• নিজস্ব সংবাদদাতা
সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

বিয়ের প্রস্তাব প্রতাখ্যাত হওয়ায় নিজের পুরুষাঙ্গ ব্লেড দিয়ে কাটল যুবক

Injury
—প্রতীকী ছবি।

নিজেরই পুরুষাঙ্গ ব্লেড চালিয়ে আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি এক যুবক। রবিবার রাতে হুগলির গুপ্তিপাড়ার বাসিন্দা ওই যুবক এই কাণ্ড ঘটান। কালনা সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতাল থেকে কলকাতার এসএসকেএম-এ স্থানান্তর করা হয়েছে তাঁকে। কালনা হাসপাতালের চিকিৎসকের দাবি, ওই যুবক স্বীকার করেছেন, এই কাণ্ড তিনিই ঘটিয়েছেন। 

পুলিশের প্রাথমিক অনুমান, এক তরুণীর বাড়িতে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে প্রত্যাখ্যাত হওয়ায় হতাশায় তিনি ওই কাণ্ড ঘটিয়েছেন। পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গিয়েছে, বছর পঁচিশের ওই যুবক গুপ্তিপাড়া ১ পঞ্চায়েত এলাকায় থাকেন। ছোটখাট কাজ করেন। রবিবার রাতে বাড়িতে তিনি মায়ের পাশে ঘুমিয়েছিলেন। তাঁর মায়ের দাবি, সোমবার ভোরে ছেলের আর্তনাদ শুনে তিনি চমকে ওঠেন। দেখেন রক্তে ভেসে যাচ্ছেন ওই যুবক। খবর পেয়ে আসেন প্রতিবেশীরা। পুরুষাঙ্গে গভীর ক্ষত নিয়ে ওই যুবককে কালনা সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালে ভর্তি করানো হয়। চিকিৎসকদের তিনি জানান, নিজেই ব্লেড দিয়ে পুরুষাঙ্গ কেটেছেন। সেখানে প্রাথমিক চিকিৎসার পরে কলকাতার হাসপাতালে স্থান‌ান্তরিত করা হয়।

কালনা সুপার স্পেশ্যালিটি হাসপাতালের চিকিৎসকেরা জানান, পুরুষাঙ্গে গভীর ক্ষত হয়েছে। প্রচুর রক্তক্ষরণ হয়েছে। অস্ত্রোপচার প্রয়োজন। হাসপাতালের সুপার কৃষ্ণচন্দ্র বরাই বলেন, ‘‘ওই যুবককে পরীক্ষা করে দেখা যায়, যৌনাঙ্গে ধারালো কিছু চালানো হয়েছে। তাতে মূত্রনালী ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।’’ 

আরও পড়ুন: দুরন্ত হওয়ায় শিকল দিয়ে বেঁধে রাখা হয় শৈশব!

হঠাৎ এমন কাণ্ড কেন ঘটালেন ওই যুবক?

যুবকের মায়ের কথায়, ‘‘কিছুই বুঝতে পারছি না। আমার ছেলে সাধারণত গম্ভীর স্বভাবেরই। কিন্তু অস্বাভাবিকতা কিছু দেখতে পাইনি কখনও।’’ স্থানীয় পঞ্চায়েতের উপপ্রধান বিশ্বজিৎ নাগ অবশ্য বলেন, ‘‘শুনেছি সপ্তাহখানেক আগে পাড়ায় একটি বিয়ে বাড়িতে নিমন্ত্রিত ছিসেন ওই যুবক। সেখানে বরযাত্রীর দলে এক তরুণীকে তাঁর ভাল লাগে। তিনি ওই তরুণীর বাড়িতে গিয়ে তিনি বিয়ের প্রস্তাবও দেন। কিন্তু তাঁরা সম্মত হননি।’’ প্রতিবেশীদের অনুমান সেই হতাশয় এমনটা করে থাকতে পারেন ওই যুবক।

আরও পড়ুন: হাওড়ার গ্রামে অ্যাকাউন্টে ঢুকেছে ফসল বিমার টাকাই, জানা গেল তদন্তে

খবর পেয়ে বলাগড় থানার পুলিশ ওই যুবকের বাড়িতে যায়। পুলিশেরও ধারণা হতাশা থেকেই এমন কাণ্ড। পঞ্চায়েত প্রধান এ দিন বলেন, ‘‘আমাদের মনে হয় ওঁর কাউন্সেলিং প্রয়োজন। সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরলে আমরা সে ব্যবস্থা করব।’’ মনোবিদ মোহিত রণদীপ বলেন, ‘‘শুনে মনে হচ্ছে, ওই যুবকের মানসিক সমস্যা ছিল। মানসিক স্বাস্থ্যের কারণেই তিনি সামান্য ঘটনা বড় করে দেখেছেন। শারীরিক ভাবে সুস্থ হওয়ার পরে তাঁর মানসিক চিকিৎসা প্রয়োজন।’’

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন