বাংলার শিল্পসম্ভারে জনপথ জমজমাট

মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় যখন থেকে রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রীর গদিতে, সেই অবধি বাংলার শিল্পীদের শাড়ি, গয়না, ঘর সাজানোর জিনিসপত্রের সম্ভার নিয়ে দুর্গাপুজোর আগে দিল্লিতে মেলা বসছে। এ বার আট বছরে পা দিল ‘বেঙ্গল প্রি-পূজা এক্সপো’। জনপথের হ্যান্ডলুম হাট-এ এ বার নদিয়া, মেদিনীপুর, পূর্ব বর্ধমান, হুগলি, কোচবিহার, বীরভূম, আলিপুরদুয়ার, পুরুলিয়া, দার্জিলিং, দুই ২৪ পরগনা, কলকাতা, হাওড়া থেকে শিল্পীরা এসেছেন। অনগ্রসর শ্রেণি উন্নয়ন দফতরের উদ্যোগে এসেছে ১৪টি স্বনির্ভর গোষ্ঠী। নকশি কাঁথা, ডোকরা, টেরাকোটার গয়না, এমব্রয়ডারি করা জামাকাপড়, পটচিত্র নিয়ে ১৫ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত জনপথ জমজমাট। 

কেপিসি

তিরুপতির মন্দিরে গিয়ে ‘মুণ্ডন’ করে এসেছেন। নেড়া মাথায় এখনও পুরোপুরি চুল গজায়নি। ভগবানের দ্বারস্থ হয়ে লাভ হল কি না, বাবা জেলে যাওয়ায় সেই প্রশ্নও উঠতে পারে। বাবার পুরনো কেন্দ্র থেকে এ বার লোকসভায় জিতে সাংসদ হয়েছেন কার্তি চিদম্বরম। তার মধ্যেই এমন ফাঁড়া। গত বছর তাঁকে সিবিআই হেফাজতে, পরে তিহাড় জেলে যেতে হয়েছিল। সে সময় কাঠগড়ায় তোলা হলে বাবা-মা আদালতেই কার্তির সঙ্গে দেখা করতে আসতেন। এ বার সিবিআই হেফাজত থেকে বাবাকে আদালতে নিয়ে এলে মা নলিনীকে নিয়ে তিনি দেখা করতে আসছেন। এর মধ্যেই কার্তির ফ্যাশনে নতুন যোগ। যে জামা-ই পরছেন, বুকপকেটে এমব্রয়ডারি করে লেখা ‘কেপিসি’— কার্তি পালানিয়াপ্পন চিদম্বরম। 

প্লাস্টিকে না

সব সময় বিদেশ নীতি নিয়ে মগ্ন থাকলে কী হবে, দেশের পরিবেশ রক্ষার ক্ষেত্রেও নজির গড়ল বিদেশ মন্ত্রক। রাজধানীর জওহরলাল নেহরু ভবনে সাংবাদিক সম্মেলনের পর  কখনও ধোকলা, জলেবি বা সামোসা বরাদ্দ থাকে, তার পাশে খান পঞ্চাশেক প্লাস্টিকের বোতলে মিনারেল ওয়াটার। সম্প্রতি প্লাস্টিক বোতলের প্রবেশ নিষিদ্ধ হয়েছে মন্ত্রকে। তার জায়গা নিয়েছে কাচের বোতল। বিদেশ মন্ত্রকের এই সিদ্ধান্তের পর সব মন্ত্রকেরই এক রা! কোনও ভাবে যাতে প্লাস্টিক না ঢোকে, তা খতিয়ে দেখতে আসরে নামছেন আধিকারিকরাও। রেল মন্ত্রকও হাঁটতে চলেছে প্লাস্টিক বর্জনের পথে। আগামী ২ অক্টোবরের পর থেকে রেলে কোনও প্লাস্টিকের গ্লাস, প্লেট, কাপ ব্যবহৃত হবে না, এমন সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। 

কুলফিওয়ালা 

তখনও দেশ পরাধীন। ১৯০৬ সালে দিল্লির চাওরি বাজার গলিতে কুলফির ছোট্ট দোকান খোলেন কুরেমল। মাটির মটকায় দু’রকমের কুলফি মিলত। সাদামাটা দুধের, আর কেশর পেস্তা। পরে ছেলে মোহনলাল ব্যবসার হাল ধরেন। কুরেমল মোহনলাল কুলফিওয়ালা দোকানের বয়স এখন ১১৩। পুরনো দিল্লির পাশাপাশি এখন হাউজ় খাস, বেঙ্গলি মার্কেটেও দোকান চলছে। সেরা আকর্ষণ এখন আম, আনারের মতো ফলের কুলফি। আমের কুলফিতে চামচ চালালেই আমের শাঁস আর দুধের অমৃতস্বাদ কুলকুল।

পায়েস-প্রেম

সম্প্রতি গুয়াতেমালা দূতাবাসের সঙ্গে যৌথ ভাবে খাদ্য উৎসব করল কলকাতার এক পর্যটন সংস্থা। ছিলেন পেরু, আর্জেন্টিনা, কলম্বিয়া, এল সালভাদর-এর রাষ্ট্রদূতেরা। মুরগি ও আলু—বাংলা আর লাতিন আমেরিকার খাদ্যতালিকায় মিল এটুকুই। কিন্তু চালের পায়েস খেয়ে মুগ্ধ গুয়াতেমালার রাষ্ট্রদূত জিয়োভান্নি কাস্টিলো। প্রথমে প্লেটে, পরে একটা গ্লাস নিয়ে তাতেও ভরে খেলেন পায়েস। বাড়ির জন্যও চেয়ে নিয়ে গেলেন। ভারত-লাতিন আমেরিকার সম্পর্কে মিষ্টি-কূটনীতি চালু হবে কি?

তৃপ্ত: জিয়োভান্নি কাস্টিলো

বন্ধুতা

তিন জনেই কানপুর আইআইটিতে ইলেকট্রিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং পড়তেন। একই হস্টেলে থাকতেন। তিন জনেই ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ে আইএএস পরীক্ষায় বসেন, সফল হন। এখন মোদী সরকারের তিন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রকের সচিব। অর্থ মন্ত্রকের রাজস্ব দফতরের অজয়ভূষণ পাণ্ডে, কৃষি মন্ত্রকের সঞ্জয় আগরওয়াল, নগরোন্নয়ন মন্ত্রকের দুর্গাশঙ্কর মিশ্র। শুনে অর্থ মন্ত্রকের প্রতিমন্ত্রী অনুরাগ ঠাকুরের প্রশ্ন, ‘‘এ কি কাকতালীয়, ভাগ্য না খাঁটি বন্ধুত্ব!’’