Advertisement
E-Paper

সন্তান পালনের বাজারেও নজর স্টার্ট-আপের

সন্তানের সুস্থ বিকাশ ও তার যথাযথ প্রতিপালনে মরিয়া ফেসবুক প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জুকেরবার্গ থেকে শুরু করে সাধারণ অভিভাবক। বাচ্চাদের স্বাস্থ্য, পড়াশোনা, খেলাধুলো, বিনোদন সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য হাতের মুঠোয় রাখতে চান নতুন প্রজন্মের বাবা-মা।

গার্গী গুহঠাকুরতা

শেষ আপডেট: ২৫ জানুয়ারি ২০১৬ ০১:৪৫

সন্তানের সুস্থ বিকাশ ও তার যথাযথ প্রতিপালনে মরিয়া ফেসবুক প্রতিষ্ঠাতা মার্ক জুকেরবার্গ থেকে শুরু করে সাধারণ অভিভাবক। বাচ্চাদের স্বাস্থ্য, পড়াশোনা, খেলাধুলো, বিনোদন সংক্রান্ত যাবতীয় তথ্য হাতের মুঠোয় রাখতে চান নতুন প্রজন্মের বাবা-মা। আর ক্ষুদেদের এই বাজার ধরতে ঝাঁপাচ্ছে স্টার্ট-আপ বা সদ্য তৈরি সংস্থা।

সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, সন্তান পালন সংক্রান্ত পরামর্শের সরবরাহ, তা সে ব্লগের মাধ্যমেই হোক বা মোবাইল অ্যাপে, লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়তে থাকা চাহিদার তুলনায় এখনও কম। আর সেই ঘাটতি তৈরি করে দিচ্ছে বাণিজ্যিক সম্ভাবনা। পরিসংখ্যান বলছে, শুধুমাত্র ‘পেরেন্টিং’ বা সন্তান পালন সংক্রান্ত তথ্যের বাজারের মাপ ৬০০ কোটি ডলার। আর ছোটদের জিনিসপত্র ও বিভিন্ন পরিষেবা ধরলে সেই বাজারের মাপ ২০০০ কোটি ডলার (১ লক্ষ ৩৬ হাজার কোটি টাকা)। আর তা ২০ শতাংশ হারে বাড়ছে।

ব্যবসার এই মাপ ও বৃদ্ধির হারই গড়ে দিচ্ছে সংশ্লিষ্ট স্টার্ট-আপ সংস্থাগুলির মাথা তোলার শক্ত ভিত। পেরেন্ট সার্কল, ফার্স্ট ক্রাই, ক্লেভার কিডস, ফ্লিন্টোবক্স, মাইসিটিফরকিড্‌স, ইটসমাইচাইল্ড, জেনপেরেন্ট-সহ নানা স্টার্ট-আপের লম্বা তালিকা তার প্রমাণ।

সন্তানের পড়াশোনা, স্বাস্থ্য, নিরাপত্তার মতো বিষয়ে নজর রাখতে তৈরি হচ্ছে অ্যাপ বা ব্লগ। বাচ্চাদের বিভিন্ন সমস্যার হাতে গরম উত্তর দিতে তৈরি স্টার্ট-আপ জেনপেরেন্ট ও পেরেন্ট সার্কলের মতো স্টার্ট-আপ। ২০১৪ সালে তৈরি জেনপেরেন্টের দাবি, শুধু মাত্র স্বাস্থ্য বা শিক্ষা সংক্রান্ত প্রশ্নই নয়। যৌন নির্যাতন, মানসিক চাপ ও অবসাদের মতো সমস্যা নিয়েও আলোচনার সুযোগ রয়েছে এই সংস্থায়। এমনকী বাবা-মায়েদের বিপুল সাড়া দেখে বড় শহর ছাড়িয়ে দ্বিতীয় ও তৃতীয় স্তরের শহরেও পৌঁছে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে তারা।

