ডিজিটাল মিডিয়ার সুবাদে দুনিয়া এখন হাতের মুঠোয়। ইন্টারনেট ব্যাঙ্কিং তো ছিলই, সঙ্গে যোগ হয়েছে একাধিক অ্যাপ যার মাধ্যমে বাড়িতে বসেই লেনদেন সংক্রান্ত একাধিক পরিষেবা উপভোগ করা যাচ্ছে। কিন্তু এই ধরনের পরিষেবা কতটা সুরক্ষিত? কী ভাবে সাবধান থাকবেন আপনি?

দেশের সবথেকে বড় পাবলিক সেক্টর ব্যাঙ্ক 'স্টেট ব্যঙ্ক অব ইন্ডিয়া' জানাচ্ছে, সবার আগে প্রয়োজন গ্রাহককে তাঁর অ্যাকাউন্ট সম্পর্কে সচেতন থাকা। 

আপনার অনলাইন পরিষেবাকে সুরক্ষিত রাখতে এসবিআইয়ের পক্ষ থেকে কিছু টিপস:

১. আপনি যদি এসবিআই গ্রাহক হন, তা হলে নেটব্যাঙ্কিং বা অনলাইন পেমেন্ট করার সময় ইন্টারনেট ব্রাউজারে গিয়ে এসবিআই ইউআরএল-এ লিখে সার্চ করুন। কখনই অন্য কোনও লিঙ্ক থেকে কাজ করবেন না।

২. সাইবার ক্যাফে থেকে অনলাইন ব্যঙ্কিং না করাই ভাল।

৩. বিভিন্ন অ্যাপ স্টোর (গুগল অ্যাপ স্টোর, অ্যাপল অ্যাপ স্টোর, ব্ল্যাকবেরি অ্যাপ ওয়ার্ল্ড, ওভি স্টোর, উইন্ডোজ মার্কেটপ্লেস ইত্যাদি) থেকে অ্যাপ ডাউনলোড করার আগে সত্যতা যাচাই করে নেওয়া প্রয়োজন। কারণ এই ধরনের অ্যাপ অনলাইন ব্যাঙ্কিং করার প্রস্তাব দেয়। অনেক সময় নেটব্যাঙ্কিং করলে গ্রাহকের গোপন তথ্য লিক্‌ হয়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। তাই অ্যাপ ইনসিটল করার আগে অ্যাপটা কতটা বিশ্বাসযোগ্য তা যাচাই করে নিন।

৪. অনলাইনে যে কোনও লিঙ্ক ক্লিক করার আগে ভাল করে দেখে নিন। একের পর এক লিঙ্ক খুলতে থাকলে অনেক সময় গোপন তথ্য হ্যাক হওয়ার আশঙ্কা থাকে।

৫. গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য এবং অ্যাকাউন্ট সম্পর্কিত তথ্য জানবার জন্য ব্যাঙ্কের পক্ষ থেকে কখনই কোনও এসএমএস/ই-মেল/ফোন করা হয় না। অনলাইন ব্যাঙ্কিং বা নেটব্যাঙ্কিংয়ের সময় ফোনে মেসেজ বা ই-মেলে  ওটিপি (এককালীন পাসওয়ার্ড) আসে। সেই পাসওয়ার্ড শেয়ার করবেন না।

যদি কোনও গ্রাহকের কাছে এই ধরনের মেসেজ/ই-মেল বা ফোন আসে, তা হলে তা অবশ্যই ব্যাঙ্ককে জানানো দরকার। আপনি এসবিআই গ্রাহক হলে report.phishing@sbi.co.in-এ গিয়ে ইউজার আইডি দিয়ে অভিযোগ করতে হবে।

কোনও ভাবে একজন গ্রাহক যদি তাঁর গোপন তথ্য ভুল করে প্রকাশ করে ফেলেন, তা হলেও এসবিআইয়ের ওয়েবসাইট গিয়ে ইউজার আইডি দিয়ে লক্‌ করার জন্য অ্যাপ্লিকেশন জমা দিতে হবে।

৬. এসবিআই জানিয়েছে, অনলাইন ব্যঙ্কিং-এর ক্ষেত্রে একবার ইউজার আইডি ও লগ-ইন করার পর দ্বিতীয় বার জিজ্ঞাসা করা হয় না। গ্রাহকের ক্রেডিট বা ডেবিট কার্ড সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয় না। অনেক সময় পপ-আপ বিজ্ঞাপন আসে। এই বিজ্ঞাপনগুলো থেকে সাবধান থাকুন। অনলাইন ট্র্যাকাররা এই ধরনের বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে গ্রাহকের গোপন তথ্য জেনে যায়।

যদি কোনও মেসেজে গ্রাহকের ব্যক্তিগত তথ্য জানতে চাওয়া হয়, সে ক্ষেত্রে কোনও তথ্য না জানানোর অনুরোধ করা হচ্ছে।

৭. সব সময় লগ-ইন করার সময় তারিখ ও সময় দেখে নিতে হবে।

৮. কম্পিউটার বা ল্যাপটপে আপডেটেড অপারেটিং সিস্টেম ব্যবহার করতে হবে। সিস্টেমে যেন ভাল অ্যান্টিভাইরাস থাকে।  

আরও পড়ুন: ব্যবসায় টান পড়লেই এক্সচেঞ্জে টানাটানি

আরও পড়ুন: অবসরে বাড়তি আয়ের সুযোগ দিচ্ছে আমাজন