সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে

অবাধ ও স্বচ্ছ?

Dal Lake

৩৭০ ধারা বাতিল হইবার পর এই প্রথম বার জম্মু ও কাশ্মীরে নির্বাচন আয়োজিত হইল। এক্ষণে নবজাতক কেন্দ্রশাসিত অঞ্চলটিতে ফলাফল অপেক্ষাও গণতান্ত্রিক নির্বাচন আয়োজন করাই কেন্দ্রীয় শাসক দল বিজেপির নিকট অধিক জরুরি। কাশ্মীরি জনতা লাইনে দাঁড়াইয়া নাগরিক অধিকার প্রয়োগ করিতেছেন— এই চিত্রটুকু তাহাদের পক্ষে কেবল স্বস্তিদায়ক নহে, প্রয়োজনীয়ও। নির্বাচনী প্রক্রিয়া সুষ্ঠু ভাবে পরিচালিত হইলে এই কথাটি বলিবার পরিসর তৈরি হইবে যে, বিশেষ মর্যাদা প্রত্যাহার করিবার পরেও কাশ্মীর উপত্যকার কোনও হানি হয় নাই, এবং কাশ্মীর সমস্যার যথাযথ সমাধানের পথেই সরকার আগাইয়াছে। প্রশ্ন হইল, যে নির্বাচনী আয়োজন লইয়া এত অভিযোগ— যেমন, অনেক বিরোধী প্রার্থী প্রচারের সুযোগ পাইতেছেন না, বক্তব্য প্রকাশে বাধা দেওয়া হইয়াছে একাধিক ভিন্নমতাবলম্বী রাজনীতিককে— তাহা কি গণতান্ত্রিক পরিসরের প্রকৃষ্ট প্রমাণ হিসাবে বিবেচিত হইতে পারে? বহু প্রার্থীর প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ থাকিলে তাহাকে নির্বাচনী প্রক্রিয়া বলা যায়, কিন্তু পদ্ধতিটি অবাধ ও স্বচ্ছ না হইলে তাহাকে কতটা ‘গণতান্ত্রিক’ বলা যায়? যাবতীয় অন্যায্য প্রভাব ব্যতিরেকে জনমত গঠিত হইবার সুযোগ পাইলে তবেই তাহা যথাযথ গণতান্ত্রিক নির্বাচন।

নির্বাচনী প্রক্রিয়ার ‘গণতন্ত্র’ লইয়া যে প্রশ্ন উঠিতেছে, তাহা পুলওয়ামার ঘটনার কষ্টিপাথরে বিচার করা যাইতে পারে। জেলা উন্নয়ন পরিষদের নির্বাচন, যাহা আঞ্চলিক উন্নয়নের পথ তৈরি করিবে, তাহাতে ভোটদানের হার মাত্র ৬.৭ শতাংশ। পুলওয়ামার জনতার উন্নয়নের আকাঙ্ক্ষা নাই কিংবা তাঁহারা রাজনীতি সচেতন নহেন, এমন দাবি করিবার কারণ নাই। কিন্তু, সেই উন্নয়নের পথ ইভিএম হইয়াই যায় বলিয়া তাঁহারা মনে করেন না, এই অনুমান করা অসঙ্গত হইবে না। যুগ যুগ ধরিয়া ভগ্নপ্রায় পথঘাট এবং হতশ্রী পরিকাঠামো দেখিয়া সম্ভবত তাঁহারা সার বুঝিয়াছেন— ভোট হইলেও কিছু পাল্টাইবে না। ইহাকে ‘অর্থহীন’ ও ‘প্রহসন’ চিহ্নিত করিয়া নাগরিকগণ একটি বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রশ্নও উত্থাপন করিয়াছেন। তাহা হইল, ভোট দিলেই কি নির্দোষ জনতার উপর নিপীড়ন বন্ধ হইয়া যাইবে?

যদিও পুলওয়ামা উপত্যকায় ব্যতিক্রম। এই বারের নির্বাচনের বাস্তবচিত্র দীর্ঘ লাইন। আশ্চর্য হইলেও, বহু যুগ পরে কাশ্মীরে ভোট বয়কটের আহ্বান শুনা যায় নাই। কাশ্মীরের নির্বাচন ইতিপূর্বেও গণতান্ত্রিক আবহে অনুষ্ঠিত হইত না, বহু বারই নগণ্য ভোটদানের সাক্ষী থাকিত উপত্যকা, কিন্তু বর্তমানের সন্ত্রস্ত পরিস্থিতি সম্ভবত অভূতপূর্ব। সেনাবাহিনী এবং অত্যাচারের সহিত কাশ্মীরি জনতা পরিচিত হইলেও এই ভয়াবহ মাত্রা তাঁহাদের অভিজ্ঞতায় ছিল না। প্রশ্ন হইল, তৎসত্ত্বেও অভূতপূর্ব ভোটদানের কারণ কী? বিরোধী দলগুলিই বা কেন আরও কড়া অবস্থান গ্রহণ করিল না? আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার যে হেতু আর রহিলই না, সেই কারণেই হয়তো কাঠামোর ভিতরে থাকিয়া সংগ্রাম চালাইবার কথা ভাবিতেছে উপত্যকাবাসী। বিধানসভা ‘কেন্দ্রশাসিত’ হইয়া গিয়াছে, হাতে পড়িয়া থাকা জেলা উন্নয়ন পরিষদের পেনসিলকেই কি সম্বল মনে করিতেছে কাশ্মীর? অবশিষ্ট পর্বগুলিতে হয়তো সেই জবাব মিলিবে।

সবাই যা পড়ছেন

সব খবর প্রতি সকালে আপনার ইনবক্সে
আরও পড়ুন

সবাই যা পড়ছেন

আরও পড়ুন