Advertisement
E-Paper

থমকে থাকা সংস্কার নিয়ে ফের সুর চড়াল শিল্পমহল

ক্ষমতায় আসার পরে ছ’মাস কেটে গিয়েছে। কিন্তু এখনও সে ভাবে সংস্কারের পথে পা বাড়াতে পারেনি মোদী সরকার। এবং তা নিয়ে ইতিমধ্যেই উদ্বেগ প্রকাশ করতে শুরু করেছে শিল্পমহল। উদ্বেগের সেই সুরে এ বার নয়া সংযোজন ফিকি-র নতুন প্রেসিডেন্ট জ্যোৎস্না সুরি। ললিত সুরি হসপিটালিটি গ্রুপের চেয়ারপার্সন এবং ম্যানেজিং ডিরেক্টর জ্যোৎস্না সুরির মতে, আর্থিক সংস্কারের কাজ এগোলে এবং সেই সঙ্গে সুদ কমলে তবেই একমাত্র নতুন করে লগ্নি করবেন শিল্পপতিরা।

প্রেমাংশু চৌধুরী

শেষ আপডেট: ২৪ ডিসেম্বর ২০১৪ ০২:৪৯
সম্প্রতি ফিকির সভায় বক্তৃতা দিচ্ছেন জ্যোৎস্না সুরি।

সম্প্রতি ফিকির সভায় বক্তৃতা দিচ্ছেন জ্যোৎস্না সুরি।

ক্ষমতায় আসার পরে ছ’মাস কেটে গিয়েছে। কিন্তু এখনও সে ভাবে সংস্কারের পথে পা বাড়াতে পারেনি মোদী সরকার। এবং তা নিয়ে ইতিমধ্যেই উদ্বেগ প্রকাশ করতে শুরু করেছে শিল্পমহল। উদ্বেগের সেই সুরে এ বার নয়া সংযোজন ফিকি-র নতুন প্রেসিডেন্ট জ্যোৎস্না সুরি।

ললিত সুরি হসপিটালিটি গ্রুপের চেয়ারপার্সন এবং ম্যানেজিং ডিরেক্টর জ্যোৎস্না সুরির মতে, আর্থিক সংস্কারের কাজ এগোলে এবং সেই সঙ্গে সুদ কমলে তবেই একমাত্র নতুন করে লগ্নি করবেন শিল্পপতিরা।

একক সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে কেন্দ্রে সরকার গড়ার পরেও সংসদে সংস্কারের বিভিন্ন বিল (পণ্য-পরিষেবা কর, বিমায় প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগের ঊর্ধ্বসীমা বৃদ্ধি ইত্যাদি) পাশ করাতে হিমসিম খাচ্ছে মোদী সরকার। বারবার সংস্কারের রথের চাকা বসে যাচ্ছে রাজনীতির পাঁকে। তার উপর আবার চড়া সুদের জমানা এখনও বজায় রেখেছে রিজার্ভ ব্যাঙ্ক। আর এই জোড়া কারণেই উদ্বিগ্ন বোধ করছে শিল্প। ঝিমিয়ে থাকা অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে দ্রুত সংস্কারের দাওয়াই যে একান্ত জরুরি, তা ক্রমাগত বলেই চলেছে তারা। একই সঙ্গে তাদের দাবি, মূল্যবৃদ্ধির হার নেমে আসার পরে এ বার অন্তত সুদ কমানোর রাস্তা প্রশস্ত করুক শীর্ষ ব্যাঙ্ক। নইলে মূলধন সংগ্রহের চড়া খরচ বাধা হয়ে দাঁড়াচ্ছে তাদের বিনিয়োগের পথে।

মঙ্গলবার উদ্বেগের এই সুরই ফুটে উঠেছে সুরির গলায়। ফিকি-র শীর্ষ পদের দায়িত্ব নেওয়ার পরে এ দিন আনন্দবাজারকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “সব রাজনৈতিক দলকে আত্মসমীক্ষা করতে হবে। উঠতে হবে রাজনৈতিক ফায়দার ঊর্ধ্বে। কাউকে আপস করতে বলছি না আমি। তবে নেতিবাচক বিরোধিতাও ঠিক নয়।” উল্লেখ্য, শুধু রাজনৈতিক স্বার্থে সংস্কারের বিরোধিতা না-করার জন্য বিরোধী দলগুলিকে আহ্বান জানিয়েছেন অর্থমন্ত্রী অরুণ জেটলিও।

