E-Paper

বাড়বে সংগঠিত ক্ষেত্রে শ্রমিকের সংখ্যা, রাজ্যে দ্রুত শ্রম বিধি চালু করতে চায় শিল্প মহল

মনমিত বলেন, ইন্ডিয়ান স্টাফিং ফেডারেশনের সমীক্ষা অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর্মীর সংখ্যা ৪.৩৬ কোটি। এর মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশই অসংগঠিত ক্ষেত্রের কর্মী।

প্রেমাংশু চৌধুরী

শেষ আপডেট: ২৬ মে ২০২৬ ০৭:৫১
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

পশ্চিমবঙ্গে পালাবদলের পরে এ বার রাজ্যে দ্রুত চারটি শ্রম বিধি চালুর দাবি তুলছে শিল্পমহল। এর ফলে রাজ্যে সংগঠিত ক্ষেত্রে কর্মীর সংখ্যা বাড়বে বলে কর্মী নিয়োগের সঙ্গে যুক্ত কর্পোরেট সংস্থাগুলির মত। কেন্দ্রীয় শ্রম মন্ত্রকও বলছে, অসংগঠিত ক্ষেত্র থেকে সংগঠিত ক্ষেত্রের কর্মীতে পরিণত হলে পশ্চিমবঙ্গের বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে যুক্ত শ্রমিক, কর্মীরা ইএসআই-এর মতো সামাজিক সুরক্ষার সুবিধাও পাবেন।

বেসরকারি সংস্থাগুলি যে সব সংস্থা থেকে কর্মী নিয়োগ বা ‘আউটসোর্স’ করে, সেই সংস্থাগুলির সংগঠন ইন্ডিয়ান স্টাফিং ফেডারেশনের সভাপতি মনমিত সিংহ বলেন, পশ্চিমবঙ্গে এত দিন রাজ্য সরকার শ্রম বিধি চালু করেনি বা শ্রম বিধি চালুর ব্যাপারে কোনও পদক্ষেপ করেনি। তাঁর বক্তব্য, শ্রম বিধি চালু হলে রাজ্যের কর্মী সংখ্যার সিংহভাগ, যাঁরা এখন অসংগঠিত ক্ষেত্রের কর্মী রয়ে গিয়েছেন, তাঁরা সংগঠিত ক্ষেত্রের কর্মী হয়ে উঠবেন। ফলে প্রভিডেন্ট ফান্ড, ইএসআই-এর মতো সুযোগ সুবিধা পাবেন।

মনমিত বলেন, ইন্ডিয়ান স্টাফিং ফেডারেশনের সমীক্ষা অনুযায়ী পশ্চিমবঙ্গে বিভিন্ন ক্ষেত্রে কর্মীর সংখ্যা ৪.৩৬ কোটি। এর মধ্যে প্রায় ৯০ শতাংশই অসংগঠিত ক্ষেত্রের কর্মী। সংগঠিত ক্ষেত্রের কর্মী সংখ্যা মাত্র ৪৫.৫ লক্ষ। এঁদের মধ্যে ২.৭ লক্ষ ‘ফ্লেক্সি-স্টাফ’, যাঁদের কাজের চাহিদা বা প্রয়োজন অনুযায়ী নিয়োগ হয়।

মোদী সরকার গত নভেম্বরে চারটি শ্রম বিধি চালু করে দিয়েছে। শ্রম সংক্রান্ত পুরনো আইন তুলে দিয়ে মজুরি বা বেতন, শিল্পক্ষেত্রে সম্পর্ক, কাজের ক্ষেত্রে নিরাপত্তা ও সামাজিক সুরক্ষা নিয়ে চারটি বিধি তৈরি করেছিল। কিন্তু পশ্চিমবঙ্গে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সরকার রাজ্যে একটিও শ্রম বিধি চালু হতে দেবে না বলে সিদ্ধান্ত নেয়। রাজ্য সরকার এই চারটির মধ্যে কোনও বিধির জন্যই নিয়ম তৈরি করেনি। শ্রম মন্ত্রক মনে করছে, রাজ্যে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার আসার পরে দ্রুত এ বিষয়ে কাজ শুরু হবে।

শিল্প সংস্থা, বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গের ছোট ও মাঝারি শিল্প সংস্থাগুলি যাতে সংগঠিত ক্ষেত্রের সংস্থা থেকেই কর্মী নিয়োগ করে, তা নিশ্চিত করতে ইন্ডিয়ান স্টাফিং ফেডারেশনের দাবি, কর্মী আউটসোর্সিং-এর উপরে জিএসটি ১৮% থেকে কমিয়ে ৫% হোক। ফেডারেশনের কার্যকরি অধিকর্তা সুচিতা দত্ত বলেন, ‘‘অতীতে কর্মী জোগান ও আউটসোর্সিং পরিষেবায় ১২% জিএসটি বসত। তা বেড়ে ১৮% হয়েছে। তার ফলে ছোট-মাঝারি সংস্থাগুলি অসংগঠিত ক্ষেত্র থেকেই কর্মী নিয়োগ করছে। জিএসটি কমে ৫% হলে ছোট-মাঝারি সংস্থাগুলি সংগঠিত ক্ষেত্র থেকে কর্মী নিয়োগ করবে। কর্মীরা ইএসআই, পিএফের মতো সুবিধা পাবেন।’’

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Central Government Labour law

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy