কর্মী প্রভিডেন্ট ফান্ড পাওয়ার জন্য বেতনের ঊর্ধ্বসীমা বৃদ্ধির দাবি উঠছে বহু দিন ধরেই। এ বার বিষয়টি সরকারকে বিবেচনা করার নির্দেশ দিল সুপ্রিম কোর্ট। সোমবার এক রায়ে শীর্ষ আদালত বলেছে, চার মাসের মধ্যে কেন্দ্রকে এ ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিয়ে জানাতে হবে। বর্তমানে ওই সীমা মাসে ১৫,০০০ টাকা। কর্মী সংগঠনগুলির একাংশের দাবি, তার অঙ্ক অন্তত ২৫,০০০ টাকা হওয়া উচিত।
পিএফে বেতনের ঊর্ধ্বসীমা বাড়ানোর জন্য সু্প্রিম কোর্টে বিচারপতি জে কে মাহেশ্বরী এবং এ এস চান্দুরকর-এর বেঞ্চে মামলা করেন জনৈক নবীন প্রকাশ নটিয়াল। মামলাকারীর দাবি ছিল, এটি সামাজিক সুরক্ষা প্রকল্প। কিন্তু বহু সাধারণ মানুষ তার থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। সংশ্লিষ্ট মহলের বক্তব্য, ১৫,০০০ টাকার সামান্য বেশি আয় হলেই পিএফ পান না কর্মী। অথচ ওই সীমার নীচে এবং কিছুটা উপরে থাকা মানুষের আর্থিক পরিস্থিতি প্রায় এক।
আবেদনকারীর আইনজীবীরা আদালতে জানান, গত এক দশকেরও বেশি সময় ধরে পিএফে বেতনের ঊর্ধ্বসীমা বাড়ানো হয়নি। তা শেষ বার বাড়ানো হয় ২০১৪-র ১ সেপ্টেম্বর। ৬৫০০ টাকা থেকে বেড়ে হয় ১৫,০০০ টাকা। অথচ কেন্দ্র এবং বহু রাজ্য সরকার পরবর্তীকালে ন্যূনতম বেতনের যে অঙ্ক ঠিক করেছে, তা ১৫,০০০ টাকার অনেক বেশি। ওই আইনজীবীদের অভিযোগ, এই সীমা ঠিক করার কোনও মাপকাঠিও নেই। কেন্দ্রের ন্যূনতম বেতন, আয়কর ছাড়ের ঊর্ধ্বসীমা, বার্ষিক মাথাপিছু আয় বা মূল্যবৃদ্ধির হারের মধ্যে কোনওটিকে মাপকাঠি হিসাবে ব্যবহার করা হয় না। পুরোটাই নির্ভর করে কেন্দ্রের মর্জির উপর। সুপ্রিম কোর্টের বেঞ্চ মামলকারীর উদ্দেশে বলেছে, পিএফ সংক্রান্ত এই দাবি জানিয়ে তিনি যেন দু’সপ্তাহের মধ্যে কেন্দ্রের কাছে আবেদন করেন। সঙ্গে যেন জুড়ে দেন আদালতের নির্দেশ।
পিএফে কেন্দ্রীয় অছি পরিষদের প্রাক্তন সদস্য এআইইউটিইউসির দিলীপ ভট্টাচার্য বলছেন, ‘‘আমরা দীর্ঘ দিন ধরেই বেতনের ঊর্ধ্বসীমা বাড়ানোর আর্জি জানাচ্ছি। কিন্তু কেন্দ্র পাত্তা দিচ্ছে না। ২০২০-তে একটি বিশেষ কমিটিও গড়া হয়। তারা পিএফের আওতায় আসার জন্য সংস্থার ন্যূনতম কর্মী সংখ্যা এবং বেতনের ঊর্ধ্বসীমা দু’টিই বাড়ানোর সুপারিশ করে। কিন্তু কিছুই হয়নি।’’ দিলীপের দাবি, কর্মী রাজ্য বিমা (ইএসআই) প্রকল্পে অনেক আগেই বেতনের ঊর্ধ্বসীমা বাড়িয়ে ২১,০০০ টাকা এবং সংস্থার ন্যূনতম কর্মী সংখ্যা কমিয়ে ১০ জন করা হয়েছে। কিন্তু পিএফে বেতন-সীমার পাশাপাশি, ন্যূনতম কর্মীও এখনও ২০। অছি পরিষদের সদস্য টিইউসিসির সাধারণ সম্পাদক এসপি তিওয়ারি জানান, গত অক্টোবরেও তাঁরা বেতনের সীমা ২৫,০০০ টাকা করার দাবি জানিয়েছেন। এই দাবিকে সমর্থন করছেন বেশির ভাগ কর্মী সংগঠনই।
সমালোচনা
পিএফের সুবিধা পাওয়ার জন্য বেতনের ঊর্ধ্বসীমা ২০১৪-র সেপ্টেম্বর থেকে মাসে ১৫,০০০ টাকায় স্থির (৬৫০০ থেকে বেড়েছিল)।
কেন্দ্রের ন্যূনতম বেতন হোক বা মূল্যবৃদ্ধির হার, এই সীমা বৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিতে সরকারের নির্দিষ্ট মাপকাঠি থাকা দরকার।
ওই সীমা বাড়িয়ে অন্তত ২৫,০০০ টাকা করা উচিত।
কর্মী রাজ্য বিমা প্রকল্পে বেতনের সীমা বাড়িয়ে ২১,০০০ টাকা করা হয়েছে। ন্যূনতম কর্মী ১০ হলে তা দিতে বাধ্য সংস্থা। পিএফে সীমা বাড়েনি, ন্যূনতম কর্মীও ২০।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)