কারা যাবেন আটক শিবিরে, তা নিয়ে এ বারে বিস্তারিত নির্দেশ গেল জেলা প্রশাসনগুলির কাছে। একই সঙ্গে তাদের স্পষ্ট করে দেওয়া হল, অনুপ্রবেশকারী প্রশ্নে কেন্দ্রের বিধি মেনেই পদক্ষেপ করতে হবে। এ নিয়ে ২০২৫ সালে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বিধি কার্যকর হচ্ছে। রাজ্য পুলিশের জেলা পদাধিকারীরা বিশেষ ক্ষমতা পাচ্ছেন অনুপ্রবেশকারীদের চিহ্নিতকরণ এবং আটকের প্রশ্নে। বলে দেওয়া হয়েছে, উপযুক্ত এবং বৈধ নথি না থাকলে যেমন আটক করা যাবে, তেমনই বৈধ নথি থাকলেও যাঁদের এ দেশে থাকার মেয়াদ ফুরিয়ে গিয়েছে, আটক করা হবে তাঁদেরও। বেশ কয়েক বছর আগে রোহিঙ্গাদের উপস্থিতি নিয়ে বিস্তর বিতর্ক হয়েছিল। অভিযোগ ছিল, রাজনৈতিক মদতে দক্ষিণ ২৪ পরগনা-সহ সীমান্ত লাগোয়া একাধিক জেলায় সংশ্লিষ্টদের বসতি তৈরি করা হচ্ছে। তখনও রাজ্যের থেকে এই তথ্য চেয়েছিল কেন্দ্র। যদিও তা খুব বেশি দূর এগোয়নি।
কেন্দ্রীয় বিধি অনুযায়ী, অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশি এবং রোহিঙ্গারাই প্রধানত এই বৃত্তে আসবেন। সংবিধানের ২৫৮(১) ধারা অনুযায়ী তৈরি বৈদেশিক আইন, পাসপোর্ট আইন অনুযায়ী এই পদক্ষেপ করা হবে। জেলাস্তরে পুলিশ সুপার বা পুলিশের ডেপুটি কমিশনারেরা ফরেনার্স রেজিস্ট্রেশন অফিসার (এফআরও) হিসাবে ক্ষমতাপ্রাপ্ত হচ্ছেন। তাঁরা আটক করা থেকে সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়ার জন্য দায়িত্বপ্রাপ্ত। জেলা কর্তাদের যে লিখিত বার্তা পাঠানো হয়েছে তাতে, ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব আইন অনুযায়ী, বৈধ পাসপোর্ট, ভ্রমণের বিধিবদ্ধ যে কোনও নথি ছাড়া যাঁরা এ দেশে রয়েছেন, অনুপ্রবেশকারী হিসাবে ধরা হবে তাঁদের। আবার বৈধ পাসপোর্ট-নথি থাকলেও, যাঁরা এ দেশের থাকার মেয়াদ (এ দেশে প্রবেশের সময়ে সরকারি ভাবে নির্ধারিত থাকার মেয়াদ) শেষ হওয়ার পরেও রয়ে গিয়েছেন, আটক হবেন তাঁরাও। ধৃত ব্যক্তির বয়ান নিতে হবে জেলা কর্তাদের। তা জানাতে হবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রক বা বৈদেশিক আঞ্চলিক পঞ্জীকরণ শাখাকে (এফআরআরও)। তাদের রিপোর্ট পাওয়ার পরে পদক্ষেপ করতে হবে। পাশাপাশি, ধৃত ব্যক্তির সবিস্তার তথ্য জেলা কর্তাদের আপলোড করতে হবে ফরেনার্স আইডেন্টিফিকেশন পোর্টালে (এফআইপি)। সংশ্লিষ্টের বায়োমেট্রিক তথ্য সংগ্রহ করে আপলোড করতে হবে তা-ও। এ দেশে স্থলসীমান্তের সঙ্গে রয়েছে জলসীমান্তও। ফলে দেশছাড়া করার চূড়ান্ত দায়িত্ব বিএসএফ এবং উপকূল রক্ষী বাহিনীর। জলসীমান্ত পেরিয়ে কেউ এ দেশে ঢুকে থাকলে উপকূল রক্ষী বাহিনী সেই মতো বিধিবদ্ধপদক্ষেপ করবে।
তবে বলে দেওয়া হয়েছে, বাংলাদেশ-মায়ানমারে ফেরত পাঠানোর আগে এবং পরের তথ্য পাঠাতে হবে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র সচিব, রাজ্য পুলিশের ডিজিকে। রিপোর্ট পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিকে ডিপোর্ট বা ফেরত পাঠানো হবে নির্ধারিত সীমান্ত দিয়ে প্রতিবেশী দেশের সীমান্ত রক্ষী বাহিনীর সঙ্গে। যদি কেউ দাবি করেন, তিনিএ দেশের নাগরিক এবং অন্য কোনও রাজ্যে বসবাস করেন, সে ক্ষেত্রে বয়ান অনুযায়ী সংশ্লিষ্টের ঠিকানা, ভিন রাজ্যে তাঁর আত্মীয়ের নাম-ঠিকানা জোগাড় করে দাবি যাচাই করতে হবে জেলা প্রশাসনকে। যাঁদের ফেরতপাঠানো হবে, তাঁদের তথ্য জনসমক্ষে আনতে হবে সরকারি পোর্টালের মাধ্যমে। সেই তথ্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের পাশাপাশি আধার নিয়ন্ত্রক সংস্থা, জাতীয় নির্বাচন কমিশন, বিদেশ মন্ত্রকের কাছেও পাঠাতে হবে। পাঠাতে হবে যে সরকারি সংস্থাগুলি পরিচয়পত্র এবং অনুদান-সুবিধা দিয়েথাকে তাদেরও।
ইতিমধ্যেই এমন ব্যক্তিদের রাখতে জেলায় জেলায় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রকের বিধি মেনে আটক কেন্দ্র তৈরির কাজ শুরু হয়েছে। তা পরিচালনা করার খরচ রাজ্য সরকারকেই বহন করতে হবে। বলা হয়েছে, অবৈধ বাংলাদেশি বা রোহিঙ্গা গ্রেফতার হওয়া মাত্র তাঁর নাম-পরিচয়-সহ বিস্তারিত তথ্য পাঠাতে হবে বিদেশ মন্ত্রকে। সেই মন্ত্রক বাংলাদেশ-মায়ানমার সরকারকে তা পাঠিয়ে সেই তথ্যের বৈধতা বুঝবে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)