E-Paper

দেড় কোটি বকেয়া, রোগিণীর বাড়ি ফেরা অনিশ্চিতই

প্রায় সাড়ে চার বছর আগে দুর্ঘটনায় আহত স্ত্রীকে ওই হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছিলেন ওই ব্যক্তি। স্ত্রী কিছুটা সুস্থ হওয়ার পরেও তিনি তাঁকে বাড়ি নিয়ে যাননি। দীর্ঘদিন পরে ওই মহিলাকে সরকারি আশ্রয়ে স্থানান্তরিত করার আর্জি জানিয়ে মামলা করেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ।

নিজস্ব সংবাদদাতা

শেষ আপডেট: ১১ মার্চ ২০২৬ ০৭:২০

—প্রতিনিধিত্বমূলক চিত্র।

প্রায় সাড়ে চার বছর ধরে বেসরকারি হাসপাতালে পড়ে আছেন মহিলা। কবে বাড়ি ফিরবেন অথবা আদৌ ফিরবেন কিনা, তার নিষ্পত্তি মঙ্গলবারেও হল না কলকাতা হাই কোর্টে। এ দিন অবশ্য বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের এজলাসে উপস্থিত হয়েছিলেন ওই মহিলার স্বামী। তবে তিনি সাফ জানান, হাসপাতালের বকেয়া বিল মেটাতে তিনি অপারগ। ই এম বাইপাসের ওই হাসপাতালের বিরুদ্ধে চিকিৎসায় গাফিলতির অভিযোগও আনেন তিনি। যদিও স্বামীর ভূমিকা নিয়েই প্রশ্ন তুলেছেন বিচারপতি রাও। তিনি বলেন, ‘‘আপনি স্বামী হয়ে অসুস্থ স্ত্রীর প্রতি কী দায়িত্ব পালন করেছেন? এত দিন হয়ে গেলেও স্ত্রীকে বাড়ি ফেরাতে উদ্যোগী হননি?’’

প্রসঙ্গত, প্রায় সাড়ে চার বছর আগে দুর্ঘটনায় আহত স্ত্রীকে ওই হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছিলেন ওই ব্যক্তি। স্ত্রী কিছুটা সুস্থ হওয়ার পরেও তিনি তাঁকে বাড়ি নিয়ে যাননি। দীর্ঘদিন পরে ওই মহিলাকে সরকারি আশ্রয়ে স্থানান্তরিত করার আর্জি জানিয়ে মামলা করেন হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। এ দিন কোর্টে হাজির হয়ে মহিলার স্বামী দাবি করেন, তিনি স্ত্রীকে ওই হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসকেরা আশ্বাস দিয়েছিলেন, সব ঠিক হয়ে যাবে। কিন্তু অস্ত্রোপচারের পরে দেখা যায়, মহিলা হাঁটতে পারছেন না। কথা বলার শক্তিও হারিয়েছেন। এর পরে স্বামী তাঁকে সরকারি হাসপাতালে স্থানান্তরিত করতে চাইলে বেসরকারি হাসপাতাল মোটা অঙ্কের বিল দাবি করে। মহিলার স্বামী জানান, তিনি আর্থিক ভাবে দুর্বল হওয়ায় ওই টাকা মেটাতে পারেননি।

যদিও বেসরকারি হাসপাতালটির আইনজীবীর দাবি, মাথায় গুরুতর চোট নিয়ে ভর্তি হওয়া ওই মহিলার যথাযথ চিকিৎসা করা হয়েছিল। এ পর্যন্ত হাসপাতাল খরচ করেছে প্রায় দেড় কোটি টাকা। বর্তমানে মহিলা হুইলচেয়ারে চলাফেরা করেন। বাকশক্তি হারালেও তিনি অন্যের সাহায্যে খাওয়া এবং দৈনন্দিন কাজ করতে পারেন। এই অবস্থায় বাড়িতে বা সরকারি হাসপাতালে মহিলাকে স্থানান্তরের নির্দেশ দিক কোর্ট।

রাজ্যের আইনজীবী জানান, রাজ্যে মোট ৭০টি আশ্রয় থাকলেও সেখানে সর্বক্ষণের জন্য চিকিৎসক থাকেন না। সব পক্ষের বক্তব্য শুনে বিচারপতি কৃষ্ণ রাওয়ের নির্দেশ, এক জন সিনিয়র চিকিৎসককে নিয়োগ করবেন কলকাতা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালের সুপার। তিনি ওই বেসরকারি হাসপাতালে গিয়ে মহিলার স্বাস্থ্যের বিবেচনা করবেন এবং তাঁর চিকিৎসা সংক্রান্ত কী কী প্রয়োজন, তা নির্ধারণ করে দু’সপ্তাহের মধ্যে রিপোর্ট দেবেন। ৩০ মার্চ ফের এই মামলার শুনানি রয়েছে।

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Money due Hospital .patient Calcutta High Court

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy