সিটু অনুমোদিত বাম ট্যাক্সি সংগঠন এবং একটি অ্যাপ-ক্যাব সংগঠনের ডাকা ধর্মঘটের জেরে আজ, মঙ্গলবার হয়রানির মুখে পড়তে পারেন অসংখ্য যাত্রী।

পেট্রোল-ডিজ়েলের দাম বাড়ায় ভাড়া বৃদ্ধি এবং ‘পুলিশি জুলুম’ বন্ধের মতো একাধিক দাবি নিয়ে মঙ্গল ও বুধবার, টানা দু’দিন ট্যাক্সি ধর্মঘটের ডাক দিয়েছে সিটু অনুমোদিত ট্যাক্সি সংগঠন ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল ট্যাক্সি ওয়ার্কার্স ফেডারেশন’। সেই সঙ্গেই অ্যাপ-ক্যাব চালকদের প্রাপ্য বাড়ানোর দাবিতে এক দিনের ধর্মঘটে শামিল হচ্ছে ‘কলকাতা ওলা-উব্‌র অ্যাপ-ক্যাব অপারেটর্স অ্যান্ড ড্রাইভার্স ইউনিয়ন’। দু’টি সংগঠনের জোড়া ধর্মঘটের জেরে ভোগান্তির আশঙ্কা তৈরি হয়েছে শহরে। 

মঙ্গলবার দুপুরে ওই দু’টি সংগঠনের প্রতিনিধিরা মিছিল করে শিয়ালদহ ট্র্যাফিক গার্ডে স্মারকলিপি দিতে যাবেন। সিটু অনুমোদিত ট্যাক্সিচালক ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক দেবাংশু নন্দী বলেন, ‘‘ডিজ়েলের মূল্য বৃদ্ধি, পুলিশি জুলুম, বিমার খরচ বৃদ্ধি এবং নতুন পরিবহণ আইনের বিরোধিতায় ধর্মঘট ডাকা হয়েছে। যাত্রীদের অসুবিধা হলেও এক প্রকার বাধ্য হয়েই ধর্মঘট ডাকতে হয়েছে।’’

সিটুর অ্যাপ-ক্যাব চালক সংগঠনের সভাপতি ইন্দ্রজিৎ ঘোষ বলেন, ‘‘দীর্ঘদিন ধরেই চালক ও মালিকদের প্রাপ্য বাড়াচ্ছে না অ্যাপ-ক্যাব সংস্থাগুলি। প্রতিবাদ করলে চালকদের আইডি ব্লক করে দেওয়া হচ্ছে। সেই জন্যই ধর্মঘট।’’

‘বেঙ্গল ট্যাক্সি অ্যাসোসিয়েশন’ শুরুতে তিন দিনের ধর্মঘট ডাকলেও শেষ মুহূর্তে অবশ্য তা প্রত্যাহার করেছে। এ দিন সংগঠনের সাধারণ সম্পাদক বিমল গুহ বলেন, ‘‘ট্যাক্সিচালক ও পরিবহণ শ্রমিকদের দাবিদাওয়া নিয়ে পরিবহণ সচিবের সঙ্গে আলোচনা হয়েছে। পুলিশি জুলুম বন্ধ করা-সহ অন্যান্য দাবি খতিয়ে দেখার আশ্বাস মেলায় আমরা ধর্মঘট প্রত্যাহার করেছি।’’

সিটুর ডাকা ধর্মঘটে শামিল হচ্ছে না ‘প্রোগ্রেসিভ ট্যাক্সি মেনস অ্যাসোসিয়েশন’ এবং এআইটিইউসি-র ট্যাক্সি সংগঠনও। ‘ওয়েস্ট বেঙ্গল ট্যাক্সি অপারেটর্স কোঅর্ডিনেশন কমিটি’র আহ্বায়ক নওলকিশোর শ্রীবাস্তব বলেন, ‘‘মাত্র এক মাস আগেই এই দাবিতে ধর্মঘট হয়েছে। তাই আবার ধর্মঘট সমর্থন করছি না।’’