সিডবি ও অন্যান্য সংস্থা থেকে ২০ কোটি টাকা পুঁজি পাওয়া সংস্থা মাইসিটিফরকিড্‌স-এর অন্যতম কর্তা বিশাল গুপ্তের মতে, মোট ব্যবসার ৪৫% আসে পেরেন্টিং ব্লগ থেকেই। ব্লগের পাশাপাশি ছোটদের জন্য বিভিন্ন অনুষ্ঠানের খোঁজ-খবরও দেয় গুড়গাওয়ের এই সংস্থা। নতুন প্রজন্মের বাবা-মায়েরা যে এ ধরনের পরিষেবা পাওয়ার জন্য মুখিয়ে রয়েছেন, তা এই সংস্থার ব্যবসার অঙ্কতেই স্পষ্ট। ২০১৪-১৫ সালে ৪ কোটি টাকার ব্যবসা করে ফেলেছে তারা। আর বহু ক্ষেত্রেই এই ব্যবসার বীজ বুনে দিয়েছে সন্তান পালনে নিত্যদিনের সমস্যা।

ফ্লিন্টোবক্সের প্রতিষ্ঠাতা বিজয়বাবু গাঁধী ও অরুণপ্রসাদ দুরাইরাজের দাবি, বাচ্চাদের জন্য সঠিক খেলনার অভাবই তাঁদের ব্যবসার পুঁজি। নিজেদের অভিজ্ঞতা থেকে তাঁরা জেনেছেন এই সমস্যা। শুধু খেলা নয়। সঙ্গে চাই নতুন কিছু তৈরির আনন্দ, নতুন কিছু শেখার মজা। আর এই ভাবনা থেকেই প্রতি মাসে নিত্যনতুন খেলনার জোগান দিচ্ছে ফ্লিন্টোবক্স। লাফিয়ে বাড়ছে ক্রেতা।

একই ভাবে ‘ইটসমাইচাইল্ড’ অ্যাপের স্রষ্টা দুই বাঙালি অদ্রিশ চক্রবর্তী ও অনিমিখ সেন বছর তিনেক আগে নিজেদের টিন-এজ সন্তান বড় করতে গিয়ে পদে পদে সমস্যায় পড়েছিলেন। সেই অভিজ্ঞতাকে পুঁজি করেই তৈরি করেছেন এই পেরেন্টিং অ্যাপ। তাঁদের দাবি, এই প্রজন্মের সন্তান পালনের জন্য ডিজিটাল হাতিয়ার জরুরি। সেই সূত্রেই অ্যাপ। মূলত বাচ্চাদের নিরাপত্তার জন্য। কোথায় গেল তারা? স্কুল পালিয়ে কোথাও গেল কি না? বন্ধুদের সঙ্গে যেখানে গেল, সেই জায়গাটা কতটা নিরাপদ? সব প্রশ্নের উত্তর দেবে এটি।

সন্তান পালনের সহায়ক হিসেবে অ্যাপের সংখ্যা এখনও বেশি নয়। তবে সংশ্লিষ্ট মহলের দাবি, ডিজিটাল দুনিয়ার সঙ্গে ওতপ্রোত ভাবে জড়িয়ে থাকা নতুন প্রজন্মের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে চাই ডিজিটাল হাতিয়ার। যে-হাতিয়ার হতে পারে পেরেন্টিং অ্যাপ। জেনারেশন নেক্সট-এর বাস্তব দুনিয়ার অনেকটাই জুড়ে নেট-দুনিয়া। অনলাইনে চ্যাট বা সোশাল মিডিয়ায় বন্ধু পাতানো— নেট জগতে তাদের অবাধ বিচরণ। বাবা-মায়ের হাতে স্মার্ট ফোন। ছেলেমেয়ের হাতেও। দু’ইয়ের মধ্যে ডিজিটাল সেতু তৈরি করতে পারে পেরেন্টিং অ্যাপ-ই।

Advertisement

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy