E-Paper

কিছু ক্ষেত্রে দাম বাড়ল প্রায় ১০০ শতাংশ, ধোঁয়াশা রেখেই বিমানের জ্বালানি নিয়ে পদক্ষেপ কেন্দ্রের

বিমান পরিবহণ মন্ত্রী রামমোহন নায়ডু সমাজমাধ্যমে জানান, বর্তমান অবস্থায় দাম বৃদ্ধি স্বাভাবিক। যাত্রীদের কথা ভেবে কেন্দ্র ধীরে ধীরে এটিএফের দর ২৫% পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ০২ এপ্রিল ২০২৬ ০৯:৪২

— প্রতীকী চিত্র।

লাফিয়ে বাড়ল বিমান জ্বালানি এটিএফের দাম। বুধবার সকালে রাষ্ট্রায়ত্ত তেল সংস্থা আইওসি-র ওয়েবসাইটে দেখা যায়, দাম বেড়ে ২ লক্ষ টাকা পেরিয়েছে। কাঁপুনি শুরু হয় গোটা দেশে। তবে কিছু পরেই দেখা যায়, তা কমে হয়েছে ১ লক্ষ টাকার মতো। করের তারতম্যের জন্য বিভিন্ন শহরে জ্বালানির দর আলাদা হয় বটে। কিন্তু দাম ২ লক্ষ থেকে পরক্ষণেই ১ লক্ষে নামা চমকে দেওয়ার মতো বলেই মনে করছে সংশ্লিষ্ট মহল। সূত্রের দাবি, পরিস্থিতি আঁচ করে তড়িঘড়ি মাঠে নামে কেন্দ্র। যে কারণে দিনের শেষে দেশীয় বিমান সংস্থাগুলির যাত্রিবাহী উড়ানের জন্য জ্বালানির দাম বৃদ্ধি সীমিতই থেকেছে। তবে ব্যক্তিগত উড়ান, চার্টার্ড উড়ান কিংবা বিদেশি উড়ান সংস্থাগুলির ব্যবহৃত এটিএফের দর বেড়েছে কার্যত ১০০ শতাংশেরও বেশি। গোটা বিষয়টি নিয়ে এ দিন সকালে ধোঁয়াশা তৈরি হয়। যার সদুত্তর সরকারের তরফে মেলেনি।

বিমান পরিবহণ মন্ত্রী রামমোহন নায়ডু সমাজমাধ্যমে জানান, বর্তমান অবস্থায় দাম বৃদ্ধি স্বাভাবিক। যাত্রীদের কথা ভেবে কেন্দ্র ধীরে ধীরে এটিএফের দর ২৫% পর্যন্ত বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। মন্ত্রকের যুগ্মসচিব আসাংবা চুবা আও-র অবশ্য বার্তা, দাম মাসে একবার যেমন বদলায়, তেমনই হয়েছে। দেশীয় সংস্থাগুলির বোঝা কমাতেও পদক্ষেপ করেছে সরকার। তেল মন্ত্রক জানিয়েছে, আপাতত দেশীয় উড়ান সংস্থাগুলি লিটারে সাকুল্যে ১৫ টাকার মতো বৃদ্ধির মুখে পড়বে। আইওসি-র দাবি, কলকাতায় দাম কিলোলিটারে হয়েছে ১.১০ লক্ষ টাকা। যা ৩১ মার্চ পর্যন্ত ছিল প্রায় ৯৯,৫০০ টাকা।

সংশ্লিষ্ট মহল বলছে, এত কিছু বলাতেই ধন্দ তৈরি হচ্ছে। সংস্থার তথ্যে দাম কিলোলিটারে ১০,৫০০ টাকা মতো বাড়ল। কিন্তু মন্ত্রকের দাবি অনুসারে লিটারে ১৫ টাকা বাড়লে তা হবে ২১,০০০ টাকার বেশি। ফলে আরও ৪০০০ বাড়তে পারে। এটাকেই কেন্দ্র ধীরে ধীরে বৃদ্ধি বলেছে কি না, উঠেছে প্রশ্ন। আইওসি-র সাইটে রয়েছে, মার্চের চেয়ে এপ্রিলে দাম বেড়েছে ৮.৫%। এতেও পরে দাম বৃদ্ধির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। যদিও ব্যক্তিগত উড়ান বা বিদেশি সংস্থাগুলির জন্য এক কিলোলিটার এটিএফের খরচ ২.০৭ লক্ষ টাকা।

পেট্রলিয়াম মন্ত্রকের যুগ্মসচিব সুজাতা শর্মা বলেন, ‘‘এটা সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত।’’ তা হলে বাস্তবে ৮.৫% নাকি ২৫% দাম বাড়ল এটিএফের, এই প্রশ্নের সঠিক জবাব মেলেনি। সুজাতা জানান, পেট্রল-ডিজ়েল বা এটিএফ, সব ক্ষেত্রেই তেল সংস্থাগুলি বিরাট লোকসানের মুখে পড়েছে। তাই দাম বৃদ্ধি।

এ দিকে, জ্বালানির খরচ বাড়ায় ইন্ডিগো ফুয়েল সারচার্জের হার বাড়িয়েছে। দেশীয় উড়ানে ২৭৫-৯৫০ টাকা আর আন্তর্জাতিক উড়ানে ৯০০-১০,০০০। যা গ্রাহকদেরই মেটাতে হবে। সুজাতা বলেন, ‘‘উড়ান সংস্থাগুলির খরচের ৪০% জ্বালানির। তাই তার দাম আর্থিক স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলে। তবে ওই দর ২০০১ থেকে বাজার নির্ভর। ফলে বিশ্ব বাজারের সঙ্গে তাল রেখে দাম বৃদ্ধি স্বাভাবিক।

অন্য দিকে, আইওসি তাদের সবচেয়ে দামি প্রিমিয়াম পেট্রল এক্সপি ১০০ এবং পরিবেশবান্ধব ডিজ়েল এক্সপি গ্রিনের দামও বাড়িয়েছে। এক্সপি ১০০ লিটারে প্রায় ১১ টাকা বেড়ে হয়েছে ১৬০ টাকা। অন্যটির ১.৫ টাকা বেড়ে ৯৭.৩১।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

ATF Price Hike West Asia

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy