দেশের পরিসংখ্যান ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক করা ও ঢেলে সাজানোর পক্ষে সওয়াল করলেন নীতি আয়োগের ভাইস চেয়ারম্যান রাজীব কুমার। তিনি জানান, বিশ্ব ব্যাঙ্কের সঙ্গে যোগাযোগ রেখে সেই প্রক্রিয়া শুরু করেছেন তাঁরা। কুমার বলেন, ‘‘এটা স্পষ্ট যে, দেশের পরিসংখ্যান ব্যবস্থাকে বিশ্ব মানের করে তুলতে হবে। এ জন্য তার আধুনিকীকরণ দরকার।’’ 

অতীতে রিজার্ভ ব্যাঙ্কের প্রাক্তন গভর্নর রঘুরাম রাজন, প্রাক্তন মুখ্য আর্থিক উপদেষ্টা অরবিন্দ সুব্রহ্মণ্যন-সহ অনেকেই জিডিপি হিসেবের পদ্ধতিতে নিয়ে ধোঁয়াশা দূর করার পক্ষে সওয়াল করেছিলেন। এর পাশাপাশি, কয়েক মাস আগে সংবাদ মাধ্যমে ন্যাশনাল স্যাম্পল সার্ভে অফিসের (এনএসএসও) ফাঁস হওয়া রিপোর্টে বলা হয়, নোট বাতিলের পরে দেশে বেকারত্বের হার গত সাড়ে চার দশকে সর্বোচ্চ হয়েছে। কেন্দ্র অবশ্য জানায়, ওই রিপোর্ট এখনও অসম্পূর্ণ। সব মিলিয়ে দেশের পরিসংখ্যান ব্যবস্থা নিয়ে একাধিক প্রশ্ন ওঠে।

এরই মধ্যে গত ২৩ মে লোকসভা নির্বাচনের ফল ঘোষণা দিন পরিসংখ্যান ও কর্মসূচি রূপায়ণ মন্ত্রক সিদ্ধান্ত নেয় কেন্দ্রীয় পরিসংখ্যান দফতর (সিএসও) এবং এনএসএসও-কে জাতীয় পরিসংখ্যান দফতরে (এনএসও) মিশিয়ে দেওয়া হবে। মন্ত্রকের অধীনেই সরাসরি কাজ করবে তারা। তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণের সঙ্গে যুক্ত দফতরগুলির কাজের সামঞ্জস্য বাড়ানোই যার উদ্দেশ্য। এই প্রেক্ষিতেই নীতি আয়োগের ভাইস চেয়ারম্যানের বক্তব্যকে তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করা হচ্ছে। কুমার বলেন, ‘‘সম্প্রতি বিশ্ব ব্যাঙ্কের এক প্রতিনিধি দল আমার সঙ্গে সাক্ষাৎ করে। পরিসংখ্যান ব্যবস্থাকে আরও আধুনিক করার জন্য কী কী করা যায় তা খতিয়ে দেখছে তারা। 

কুমার আরও জানান, চলতি অর্থবর্ষে কর ছাড়া অন্যান্য রাজস্বের দিকে বেশি জোর দেওয়ার চেষ্টা করছে কেন্দ্র। বিলগ্নিকরণের লক্ষ্যমাত্রা ৯০,০০০ কোটি টাকা ধার্য করা হয়েছে। জোর দেওয়া হচ্ছে রুগ্‌ণ রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাগুলির বেসরকারিকরণের দিকে। ইতিমধ্যেই অংশীদারি বিক্রির জন্য এয়ার ইন্ডিয়া-সহ ৩৪টি কেন্দ্রীয় রাষ্ট্রায়ত্ত সংস্থাকে চিহ্নিত করা হয়েছে। 

সংবাদ সংস্থা