E-Paper

নির্দেশে ‘ত্রুটি’, জামিনেও জেলমুক্তি হয়নি তরুণীর

আইনজীবীদের অনেকেরই বক্তব্য, বিচারকের নির্দেশ ‘ডিক্টেশন’ নেওয়ার সময় সংশ্লিষ্ট কোর্ট অফিসারের এমন ত্রুটিবিচ্যুতি বহু ক্ষেত্রেই আদালতে হয়। তা নজরে আনলে সঙ্গে সঙ্গেই শুধরে দেওয়া হয়।

কুন্তক চট্টোপাধ্যায়

শেষ আপডেট: ২৬ মে ২০২৬ ০৯:০২
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

প্রায় দু’বছর কারাবাসের পরে জেলা আদালত থেকে অন্তর্বর্তী জামিন মিলেছে। কিন্তু তবুও মুক্তি পাননি তরুণী নূপুরবালা বিশ্বাস! কারণ, তাঁর জামিনের নির্দেশের প্রতিলিপিতে মামলার নম্বরই ভুল লেখা হয়েছে। সেই ত্রুটি সংশোধনের আর্জিও জমা দিয়েছেন নূপুরের আইনজীবীরা। এক মাস কেটে গেলেও সেই ত্রুটি সংশোধন হয়নি উত্তর ২৪ পরগনা জেলা কোর্টে। কবে সংশোধন হবে, সে ব্যাপারেও নিশ্চিত নন তাঁর আইনজীবীরা। তাই কোর্ট জামিন দিলেও বন্দি জীবন থেকে মুক্তি অনিশ্চিত।

নূপুরের বিষয়টি অবশ্য বর্তমান সময়ে বেশ ‘তাৎপর্যপূর্ণ’! তাঁর আইনজীবী জয়ন্তনারায়ণ চট্টোপাধ্যায় জানান, নূপুরবালা আদতে বাংলাদেশি। ২০২৪ সালে তাঁর পরিবার এ দেশে পাঠিয়ে দেয় উনিশ বছরের মেয়েকে। বাগদার যুবক উত্তম বিশ্বাসের সঙ্গে বিয়েও হয় নূপুরের। অনুপ্রবেশের অভিযোগে সে বছরই বাগদা থানা গ্রেফতার করে নূপুরকে। বনগাঁ কোর্টে নূপুর অনুপ্রবেশের দোষ স্বীকার করে নেওয়ায় অতিরিক্ত মুখ্য বিচারবিভাগীয় ম্যাজিস্ট্রেট দু’বছরের কারাবাসের সাজা দেন। সেই থেকেই জেলে বন্দি তিনি। চলতি বছরে জেলা বিচারকের কোর্টে সাজা স্থগিত এবং অন্তর্বর্তী জামিনের আর্জি জানান নূপুরের আইনজীবীরা। ২৮ এপ্রিল অন্তর্বর্তী জামিন মঞ্জুর করেন জেলা বিচারক। সেই যে নির্দেশ তাতেই বিপত্তি ঘটে যায়। নূপুরের সাজা হয়েছিল বাগদা থানার মামলা নম্বর ৭১২/২০২৪-এর ভিত্তিতে। জেলা কোর্টের নির্দেশে সেই মামলা নম্বর হয়ে গিয়েছে ১২/২০২৪। নির্দেশের সঙ্গে নূপুরের আসল মামলার নম্বর না-মেলায় নিম্ন আদালত, সংশোধনাগার, পুলিশ— কোথাও জামিনের নির্দেশ গ্রাহ্য হয়নি।

আইনজীবীদের অনেকেরই বক্তব্য, বিচারকের নির্দেশ ‘ডিক্টেশন’ নেওয়ার সময় সংশ্লিষ্ট কোর্ট অফিসারের এমন ত্রুটিবিচ্যুতি বহু ক্ষেত্রেই আদালতে হয়। তা নজরে আনলে সঙ্গে সঙ্গেই শুধরে দেওয়া হয়। কিন্তু উত্তর ২৪ পরগনা জেলা কোর্টে ত্রুটি সংশোধনে এত সময় লাগছে কেন? জয়ন্তনারায়ণ জানান, জেলা বিচারক অন্তর্বর্তী জামিন দিয়ে বাকি মামলার শুনানির জন্য এক অতিরিক্ত জেলা দায়রা বিচারকের এজলাসে নথি পাঠিয়ে দিয়েছেন। জেলা বিচারকের এজলাসে ত্রুটি সংশোধনের আর্জি জানালে বলা হয় যে মামলার নথি বর্তমানে যে এজলাসে আছে, সেখানে সংশোধন করা হবে। সেই এজলাসে গেলে বলা হয়েছে যে জামিনের নির্দেশ যে এজলাস থেকে হয়েছে সেখানেই সংশোধন করা হবে। নূপুরের আইনজীবীর আক্ষেপ, ‘‘এই দুই এজলাসের মধ্যে বিষয়টি ঘুরছে। এ দিকে, একজন তরুণী জামিন পেয়েও জেল থেকে ছাড়া পাচ্ছে না!’’

প্রসঙ্গত, রাজ্যে পালাবদলের পর বিজেপি সরকার এসে ঘোষণা করেছে যে বাংলাদেশ থেকে আসা হিন্দুদের (বৌদ্ধ এবং জৈনদেরও) এ দেশের নাগরিকত্ব দেওয়া হবে। আইনজীবীদের একাংশের বক্তব্য, এ দেশে নূপুরের শ্বশুরবাড়ি হওয়ায় এবং তিনি বাংলাদেশি ‘হিন্দু’ হওয়ায় জেল থেকে বেরিয়ে ‘সিএএ’-র অধীনে নাগরিকত্ব পাওয়ার আর্জিও জানাতে পারবেন। কিন্তু ত্রুটি সংশোধন হয়ে কবে গরাদমুক্তি ঘটবে, সেটাই প্রশ্ন।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Bail Plea

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy