এয়ার ইন্ডিয়ার চাকরি ছেড়ে মাত্র চার মাস আগে স্পাইসজেটে যোগ দিয়েছিলেন তিনি। স্পাইসজেটের সেই তরুণ টেকনিশিয়ান রোহিত বীরেন্দ্র পাণ্ডে (২২) কলকাতা বিমানবন্দরের ভিতরে দুর্ঘটনায় মারা গেলেন। তাঁর বাড়ি মুম্বইয়ের কান্দিবলীতে।

বিমানবন্দর সূত্রের খবর, উড়ন্ত বিমানের চাকা পেটের যে-গর্তে থাকে, তার দু’টি পাল্লা। চাকা মাটিতে থাকাকালীন পাল্লা দু’টি খোলা থাকে। মঙ্গলবার রাতে দাঁড়িয়ে থাকা একটি বিমানের চাকা-ঘরের দরজার পাল্লা খোলাই ছিল। রোহিত সেই বিমানের পিছনে ডান দিকের চাকা-ঘরে মাথা ঢুকিয়ে কিছু একটা পরীক্ষা করছিলেন। আচমকা পাল্লা দু’টি বন্ধ হয়ে যায়। পাল্লার চাপে গর্তে ঢুকে যায় তাঁর মাথা। চিকিৎসক এসে জানান, ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয়েছে রোহিতের।

বেলা ৩টে নাগাদ স্পাইসের সিআরজে-৪০০ বিমানটি শিলচর রওনা হচ্ছিল। রানওয়ের কাছে যাওয়ার পরে পাইলট ত্রুটি দেখতে পেয়ে বিমান নিয়ে ফিরে আসেন ৩২ নম্বর বে-তে। পরে ঠিক হয়, মেরামতির পরে বিমানটি যাত্রীদের নিয়ে জবলপুর যাবে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেটা সম্ভব হয়নি। রাতে বিমান সারানোর কাজ শুরু হয়। আর তখনই এই বিপত্তি। 

কলকাতা বিমানবন্দরের অধিকর্তা কৌশিক ভট্টাচার্য বলেন, ‘‘খুবই মর্মান্তিক ঘটনা। এখানে এমনটা আগে কখনও ঘটেনি।’’ বিষয়টি নিয়ে ডিরেক্টরেট জেনারেল অব সিভিল অ্যাভিয়েশন (ডিজিসিএ)-এর তদন্ত করার কথা। তবে এই ঘটনায় কোনও গাফিলতি বা চক্রান্ত আছে কি না, বিমানবন্দরের পুলিশ প্রথমে তা খতিয়ে দেখছে। রোহিত আদৌ স্পাইসের কর্মী কি না, প্রশ্ন তুলেছেন বিমানবন্দরের অফিসারদের একাংশ। বলা হচ্ছে, সদ্য কলেজ থেকে আসা শিক্ষানবিশ ছিলেন তিনি। তবে স্পাইসজেট জানিয়েছে, তারা রোহিতের পরিবারের পাশে দাঁড়াবে। বিমানবন্দর-কর্তৃপক্ষ ও ডিজিসিএ-র কর্তারা রাতে ঘটনাস্থলে যান।

তপসিয়ায় কাকা-পিসিমার বাড়িতে থাকতেন রোহিত। বাবা বছর তিনেক আগে ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মারা গিয়েছেন। মুম্বইয়ের বাড়িতে আছেন মা ও দুই বোন। গাফিলতির অভিযোগ তুলছেন রোহিতের আত্মীয়েরা। তাঁদের অভিযোগ, দুই পাল্লার চাপে আটকে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে রোহিতকে উদ্ধার করা হয়নি। বিমানবন্দরের খবর, ঘটনার পরে পরেই রোহিতের সহকর্মীরা পাল্লা খোলার চেষ্টা করেন। কিন্তু পাল্লা দু’টি এমন ভাবে চেপে বসেছিল যে, সুইচের সাহায্যে খোলা যায়নি। হাত দিয়ে টেনেও সরানো যায়নি। দমকল ও অ্যাম্বুল্যান্স চলে আসে। হাতুড়ি মেরে পাল্লা সরিয়ে উদ্ধার করা হয় রোহিতকে। পরে পাল্লা কাটা হয় গ্যাস-কাটার দিয়ে। 

দুপুরে আরজি কর হাসপাতালে ময়না-তদন্তের পরে রোহিতের মরদেহ বাড়ির লোকেদের হাতে দেওয়া হয়। রোহিতের খুড়তুতো ভাই সন্দীপ পাণ্ডে এবং পরিবারের অন্যেরা রাতে স্পাইসের উড়ানেই নিথর রোহিতকে নিয়ে মুম্বই উড়ে যান।

এবার শুধু খবর পড়া নয়, খবর দেখাও।সাবস্ক্রাইব করুনআমাদেরYouTube Channel - এ।