কোভিডের সঙ্গে লড়াই কঠিন ছিল। কিন্তু তাকে সামলে অর্থনীতিকে বাঁচাতে একটিমাত্র লক্ষ্যে অবিচল থাকতে পেরেছে বিশ্ব জুড়ে সমস্ত দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক। লক্ষ্য পূরণে এগিয়েছে কার্যত একজোটে, একই দিশায়। কিন্তু বাণিজ্য যুদ্ধের ধাক্কা পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্তে আলাদা আলাদা। বিশেষ করে উন্নয়নশীল বা সম্ভাবনাময় অর্থনীতিগুলির উপরে। এই যুক্তিতেই বাণিজ্য যুদ্ধকে অতিমারির থেকেও বেশি কঠিন এবং আশঙ্কাজনক বলে দাবি করলেন আন্তর্জাতিক অর্থ ভান্ডারের (আইএমএফ) ফার্স্ট ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর গীতা গোপীনাথ।
ভারতীয় বংশোদ্ভূত গীতা সংবাদমাধ্যমকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে স্পষ্ট জানিয়েছেন, আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উস্কে দেওয়া বাণিজ্য যুদ্ধ অতিমারির থেকেও বড় আকারের সঙ্কট হিসেবে দেখা দিচ্ছে উদীয়মান অর্থনীতির দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলির কাছে। কারণ অতিমারির প্রভাব সব দেশে প্রায় এক রকম ছিল। তাই কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্কগুলির পদক্ষেপের ধরনও ছিল প্রায় এক। সকলেই সুদের হার কমিয়েছিল। বিভিন্ন দেশে চালু হয় নানা ত্রাণ প্রকল্প। কিন্তু শুল্ক যুদ্ধের প্রভাব সব দেশে এক ভাবে পড়ছে না। আগামী দিনে কোথায় কতটা ধাক্কা লাগবে বোঝা যাচ্ছে না। অতিমারির সময়ে বিশ্ব জুড়ে চাহিদা তলানিতে ঠেকেছিল। কিন্তু শুল্ক যুদ্ধে আমেরিকার মতো দেশ যেখানে ফের মূল্যবৃদ্ধি যুঝতে হিমশিম খাচ্ছে, সেখানে উদীয়মান অর্থনীতির দেশগুলিতে আর্থিক উন্নয়ন শ্লথ হচ্ছে। তারা ভুগছে চাহিদার অভাবে। চাহিদা বাড়াতে দেশগুলির কেন্দ্রীয় ব্যাঙ্ক সুদ কমাচ্ছে। অথচ আমেরিকায় বাড়ানোর কথা ভাবা হচ্ছে। এর ফলে উন্নয়নশীল দেশগুলির সমস্যা বাড়ছে। দেশের চাহিদা বাড়ানো দরকার, অথচ সে জন্য সুদ কমালে হারাতে হবে মূলধন।
‘ওইসিডি’-ও সাম্প্রতিক রিপোর্টেও বলা হয়েছে, শুল্ক যুদ্ধের ফলে লগ্নিতে ভাটা পড়লে এবং উন্নয়ন ব্যহত হলে সম্ভাবনাময় দেশগুলিই ভুগবে। মূলধন সরবে অন্যত্র।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)