E-Paper

টাকার পতন ঠেকাতে ‘সব ধরনের পদক্ষেপ’ করার ইঙ্গিত দিলেন রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্কের গভর্নর

টাকার দামে উদ্বেগ বাড়লেও তাঁদের কাছে সব থেকে বড় চ্যালেঞ্জ মূল্যবৃদ্ধি বলেও মন্তব্য করেন সঞ্জয়। বলেন, ‘‘ঋণনীতি পর্যালোচনায় মূল্যবৃদ্ধিকে বাগে আনতে পারলে, তা দেশের আর্থিক বৃদ্ধিতে মদত জোগাবে। বাণিজ্য ঘাটতি কমানোকেও অগ্রাধিকারের তলিকায় রাখা হয়েছে।’’

সংবাদ সংস্থা

শেষ আপডেট: ২৬ মে ২০২৬ ০৭:২৫
রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক।

রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক। —ফাইল চিত্র।

ডলারের সাপেক্ষে টাকার দামের তলিয়ে যাওয়া আটকাতে রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক ঠিক কী পদক্ষেপ করতে পারে, তাই নিয়ে জল্পনা ছড়িয়েছে দেশ জুড়ে। কারও মতে, শীর্ষ ব্যাঙ্ক আগামী দিনে সুদের হার বাড়িয়ে এর মোকাবিলা করবে। কেউ দাবি করছেন, সুদ বাড়িয়ে টাকাকে ছন্দে ফেরানোর তেমন পক্ষপাতী নয় আরবিআই। এই পরিস্থিতিতে, সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আরবিআই গভর্নর সঞ্জয় মলহোত্র জানিয়েছেন, ডলারের সাপেক্ষে টাকার স্বাভাবিক ওঠানামা নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সমস্ত পদক্ষেপই করবে রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক। তবে সেটা ঠিক কী হতে পারে, সুদ বৃদ্ধি হতে পারে কি না— সে বিষয়ে স্পষ্ট কোনও ইঙ্গিত দেননি তিনি।

টাকার দামে উদ্বেগ বাড়লেও তাঁদের কাছে সব থেকে বড় চ্যালেঞ্জ মূল্যবৃদ্ধি বলেও মন্তব্য করেন সঞ্জয়। বলেন, ‘‘ঋণনীতি পর্যালোচনায় মূল্যবৃদ্ধিকে বাগে আনতে পারলে, তা দেশের আর্থিক বৃদ্ধিতে মদত জোগাবে। বাণিজ্য ঘাটতি কমানোকেও অগ্রাধিকারের তলিকায় রাখা হয়েছে।’’ আরবিআই গভর্নরের দাবি, রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক ইতিমধ্যেই বাণিজ্য ঘাটতি কমানোর ব্যবস্থা করতে শুরু করেছে। দেশে বিদেশি মুদ্রার আমদানি এবং লগ্নি বৃদ্ধির পরিবেশ উন্নত করায় জোর দেওয়া হচ্ছে।

এর আগে সূত্রের খবর ছিল, টাকাকে বাঁচাতে অনাবাসী ভারতীয়দের থেকে ডলার টানার ব্যবস্থা করতে পারে আরবিআই। ডলারে আমানত, ডলার সংগ্রহের ঋণপত্র-সহ নানা প্রকল্প আনা হতে পারে। ওই সাক্ষাৎকারে মলহোত্র নিজেও জানিয়েছেন, টাকার পতন রোখার জন্য তাঁদের হাতে অনেক হাতিয়ার রয়েছে। যখন যেমন প্রয়োজন, সেগুলি কাজে লাগানো হবে। রয়েছে ৭০,০০০ কোটি ডলারের বিদেশি মুদ্রার ভান্ডারও। তবে একই সঙ্গে তাঁর বার্তা, ভারতীয় মুদ্রার দামকে নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে বেঁধে রাখতে চান না তাঁরা। ওই দাম বাজারে স্বাভাবিক ওঠাপড়ার মধ্য দিয়েঠিক হোক, এটাই কাম্য। শুধু বিদেশি মুদ্রার বাজারে ফাটকার কারণে টাকার অবমূল্যায়ন ঘটলে হস্তক্ষেপ করবে রিজ়ার্ভ ব্যাঙ্ক।

সঞ্জয় বলেছেন, ‘‘গত ২৮ ফেব্রুয়ারি পশ্চিম এশিয়ায় যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ডলারের সাপেক্ষে টাকার দাম ৬% পড়েছে। তাই নজর রাখা হচ্ছে। আমরা টাকাকে নির্দিষ্ট দামে না বাঁধলেও, তাকে ছন্দে ফেরাতে যা যা প্রয়োজন করব। যদি ফাটকার মাধ্যমে মুদ্রাকে কৃত্রিম ভাবে নামানো হয়, হস্তক্ষেপ করব তাতেও।’’ তাঁর বার্তা, অনেকেই মনে করতে পারেন যে, সাধারণ বাজার দর এবং মূল্যবৃদ্ধি বাদ দিয়ে দামের হিসাব, দুই নিরিখেই টাকার দামের পতন হয়েছে। তবে এটাও ঠিক যে, পশ্চিম এশিয়ার যুদ্ধ থামলেই তা ফের উঠবে।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Reserve Bank of India (RBI) RBI US Dollars indian currency

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy