এক দিকে টাকার দামের নাগাড়ে পড়ে চলা। অন্য দিকে চড়তে থাকা বাণিজ্য যুদ্ধের উত্তাপ। জোড়া ধাক্কায় সোমবার ৫০৫.১৩ পয়েন্ট নামল সেনসেক্স। টাকার দামের পতন রুখতে সম্প্রতি সরকারের একগুচ্ছ পদক্ষেপ সত্ত্বেও। সূচকটি দাঁড়াল ৩৭,৫৮৫.৫১ অঙ্কে। নিফ্‌টিও ১৩৭.৪৫ নেমে থিতু হয়েছে ১১,৩৭৭.৭৫-তে।

বিশেষজ্ঞদের অনেকেরই দাবি, অর্থনীতির স্বাস্থ্য ভাল আছে বলে বার বার যে আশ্বাস দিচ্ছেন অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলি, লগ্নিকারীরা তাতে তেমন ভরসা করছেন বলে মনে হয় না। বিশেষত সোমবারও যেখানে ডলারে টাকা আরও অনেকটা পড়েছে। দেশের বাজারের পেট্রল-ডিজেলের দামও দাঁড়িয়েছে নজিরবিহীন উচ্চতায়।

তাঁদের মতে, শুক্রবার কেন্দ্রের পাঁচ দফা দাওয়াইয়েও যে আশঙ্কা কাটেনি বাজারের, তা-ও এ দিন স্পষ্ট। কারণ অনেকেরই ধারণা, এগুলির হাত ধরে দেশে ডলারের জোগান ১,০০০ কোটি পর্যন্ত বাড়ানোর যে লক্ষ্য নিয়েছে কেন্দ্র, তা পূরণ হবে না।

ধাক্কা

• ডলারের সাপেক্ষে টাকার দামের আরও পড়ে যাওয়া।

• টাকার পতন রুখতে ও চলতি খাতে ঘাটতি ছাঁটতে কেন্দ্রের পাঁচ দফা দাওয়াই ডলারের জোগান বাড়ানোর পক্ষে যথেষ্ট বলে মনে না হওয়া।

• শেয়ারে লগ্নির গন্তব্য হিসেবে ভারত সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি কমিয়েছে গোল্ডম্যান স্যাক্স।

• ২০,০০০ কোটি ডলারের চিনা পণ্যে ট্রাম্পের কর বসানোর প্রস্তুতিতে বিশ্ব জুড়ে বাণিজ্য যুদ্ধের আঁচ বৃদ্ধি।

• এশিয়া ও ইউরোপের বেশির ভাগ শেয়ার সূচকের পতন।

তার উপর এ দিন শেয়ারে লগ্নির গন্তব্য হিসেবে ভারত সম্পর্কে দৃষ্টিভঙ্গি ছেঁটেছে গোল্ডম্যান স্যাক্স। তাদের মতে, দেশে এখনও শেয়ারের দাম যথেষ্ট চড়া। তার উপরে লোকসভা নির্বাচন পর্যন্ত নতুন করে এখানে লগ্নি করতে আগ্রহী নয় বিদেশি সংস্থাগুলি। এই অবস্থায় এখানে টাকা ঢালা তেমন লাভজনক নয় বলে তাদের দাবি।

বিশ্ব বাজারে বাণিজ্য যুদ্ধের মেঘ জমাট বেঁধেছে আমেরিকা ২০,০০০ কোটি ডলারের চিনা পণ্যে শীঘ্রই শুল্ক বসাবে বলে খবর ছড়ানোয়। অথচ ক’দিন আগেই চিনকে বৈঠকে বসতে আহ্বান জানিয়েছিল তারা। আর শুল্ক বসলে ছেড়ে দেবে না বেজিংও। এই আশঙ্কায় এ দিন ঝিমিয়ে ছিল এশিয়া, ইউরোপের বেশ কিছু শেয়ার সূচক।