চড়া সুদের বিষয়ে শিল্পমহলের দুশ্চিন্তা তুলে ধরে সুরি বলেন, নতুন বিনিয়োগ না-হওয়ার অনেক কারণ আছে। তার অন্যতম চড়া সুদের হার। লগ্নির জন্য ঋণ মারফত পুঁজি সংগ্রহের খরচ মাত্রাতিরিক্ত।” তাঁর মতে, “ঋণের খরচ কিছুটা কমলে, তবেই নতুন লগ্নি আসা শুরু হবে।’’

বেহাল অর্থনীতিকে চাঙ্গা করতে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী যে শুরু থেকেই কোমর বেঁধে নেমেছেন, তা নিয়ে শিল্পমহলের তেমন সংশয় নেই। তাদের একটা বড় অংশ মনে করে, গত কয়েক বছরে নীতিপঙ্গুত্বের কারণে শিল্পমহলকে যে-হতাশা গ্রাস করেছিল, তার অনেকটাই কেটেছে। সংস্কারের বিষয়ে কেন্দ্র যে-আন্তরিক, তা-ও বারবার বোঝাতে চেয়েছে মোদী সরকার। কখনও খোদ প্রধানমন্ত্রী বলেছেন তার পথে রাজনীতিকে বাধা হতে না-দেওয়ার কথা, তো কখনও বিমা বিল পাশ করাতে প্রয়োজনে অর্ডিন্যান্স জারির পথে হাঁটার কথা বলেছেন জেটলি। কিন্তু শিল্পমহল মনে করে, শুধু কথায় চিঁড়ে ভিজবে না। যে-ভাবে হোক এগিয়ে নিয়ে যেতে হবে সংস্কার কর্মসূচি। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব পাশ করাতে হবে বিমা বিল। চালু করতে হবে পণ্য-পরিষেবা কর। কার্যকর করতে হবে নতুন শ্রম সংস্কার আইন। সরল করতে হবে জমি অধিগ্রহণের প্রক্রিয়া। একমাত্র তবেই বিনিয়োগে আগ্রহী হবে শিল্প।

সুরির কথায়, “প্রধানমন্ত্রী অর্থনীতির পুনরুজ্জীবনের কথা বলছেন। আর্থিক উন্নতির জন্য জাতীয় কর্মসূচি নিতে হবে। সেখানে সহযোগিতা করতে হবে সবক’টি দলকেই। এ ছাড়া আর কোনও রাস্তা নেই।”

থমকে যাওয়া সংস্কার নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশের ফাঁকে নিজের কলকাতা-যোগের কথাও অবশ্য মনে করাতে ভোলেননি সুরি। শহরের ললিত গ্রেট ইস্টার্ন তাঁর গোষ্ঠীরই হোটেল। তাঁর দাবি, “গোষ্ঠীর সব হোটেলের মধ্যে ললিত গ্রেট ইস্টার্নই আমার মনের সবচেয়ে কাছের। আমার ভালবাসা ও পরিশ্রমের ফসল।”

প্রসঙ্গত, সুরির আগে ফিকি-র শীর্ষপদে এসেছিলেন এক জনই মহিলা। এইচএসবিসি-ইন্ডিয়ার কর্ণধার নয়নালাল কিদওয়াই। সুরি বলেন, “ফিকি, সিআইআই, অ্যাসোচ্যাম দেশের তিন প্রধান বণিকসভার মোট বয়স ৩০০ বছর পেরিয়েছে। অথচ এই ৩০০ বছরে আমাকে নিয়ে মহিলা প্রেসিডেন্ট মাত্র তিন জন। আমাদের দেশে ব্যবসার শীর্ষ স্তরে মহিলার সংখ্যা এখনও খুব কম।” তাঁর যুক্তি, “এ ক্ষেত্রে পুরুষ ও মহিলার মধ্যে কোনও রকম পার্থক্য নেই। ফিকি-র কর্ণধার হিসেবে রাজন মিত্তল বা সিদ্ধার্থ বিড়লাকে যে-সমস্যায় পড়তে হয়, সেই একই ধরনের সমস্যার মোকাবিলা করতে হয় আমাকেও।”

premangshu chowdhury jyotsna suri narendra modi economic reforms
Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy