বাঁশদ্রোণী-হরিদেবপুর-রেনিয়া এলাকার কুখ্যাত দুষ্কৃতী বিশ্বজিৎ সর্দার ওরফে বাবুসোনাকে গুলি করে খুন করল দুষ্কৃতীরা। বৃহস্পতিবার রাতে পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে তাঁকে গুলি করে খুন করা হয়েছে। পুলিশের খাতায় খুন, তোলাবাজি-সহ একাধিক অভিযোগ ছিল তাঁর বিরুদ্ধে। মাস দু’য়েক আগে জেল থেকে ছাড়া পেয়েছিলেন তিনি। স্থানীয় নান্টি গ্যাং-এর সঙ্গে সংঘাতের জেরেই বাবুসোনা খুন হয়েছেন বলে পুলিশের প্রাথমিক অনুমান। পুলিশ রাজা নামে বাবুসোনার এক ঘনিষ্ঠ সহযোগীকে আটক করেছে। শুরু হয়েছে তদন্ত।

রেনিয়া সর্দারপাড়ার ৩০ ফুট এলাকায় বাড়ি বাবুসোনার। বৃহস্পতিবার রাতে একাই বাড়ি ফিরছিলেন তিনি। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে খবর, রাস্তায় মালিপাড়ার তাঁকে ঘিরে ধরে ৩ জন। পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জ থেকে গুলি করা হয়। ঘটনাস্থলেই লুটিয়ে পড়েন বাবুসোনা। পরে এম আর বাঙুর হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হলে চিকিৎসকরা তাঁকে মৃত ঘোষণা করেন।

বছর দু’য়েক আগে হরিদেবপুরে একটি পানশালায় গুলি চালানোর ঘটনায় নাম জড়িয়েছিল স্থানীয় দুষ্কৃতী নান্টির। বাঁশদ্রোনী-হরিদেবপুর-রেনিয়া এলাকায় জমি বাড়ির দালালি, প্রোমোটিং-এ তোলাবাজি ঘিরে এই নান্টির সঙ্গে বাবুসোনার দীর্ঘদিনের বিবাদ পুলিশ এবং এলাকাবাসীর অজানা নয়। বিভিন্ন সময়ে দু’জনের মধ্যে গ্যাং-ওয়ারের খবর সামনে এসেছে। সম্প্রতি এলাকার একটি পুকুর থেকে নান্টির ভাইয়ের মৃতদেহ উদ্ধার হয়। এলাকাবাসীর অনেকেই মনে করেন, নান্টির ভাইকে খুন করা হয়েছিল এবং তার পিছনে বাবুসোনার হাত থাকতে পারে। যদিও পুলিশ তখন সে কথা মানতে চায়নি। তদন্তকারীদের দাবি ছিল, জলে ডুবেই মৃত্যু হয়েছিল নান্টির ভাইয়ের।

আরও পড়ুন: আপাতত ঠাঁই তিহাড়েই, দু’সপ্তাহের জন্য চিদম্বরমকে জেলে পাঠাল আদালত

আরও পডু়ন: ‘নরম’ মাটি, ইঙ্গিত আগেই পেয়েছিল কলকাতা পুরসভা

তবে পুলিশের একটি সূত্র জানিয়েছে, সম্প্রতি দু’জনের মধ্যে বোঝাপড়া তৈরি হয়েছিল। পুরনো বিবাদ মিটিয়ে দু’জন কাছাকাছি এসেছিল এবং এক সঙ্গে কাজ করতে শুরু করেছিল। দুই গ্যাংয়ের সূত্রেই পুলিশ এই খবর পেয়েছিল। কিন্তু বাবুসোনার মৃত্যুর পর ফের সেই গ্যাং-ওয়ারকেই সন্দেহ করছে পুলিশ।