E-Paper

‘পরিবর্তন যাত্রা’য় ডাক বিরোধী কর্মীদেরও

বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের নির্দেশ, ১ ও ২ মার্চ দুপুর ২টো থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সর্বোচ্চ এক হাজার জনকে নিয়ে আইন-শৃঙ্খলা ও দূষণ-বিধি মেনে কর্মসূচি করা যাবে।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ২৮ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ ০৮:৪৫

—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

রাজ্যে পরিবর্তনের লক্ষ্যে আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনে অন্য নানা দলের কর্মী, সমর্থকদের তাঁদের পাশে দাঁড়ানোর জন্য বার বার আহ্বান জানিয়েছেন বিজেপি নেতৃত্বের একাংশ। এ বার আগামী কাল, রবিবার থেকে রাজ্য জুড়ে যে ‘পরিবর্তন যাত্রা’ শুরু করতে চলেছে বিজেপি, সেখানেও তারা তৃণমূল কংগ্রেস, সিপিএম-সহ অন্য দলগুলির কর্মীদের শামিল হওয়ার আহ্বান জানাল। কর্মসূচি উপলক্ষে শুক্রবার বাইপাসের ধারে একটি অভিজাত ক্লাবে প্রচার-সূচি ও ‘থিম সং’ প্রকাশ করেছে রাজ্য বিজেপি। সেই অনুষ্ঠানে একসঙ্গে ছিলেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক ভট্টাচার্য, বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী, কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত মজুমদার-সহ অন্যেরা। বিজেপির এই কর্মসূচিকে বিঁধেছে শাসক তৃণমূল।

এরই মধ্যে বিজেপিকে শর্তসাপেক্ষে পরিবর্তন যাত্রা ও সভার জন্য অনুমতি দিয়েছে কলকাতা হাই কোর্ট। বিচারপতি শুভ্রা ঘোষের নির্দেশ, ১ ও ২ মার্চ দুপুর ২টো থেকে সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত সর্বোচ্চ এক হাজার জনকে নিয়ে আইন-শৃঙ্খলা ও দূষণ-বিধি মেনে কর্মসূচি করা যাবে। কোর্টের আরও নির্দেশ, প্রয়োজনীয় পুলিশ মোতায়েন করবে রাজ্য। পাশাপাশি, হিংসা উস্কে দিতে পারে, এমন বক্তব্য, উস্কানিমূলক ভাষণ, অশালীন মন্তব্য করা যাবে না বলেও আদালত নির্দেশ দিয়েছে। প্রসঙ্গত, প্রশাসনের থেকে অনুমোদন না-মেলায় কর্মসূচি করার জন্য অনুমতি চেয়ে হাই কোর্টের দ্বারস্থ হয়েছিল বিজেপি।

রাজ্যের ২৫০টি বিধানসভা এলাকায় পাঁচ হাজার কিলোমিটার পথ অতিক্রম করে এই যাত্রা কলকাতার ব্রিগেড ময়দানে শেষ হওয়ার কথা। কর্মসূচির প্রচার-সূচি প্রকাশের পরে অন্য দলের কর্মীদেরও আহ্বান জানিয়েছেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি শমীক। তিনি বলেছেন, “এই যাত্রা শুধু বিজেপি কর্মীদের জন্য নয়। যে তৃণমূল কর্মীরা তৃণমূলের খারাপ সময়ে ঘাম-রক্ত ঝরিয়ে দলকে দাঁড় করিয়েও ক্ষমতার অমৃত-রস পানের সুযোগ পাননি, যে কংগ্রেস কর্মীরা জাতীয়তাবাদী ভাবনায় আস্থা রাখেন, সিপিএমের যে কর্মীরা আদর্শকে বুকে রাখেন, তাঁদের কাছেও অনুরোধ, পশ্চিমবঙ্গকে বাঁচাতে আপনারাও এই যাত্রায় শামিল হোন।”

‘পরিবর্তন যাত্রা’র উদ্বোধন উপলক্ষে রাজ্যে আসার কথা দলের সর্বভারতীয় সভাপতি নিতিন নবীন, কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ, প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিংহ-সহ দলের এক ঝাঁক কেন্দ্রীয় নেতার। পাশাপাশি, কেন্দ্রীয় প্রতিমন্ত্রী সুকান্ত জানিয়েছেন, প্রতি দিন ১১০ কিলোমিটার যাত্রা হবে। রাজ্যে ৩৮টি সাংগঠনিক জেলা ছুঁয়ে ৫৬টি বড় সভা ও ২৫০টি ছোট সভার শেষে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদীর জনসভা হবে।

আর ‘পরিবর্তন যাত্রা’র মাধ্যমে দলের প্রচলিত আখ্যানগুলিই যে রাজ্য জুড়ে সর্বাত্মক ভাবে ছড়িয়ে দেওয়ার চেষ্টা হবে, সেই ইঙ্গিত দিয়েছেন বিরোধী নেতা শুভেন্দু। তাঁর বক্তব্য, “তোষণ, অনুপ্রবেশ, নারী নির্যাতনের মতো বিষয় এখন রাজ্যের বর্তমান বাস্তব। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী বলেছেন, তাঁর গ্যারান্টি যে, বিজেপিকে ক্ষমতায় আনার মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের হৃত গৌরব পুনরুদ্ধার করা হবে। আমরা সেই বার্তাই গ্রাম, নগর, তল্লাটে ছড়িয়ে দিতে এই পরিবর্তন যাত্রা করছি।”

বিজেপির কর্মসূচিকে আমল দেয়নি তৃণমূল। রাজ্যের মন্ত্রী ব্রাত্য বসু বলেছেন, “এই ধরনের যাত্রা নতুন না কি? ২০২১-এও এমন যাত্রা করে, ২০০ পার করার (আসনে জয়) স্লোগান দিয়েছিল বিজেপি। তার পরে রাজ্যবাসীর প্রত্যাখ্যান দেখা গিয়েছে। এই বারেও তা-ই হবে!”

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

BJP

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy