ভেনেজ়ুয়েলা থেকে প্রেসিডেন্ট মাদুরোকে তুলে আনার পরই হোয়াইট হাউস জানাল, আমেরিকার সার্বভৌমত্ব ও জাতীয় নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য গ্রিনল্যান্ডকে নিজেদের দখলে রাখা জরুরি। ডেনমার্কের উপনিবেশ, কিন্তু নিরাপত্তা ও বৈদেশিক সম্পর্ক ব্যতীত বাকি ক্ষেত্রে স্বশাসিত বিশ্বের বৃহত্তম দ্বীপটিকে তারা কিনেও নিতে পারে, আবার ‘সামরিক পথও খোলা রয়েছে’। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আগেও এ কথা বলেছেন— ইউরোপের রাষ্ট্রনায়করা তখন মুচকি হেসেছিলেন। মাদুরো-কাণ্ডের পর স্বভাবতই হাসি শুকিয়ে গিয়েছে। ডেনমার্ক হুমকি দিয়েছে, আমেরিকা যদি গ্রিনল্যান্ড দখলের চেষ্টা করে, তা হলে নেটো-র দিন শেষ। নেটো পড়েছে মহাবিপদে। এক দিকে তাদের ঘনিষ্ঠ দেশ ইউক্রেনকে সংগঠনের বাইরের দেশ রাশিয়ার আক্রমণ থেকে রক্ষা করতে চাইছে; অন্য দিকে সংগঠনের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সদস্য আমেরিকা শুধু ভেনেজ়ুয়েলায় রাষ্ট্রক্ষমতা দখল করল তা-ই নয়, সংগঠনের অন্য দেশ ডেনমার্কের বিরুদ্ধেও দখল অভিযানে নামার হুমকি দিচ্ছে। গত এক বছরে ট্রাম্প যত রকম অস্থিরতা তৈরি করেছেন, এই ঘটনা গুরুত্বের নিরিখে সেই তালিকায় উপর দিকে থাকবে।
আশঙ্কা: এ বার গ্রিনল্যান্ডকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হবে বিশ্ব-রাজনীতি?
রাজার দোহাই
ঘরে ও অফিসে ঢুকে চলছে পুলিশের তল্লাশি ও ধরপাকড়, আটকে রাখা হয়েছে অনেককে। কেন? তাঁরা প্রথমত খ্রিস্টান, দ্বিতীয়ত নানা ‘আন্ডারগ্রাউন্ড চার্চ’-এর সদস্য বা কর্মী বলে। দেশটার নাম চিন; রাষ্ট্র ও সরকার এখানে ঘোষিত ভাবে নাস্তিক। অন্য সমস্ত ধর্মের উপর নির্দেশ দেওয়াই আছে: ধর্মাচরণ বা অনুষ্ঠান ইত্যাদি করতে হবে চিনা আইন ও সংস্কৃতি মেনে। সরকারের নথিভুক্ত কিছু চার্চ ও অনুমোদনপ্রাপ্ত যাজকেরা আছেন, তার বাইরে বাকি সব চার্চ অ-বৈধ, তাদের উপরেই নেমে আসছে আঘাত। বুলডোজ়ার এনে চার্চ গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। চেতাবনি, জরিমানা ইত্যাদির আর বালাই নেই।
অবহেলার আগুনে
বর্ষশেষের রাতে সুইস আল্পসের ক্রা মঁতানা-র স্কি রিসর্টের যে বিলাসবহুল পানশালার আগুনে ৪০ জনের প্রাণ গেল, সেটি নাকি টানা পাঁচ বছর পরিদর্শনই হয়নি! সুরার বোতলে স্পার্কলার লাগিয়ে হুল্লোড় করতে গেলে তা উঠে যায় সিলিংয়ের শব্দনিরোধক ফোমে, মুহূর্তে বিস্ফোরণ। মালিকদের বিরুদ্ধে অবহেলাজনিত কারণে হত্যা, আঘাত ইত্যাদি অভিযোগ এনে তদন্ত চলছে। পরিদর্শনে এই ঢিলেমির ব্যাখ্যা দিতে পারেননি ক্রা মঁতানার মেয়র। কলকাতা বা গোয়ার সঙ্গে শুধু পানশালায় অগ্নিকাণ্ড বা তজ্জনিত মৃত্যুতেই নয়, প্রশাসনিক অপদার্থতাতেও মিলে গেল সুইৎজ়ারল্যান্ড।
পিছিয়ে জাপান
জাপানের সংসদ ভবন সুউচ্চ, সুবিশাল, দুটো ফুটবল মাঠ ঢুকে যায়। কিন্তু সেই বিশালাকায় ভবনে পুরুষদের তুলনায় মেয়েদের শৌচালয় দৃষ্টিকটু ভাবে কম। এ দিকে, গত নির্বাচনে রেকর্ডসংখ্যক ৭৩ জন মহিলা জিতে এসেছেন পার্লামেন্টে। বিরোধী সাংসদ ইয়াসুকো কোমিয়ামা জানান, শৌচাগারে দীর্ঘ লাইন পড়ে, ব্যবহারের সুযোগই মেলে না। দেশ জুড়েই এই বৈষম্য, এমনই লাইন দেখা যায়। কারণ পরিকাঠামোয় মহিলা শৌচালয়ের অভাব দীর্ঘ দিনের। সংসদ যখন স্থাপিত হয়েছিল, তখন তো মেয়েদের ভোটাধিকারই ছিল না, তাই এই হাল। সংসদে মহিলা শৌচাগার বাড়ানোর দরখাস্তে সই করেছেন জাপানের প্রথম মহিলা প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচিও। তবে, ইতিমধ্যেই জাপানে সব ক্ষেত্রে নেতৃত্বে নারীদের অংশগ্রহণ ৩০% করার লক্ষ্যের সময়সীমা নিঃশব্দে এক দশক পিছিয়েছে। অতএব, কী মনে হয়? জাপানে কি সূর্যোদয় হবে?
শামিল: সানায়ে তাকাইচি।
সঙ্কটে প্রবালপ্রাচীর
২০২৬-এই কি আসতে চলেছে বিশ্বের প্রবাল প্রাচীরগুলির চরম বিপর্যয়? প্রশ্নটা উঠছে ক্রমবর্ধমান উষ্ণায়নের কারণে। বস্তুত, ২০২৩-২৪ সালে সমুদ্রে তাপমাত্রার রেকর্ড বৃদ্ধি এবং প্রাকৃতিক জলবায়ু চক্র এল-নিনো সাদার্ন অসিলেশন (ইএনএসও)-এর কারণে ৮৩টি দেশে প্রবালপ্রাচীর বর্ণহীন হয়ে পড়ে। এ বছরে আরও একটি এল নিনো চক্রের সম্ভাবনা থাকায় বিজ্ঞানীদের আশঙ্কা যে, প্রাচীরগুলির অবস্থা এমন সীমায় পৌঁছবে, যেখান থেকে তাদের আর বাঁচানো যাবে না। যদিও এ-ও দেখা গিয়েছে, সব প্রবাল প্রাচীরের চরিত্র এক নয়। তবুও, একমাত্র উষ্ণায়ন বৃদ্ধির কার্যকলাপ বন্ধ করলেই এদের বাঁচানো সম্ভব। অর্থাৎ, সামুদ্রিক বাস্তুতন্ত্রের জন্য অতি গুরুত্বপূর্ণ প্রবালপ্রাচীরের বাঁচা-মরা এখন আমাদের হাতে।
এই খবরটি পড়ার জন্য সাবস্ক্রাইব করুন
5,148
1,999
429
169
(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)