তেলের দৌড় অব্যাহত। সোমবারের পর আজ, মঙ্গলবার আরও দামি হল পেট্রল-ডিজেল। কলকাতায় ইন্ডিয়ান অয়েলের পাম্পে লিটার প্রতি পেট্রল ২৫ পয়সা দামি হয়ে বিক্রি হচ্ছে ৯৪.৫০ টাকায়। ২৩ পয়সা বেড়ে ডিজেলের দাম হয়েছে ৮৮.২৩ টাকা। দেশের মধ্যে পেট্রল যেখানে প্রথম সেঞ্চুরি হাঁকিয়েছিল, রাজস্থানের সেই শ্রীগঙ্গানগরে সোমবারই তা ১০৫ টাকা ছাড়ায়। সেখানে ৯৮ টাকায় পেরিয়েছে ডিজেলের দরও। সংশ্লিষ্ট মহলের আশঙ্কা, এই দরও হয়তো কিছু দিনের মধ্যেই ১০০ টাকা ছুঁয়ে ফেলবে।
জ্বালানি খরচের এই বিপুল বোঝায় জেরবার পরিবহণ ক্ষেত্র। এই অবস্থায় কেন্দ্রীয় উৎপাদন শুল্ক ও রাজ্যগুলির ভ্যাটের হার হ্রাসের দাবি তুলেছে অল ইন্ডিয়া মোটর ট্রান্সপোর্ট কংগ্রেস (এআইএমটিসি)। দাবি মানা না-হলে ‘লোকসানে’ চলা এই ব্যবসা বন্ধেরও হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা।
পাঁচ রাজ্যে ভোট মেটার পর থেকে আজ পর্যন্ত ১৭ দিন বাড়ল পেট্রল-ডিজেলের দর। সোমবার শ্রীগঙ্গানগরে লিটার প্রতি পেট্রলের দর ছিল ১০৫.২৪ টাকা। সেখানে ডিজেল বিক্রি হয়েছে ৯৮.০৮ টাকায়। মুম্বইয়ে এ দিন পেট্রল ও ডিজেলের দর ছিল যথাক্রমে ১০০.৪৭ টাকা এবং ৯২.৪৫ টাকা। এই সময়ের মধ্যে কলকাতায় দুই জ্বালানির দর যথাক্রমে ৩.৮৮ টাকা এবং ৪.৬২ টাকা বাড়ল।
এই অবস্থায় পেট্রল-ডিজেলের উৎপাদন শুল্ক ছাঁটাইয়ের দাবি জোরদার হয়েছে। যে শুল্ক গত বছর করোনা সঙ্কটের মধ্যেও রেকর্ড হারে বেড়েছে। যদিও মোদী সরকার নির্বিকার। তাদের যুক্তি, বিশ্ব বাজারে অশোধিত তেলের দর বাড়ছে। তা ছাড়া রাজস্থানের মতো কয়েকটি রাজ্যে ভ্যাটের হারও চড়া। বিরোধীদের অবশ্য পাল্টা প্রশ্ন, কেন কেন্দ্র আগে কর ছাঁটাইয়ে পথ দেখাবে না? বিশেষ করে গত সাত বছরে যখন পেট্রলে প্রায় ২৫০% ও ডিজেলে ৮০০% উৎপাদন শুল্ক বাড়িয়েছে মোদী সরকার! এআইএমটিসি-র প্রেসিডেন্ট কুলতারান সিংহ অটওয়াল বলেন, ‘‘সরকারকে অবিলম্বে আমাদের দাবি মানতে হবে। না-হলে লোকসানে চলা এই ব্যবসা বন্ধ করা ছাড়া উপায় নেই।’’