ্ধে মুনাফা বাড়িয়ে দেখানোর চাপ দেওয়ার অভিযোগ ওঠার পর থেকেই সংস্থার পক্ষ থেকে অভ্যন্তরীণ তদন্ত শুরু হয়েছিল। তার জন্য অডিটর সংস্থা শার্দূল অমরচাঁদ মঙ্গলদাস অ্যান্ড কোম্পানিকে নিয়োগ করেছিল ইনফোসিস। তাদেরই প্রাথমিক তদন্তে এই তথ্য উঠে এসেছে বলে দাবি করেছে সংস্থা। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘‘বেনামি অভিযোগকে যথাযথ গুরুত্ব দিয়েও বলা যায়, এ পর্যন্ত তদন্তে প্রাথমিক ভাবে কোনও বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ মেলেনি যাতে কোনও একটি অভিযোগের সারবত্তা থাকতে পারে। শার্দূল অমরচাঁদ মঙ্গলদাস অ্যান্ড কোম্পানিকে এখনও পরিষেবা দেওয়ার জন্য রেখে দেওয়া হচ্ছে।’’

একই সঙ্গে উল্লেখ করা হয়েছে, বেনামি ওই অভিযোগ নিয়ে এখনও তদন্ত চলছে। তবে ইনফোসিস এখনও এমন অবস্থায় নেই যাতে ওই অভিযোগগুলির ‘সারবত্তা, বিশ্বাসযোগ্যতা বা বাস্তবতা’ সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়া যায়। বেঙ্গালুরুর এই তথ্যপ্রযুক্তি সংস্থার বক্তব্য,  এখনও তদন্তের পুরো বিষয়গুলি গুছিয়ে ওঠা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীকালে তদন্তে যা যা উঠে আসবে, সেগুলি এনএসই-কে জানানো হবে।

আরও পডু়ন: সোপোরের পর শ্রীনগর, লালচকে গ্রেনেড হামলা জঙ্গিদের, হত ১, জখম অন্তত ১৫

আরও পডু়ন: পরিস্থিতি উন্নতির কোনও লক্ষণ নেই, বিষ-বাতাসে আজও ‘বিপজ্জনক’ দিল্লি

ইনফোসিসের কর্মীরা অভিযোগপত্রে জানিয়েছিলেন, মুনাফা বাড়িয়ে দেখাতে চাপ দিচ্ছিলেন সংস্থার চিফ এগজিকিউটিভ অফিসার (সিইও) সলিল পারেখ এবং চিফ ফাইনান্সিয়াল অফিসার (সিএফও) নীলাঞ্জন রায়। এই অভিযোগ সামনে আসার দিনই ইনফোসিসের শেয়ারে ধস নামে। মুম্বই শেয়ার বাজারে প্রায় ১৬ শতাংশ পড়ে যায় দাম। তার পর থেকে অবশ্য কিছুটা ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছিল। আজ সোমবার সংস্থার ঘোষণার পরেই প্রায় ৬ শতাংশ উপরে ওঠে ভারতের দ্বিতীয় বৃহত্তম সফটওয়ার সংস্থার শেয়ারের দাম। খানিকটা বৃদ্ধির পরেই ইনফোসিসের শেয়ারের দাম পড়তে থাকে।