E-Paper

বেকসুর শিক্ষক, কাঠগড়ায় পুলিশ ও সরকারি কৌঁসুলি

প্রসঙ্গত, ২০২২ সালে প্রতাপের বিরুদ্ধে এক নাবালিকা ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ জমা পড়েছিল।

সব্যসাচী ভট্টাচার্য

শেষ আপডেট: ২৬ মে ২০২৬ ০৯:১১
—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

—প্রতিনিধিত্বমূলক ছবি।

এক নাবালিকাকে ধর্ষণের ‘দায়ে’ পকসো আইনে ২০ বছরের সাজা হয়েছিল শ্রীরামপুর কলেজের শিক্ষক প্রতাপ দিগলের। চার বছর ধরে সাজাও ভোগ করেছেন। তবে হাই কোর্টে সেই ঘটনা পুরো উল্টে গিয়েছে! সম্প্রতি বিচারপতি অরিজিৎ বন্দোপাধ্যায় এবং বিচারপতি অপূর্ব সিংহরায়ের ডিভিশন বেঞ্চ জানিয়েছে, প্রতাপ বেকসুর। তাই শ্রীরামপুর কোর্টের দেওয়া সাজা শুধু খারিজই করেনি হাই কোর্ট, ওই শিক্ষকের সামাজিক মানহানি ও চার বছর ধরে জেলবন্দি থাকার জন্য আগামী তিন মাসের মধ্যে তাকে ১০ লক্ষ টাকা ক্ষতিপূরণ দেবে রাজ্য। উল্টে পুলিশের তদন্তকারী অফিসার এবং বিশেষ সরকারি কৌঁসুলিকে কার্যত কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়েছে হাই কোর্ট। মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোয় নাম জড়িয়েছে প্রতাপের প্রাক্তন স্ত্রী এবং পুত্রেরও।

ডিভিশন বেঞ্চের নির্দেশ, কর্তব্যে গাফিলতি ও ন্যায় বিচারের ক্ষেত্রে পক্ষপাতিত্ব করার জন্য নিম্ন আদালতের বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর অজয় মুখোপাধ্যায়ের বিরুদ্ধে রাজ্যের বার কাউন্সিলকে ব্যবস্থা নিতে হবে। মামলার তদন্তকারী অফিসার (শ্রীরামপুর মহিলা থানার তৎকালীন ওসি) নিবেদিতা কোলের বিরুদ্ধে রাজ্য পুলিশের ডিজিকে বিভাগীয় তদন্ত করতে হবে এবং ১৫ দিনের মধ্যে হাই কোর্টে রিপোর্ট দিতে হবে। প্রতাপকে দেওয়া ক্ষতিপূরণের অর্থ নিবেদিতা ও অজয়ের কাছ থেকে উসুল করবে রাজ্য। নিবেদিতা সম্পর্কে কোর্টের পর্যবেক্ষণ, পকসো আইন সংক্রান্ত অভিযোগের তদন্তে বুনিয়াদি কর্মপদ্ধতিকেই উপেক্ষা করেছেন তদন্তকারী অফিসার। প্রাথমিক যাচাই পর্ব, সাক্ষ্যপ্রমাণ সংগ্রহ থেকে ফরেন্সিক তথ্য সংরক্ষণ, সব ক্ষেত্রেই অযোগ্যতার পরিচয় দিয়েছেন তিনি।

প্রসঙ্গত, ২০২২ সালে প্রতাপের বিরুদ্ধে এক নাবালিকা ছাত্রীকে ধর্ষণের অভিযোগ জমা পড়েছিল। তাঁকে গ্রেফতার করে শ্রীরামপুর মহিলা থানা এবং ২০২৪ সালে তাঁকে ২০ বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের নির্দেশ দেয় শ্রীরামপুর আদালত। প্রতাপের আইনজীবী লর্ড চট্টোপাধ্যায় হাই কোর্টে দাবি করেন, পুলিশি তদন্তে একাধিক গাফিলতি রয়েছে। নির্যাতিতা ও সাক্ষীদের বয়ান নিয়েও প্রশ্ন তোলেন তিনি। তিনি এ-ও জানান, প্রতাপের প্রাক্তন স্ত্রী এবং পুত্রকে এই মামলায় সাক্ষী হিসেবে যুক্ত করেছিল পুলিশ। প্রাক্তন স্ত্রীর আইনজীবী অজয়কে শ্রীরামপুর কোর্টের এই মামলায় বিশেষ সরকারি কৌঁসুলি করা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন লর্ড। যদিও সরকারি কৌঁসুলি সাজা বহাল রাখার পক্ষেই সওয়াল করেছিলেন।

সব পক্ষের বক্তব্য শোনার পরে নির্যাতিতার অভিযোগের সত্যতা, পুলিশের তদন্ত প্রক্রিয়া, সাক্ষীদের বয়ান, ফরেন্সিক তথ্য সংরক্ষণ ও নিম্ন আদালতের বিচার প্রক্রিয়া সম্পর্কিত ১৩টি গুরুতর বিষয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে প্রশ্ন তোলে ডিভিশন বেঞ্চ। বেকসুর ঘোষণার পাশাপাশি মিথ্যে মামলায় ফাঁসানো ও অসত্য বয়ানের জন্য প্রাক্তন স্ত্রী ও পুত্রের বিরুদ্ধে প্রতাপকে আইনি পদক্ষেপের অনুমতি দিয়েছে হাই কোর্ট।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Sexual Harassment

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy