যে অস্ত্রে বাজিমাৎ করছে নেট বাজার, এ বার সেই মোবাইল অ্যাপ্লিকেশন (অ্যাপ) দিয়েই জমি উদ্ধার করতে নেমেছে ছোট-বড় দোকান। অনলাইনে কেনাকাটার হুজুগ বেড়ে যাওয়ায় ইতিমধ্যেই যারা কোণঠাসা।
নেট দুনিয়ায় নিজেদের উপস্থিতি বাড়াতে শেষমেষ তাই প্রযুক্তির হাতই ধরছে খুচরো সংস্থাগুলি। লক্ষ্য, বেশি ক্রেতা টেনে ফের প্রতিযোগিতায় ফিরে আসা। তালিকায় রয়েছে রহেজা গোষ্ঠীর সংস্থা শপার্স স্টপও। দেশ জুড়ে ৭২টি দোকান যাদের।
সে ক্ষেত্রে নেট বাজারে যে সব ক্রেতা ঘোরাফেরা করছেন, তাঁদেরই নিশানায় রাখছে অ্যাপি, কুপন দুনিয়া ও গ্রুপ অন ডট কমের মতো অ্যাপ। এই অ্যাপের দৌলতে ক্রেতার হাতে পৌঁছে যাবে তাঁর পছন্দের জিনিস। আবার দোকানিও ফিরে পাবেন হারানো ক্রেতা। আর দোকানির থেকে কমিশন পাবে অ্যাপ তৈরির সংস্থা। যে কমিশন দিতে পিছপা নয় খুচরো সংস্থাগুলি। তাদের যুক্তি, যে পরিমাণ ব্যবসা ই-কমার্স সংস্থাগুলির কাছে হারাচ্ছে তারা, তার তুলনায় ওই কমিশন বাবদ গোনা টাকা নেহাতই তুচ্ছ।
সংশ্লিষ্ট মহল অবশ্য বলছে, প্রযুক্তির হাত ধরা ছাড়া অন্য কোনও পথও ছিল না রিটেল দুনিয়ার সামনে। শপার্স স্টপের অন্যতম কর্তা মনোহর কামাথের মতে, কেনাকাটার ধরন বদলাচ্ছে। তার সঙ্গে তাল মিলিয়ে অনলাইন বাজারে জিনিসপত্র কেনার যাবতীয় সুবিধা দিতেই হবে দোকানিদের। এবং সেই লক্ষ্যেই অনলাইন প্রযুক্তির জন্য ৬০ কোটি টাকা ঢালছে সংস্থা।
সব সংস্থার পক্ষে প্রযুক্তি খাতে এত পুঁজি ঢালা সহজ নয়। সে ক্ষেত্রে কুপন দুনিয়ার সিওও অঙ্কিতা ট্যানডনের দাবি ‘‘পুজোর মতো উৎসবের সময় কুপন দুনিয়ার ওয়েবসাইটে ১৫% বেশি ক্রেতা ভিড় জমিয়েছেন। তথ্য বলছে, এঁদের অধিকাংশই সে সব দোকান বা রেঁস্তোরায় গিয়েছেন যাদের সঙ্গে কুপন দুনিয়া জোট বেঁধেছে।’’ অ্যাপির নির্মাতা সংস্থা অ্যাপি মোবিকিউটির কার্তিক সাঙ্গভির দাবি, অনলাইন বাজারের ক্রেতাকে অফলাইন বাজারের দোকানে টেনে আনাই তাঁদের অ্যাপের বিশেষত্ব।
গত কয়েক বছর ধরেই রিটেল বাজারের ক্রেতারা ভিড় করছেন নেট বাজারে। যানজট-ভিড় ঠেলে দোকানে না ঘুরে, ল্যাপটপ বা মোবাইলের পর্দায় জিনিসের দাম যাচাই করেই কেনাকাটা সারছেন অনেকে। বিশেষত নতুন প্রজন্ম এই ‘হাই-টেক’ বাজারেই স্বচ্ছন্দ। বিশেষজ্ঞ সংস্থা ফরেস্টারের সমীক্ষা মাফিক, ২০১২-র তুলনায় ২০১৬ সালে ৪৫০% বিক্রি বাড়বে নেট বাজার। যে বাজারের রমরমা আগে বই, সিডি, ট্রেন ও প্লেনের টিকেট বিক্রিতেই সীমাবদ্ধ ছিল, এখন বাড়ি-গাড়ি কিনতেও সেখানে ঢুকছেন ক্রেতারা। রিটেল উপদেষ্টা টেকনোপ্যাকের দাবি, ২০২০ সালে দেশে অনলাইন বিক্রি ছোঁবে ৩,২০০ কোটি ডলার।
এর পাশে ম্লান ইঁট-কাঠ পাথরের দোকানের ছবিটা। ছোট-বড় মিলিয়ে ৬০ লক্ষ দোকানের বিক্রি কমেছে। রিটেলার্স অ্যাসোসিয়েশন অব ইন্ডিয়ার (আরএআই) প্রধান কুমার রাজাগোপালন জানান, মাত্রাতিরিক্ত ছাড় দিয়ে ক্রেতা টানছে নেট বাজার। ব্যবসায় লোকসান করেও তারা ছাড় দিতে পারছে কারণ সেখানে ঢুকছে বিপুল বিদেশি পুঁজি। অথচ খুচরো বাজারে বাইরের পুঁজি নেই, দোকানের জায়গার দামও কমছে না। ভাড়াও চড়া। অনলাইন সংস্থার মতো প্রায় কর্মীহীন হয়ে দোকান চালানো অসম্ভব। আরএআই-র দাবি, বেতন, ভাড়া ও বিপণনের টাকা গুণতে গুণতে লভ্যাংশ ঠেকেছে প্রায় তলানিতে।