আগামী মাসেই রাজ্যের পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ হওয়ার কথা। তার আগে কেন্দ্রের সব প্রকল্পে যুক্ত হওয়ার নির্দেশ দিলেন মুখ্যমন্ত্রী শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার নবান্ন সভাঘরে রাজ্য সরকারের বিভিন্ন দফতরের সচিবকে নিয়ে বৈঠক করেন শুভেন্দু। সেখানে ‘জি রাম জি’ থেকে ঘাটাল মাস্টার পরিকল্পনা— জোর পড়েছে সবের উপর। সূত্রের দাবি, আগামী ১১ জুন দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে চলা নীতি আয়োগের বৈঠকেও যোগ দিতে পারেন মুখ্যমন্ত্রী। সেখানেও রাজ্যের প্রকল্প-বরাদ্দ-অনুদান সব কিছুর রূপরেখা তৈরি হতে পারে বলে খবর। সূত্রের খবর, স্কুলপড়ুয়াদের পোশাকের মান নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করে এ নিয়ে রিপোর্ট চেয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী। পাশাপাশি নভেম্বরে দুর্গাপুর, বালি ও হাওড়া পুরসভার ভোট করতে চায় রাজ্য। তাই সেখানে আসনের সীমা পুনর্বিন্যাসের কাজ শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
একশো দিনের কাজের প্রকল্পের বদলে ১২৫ দিনের কাজ নিশ্চিত করে সংশোধিত প্রকল্প ‘জি রাম জি’ চালু হওয়ার কথা আগামী মাসের গোড়া থেকেই। সূত্রের দাবি, সেই প্রকল্পে আধার এবং ভোটার কার্ডকে নথি হিসাবে অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। প্রশাসনিক ব্যাখ্যায়, গত এসআইআরের পরে ভোটার তালিকা ‘জলমুক্ত’ হয়েছে। ফলে নথি হিসাবে আধারের সঙ্গে ভোটার কার্ডকেও প্রকল্পের উপভোক্তাদের জন্য নির্ধারিত রাখা হচ্ছে। আগের একশো দিনের কাজেরপ্রকল্পে বিস্তর গরমিলের অভিযোগে দীর্ঘদিন ধরেই বন্ধ ছিল ওই প্রকল্পে কেন্দ্রের বরাদ্দ। নতুন সরকার রাজ্যে ক্ষমতায় আসায় কেন্দ্রের সংশোধিত প্রকল্পই কার্যকর হতে চলেছে। বিগত সরকারের আমলে জব কার্ড থাকা শ্রমিকদের তথ্যভান্ডার নিয়ে বিস্তর অভিযোগ উঠেছিল। দক্ষিণ ২৪ পরগনা এবং মুর্শিদাবাদ জেলাকে সেই তথ্যভান্ডার সংশোধন করতে বলা হয়েছে দ্রুত। যদিও প্রশাসনিক এবং রাজনৈতিক ভাবে অতীতে বহু বার কেন্দ্রীয় বঞ্চনার অভিযোগ তুলেছিল তখনকার শাসকদল তৃণমূল। বিকল্প হিসেবে তৎকালীন তৃণমূল সরকার ‘কর্মশ্রী’ নামে এক প্রকল্পও চালু করেছিল। প্রশাসনিক সূত্রের দাবি, আপাতত সেই প্রকল্পের ভবিষ্যৎ আর থাকবে না ‘জি রাম জি’ চালু হওয়ার কারণে। এ দিনের বৈঠকে স্পষ্ট করে দেওয়া হয়েছে, কাজ প্রাপকদের স্বচ্ছ তালিকা তৈরি, সংশ্লিষ্টদের ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টের সঙ্গে আধারের লিঙ্ক থাকা বাধ্যতামূলক থাকবে। বস্তুত, অতীতে কেন্দ্রীয় সরকার একাধিক বার অভিযোগ করেছিল ভুয়ো জব কার্ড, মৃত শ্রমিকদের নামে টাকা তোলা, ভুয়ো নামে একশো দিনের কাজের প্রকল্পের টাকা তছরুপ ইত্যাদি নিয়ে। অতিরিক্ত জেলাশাসকদের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যেন বিধি মেনে ওই আইন কার্যকর করা হয়।
সূত্রের দাবি, দীর্ঘদিন ধরে পূর্ব ও পশ্চিম মেদিনীপুরে বন্যা নিয়ন্ত্রণে ঘাটাল মাস্টার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হচ্ছে না। ওই প্রকল্পের জন্য ১৫০০ কোটি টাকা বরাদ্দ করার কথা বলা হয়েছিল বিগত সরকারের আমলে। কিন্তু তার কাজ এগোয়নি। সূত্রের খবর, কেন্দ্রের নীতি মেনে ঘাটাল মাস্টার পরিকল্পনা কার্যকর করতে সেচ দফতরকে এ দিন মুখ্যমন্ত্রী নির্দেশ দিয়েছেন। আগামী বর্ষায় দুর্যোগ মোকাবিলার জন্য প্রস্তুতির বার্তাও দেওয়া হয়েছে।
সব ঠিক থাকলে আগামী ২২ জুন রাজ্যের পূর্ণাঙ্গ বাজেট পেশ করতে পারে শুভেন্দু অধিকারীর সরকার। তার আগে প্রায় ৫০টি কেন্দ্রীয় প্রকল্পের সঙ্গে যুক্ত হতে বলা হয়েছে বলে খবর। কেন্দ্রীয় অনুদানভুক্ত প্রকল্পগুলিতে যুক্ত থাকলে রাজ্যের আর্থিকবোঝাও অনেকটা কমার কথা। কারণ, বেশির ভাগ প্রকল্পে কেন্দ্রের অনুদান থাকে অন্তত ৫০%। ফলে বাজেট প্রস্তুতির লক্ষ্যে সেই ব্যবস্থা পাকা করতে চাইছে নবান্ন। নীতি আয়োগের বৈঠকে বিষয়টি আরও পোক্ত হতে পারে বলে অভিজ্ঞ কর্তাদের অনেকেরই ধারণা।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)