E-Paper

দুনিয়া ডায়েরি: দেখা হল, কথা হল, অবিশ্বাস কমল কি

ট্রাম্প-শি শীর্ষ সম্মেলনকে এক নিয়ন্ত্রিত প্রতিদ্বন্দ্বিতার বহিঃপ্রকাশ ভাবাই ভাল। চিন আমেরিকা থেকে আরও বেশি কৃষিপণ্য (সয়াবিন), বোয়িং জেট ও তেল আমদানিতে রাজি হয়েছে; সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়— বেজিং তেহরানের উপর চাপ প্রয়োগের ইঙ্গিত দিয়েছে, যাতে হরমুজ় প্রণালী সচল থাকে।

শেষ আপডেট: ১৭ মে ২০২৬ ০৮:০০

এ সপ্তাহে সারা বিশ্বের নজর ছিল চিনে। ডোনাল্ড ট্রাম্প বেজিংয়ে এলেন, দেখলেনও বটে, তবে জয় করলেন কি না তা নিয়ে নানা বিশেষজ্ঞের নানা মত। ট্রাম্প যদিও শি জিনপিং-এর প্রশংসায় পঞ্চমুখ, এও বলেছেন যে, আগের বারের চেয়ে এ বার কথাবার্তা দারুণ হয়েছে; তবে দিন শেষের আভাস— ট্রাম্প-শি শীর্ষ সম্মেলনকে এক নিয়ন্ত্রিত প্রতিদ্বন্দ্বিতার বহিঃপ্রকাশ ভাবাই ভাল। চিন আমেরিকা থেকে আরও বেশি কৃষিপণ্য (সয়াবিন), বোয়িং জেট ও তেল আমদানিতে রাজি হয়েছে; সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়— বেজিং তেহরানের উপর চাপ প্রয়োগের ইঙ্গিত দিয়েছে, যাতে হরমুজ় প্রণালী সচল থাকে। আমেরিকার প্রতিশ্রুতি: চিনা বৈদ্যুতিক গাড়ি ও কিছু বিশেষ শুল্কের ব্যাপারে নরম অবস্থান। সবচেয়ে স্পর্শকাতর বিষয় ছিল তাইওয়ান। চিনের দাবি, আমেরিকা যেন চিনের মুঠো থেকে তাইওয়ানের ‘স্বাধীনতা’র সরাসরি বিরোধিতা করে। প্রযুক্তির স্নায়ুযুদ্ধও চলেছে পুরোদমেই: এআই চিপ-এর ব্যাপারে ওয়াশিংটন এখনও আগের মতোই কঠোর। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, উভয় পক্ষই যেন একটা নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যে থেকে লড়াইয়ের কৌশল নিয়েছে; একে অপরের সঙ্গে কথা বলবে ঠিকই, কিন্তু কেউ কাউকে বিশ্বাস করবে না!

দ্বিপাক্ষিক: বেজিংয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে স্বাগত জানাচ্ছেন শি জিনপিং।

দ্বিপাক্ষিক: বেজিংয়ে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে স্বাগত জানাচ্ছেন শি জিনপিং। ছবি: রয়টার্স।

জ্বলেনি আলো

তীব্র জ্বালানি সঙ্কটে কিউবা। দেশের বিভিন্ন জায়গায়, বিশেষত হাভানায় প্রায় গোটা দিন আলো থাকছে না। পরিস্থিতি এতই গুরুতর যে, ইলেকট্রিক যানবাহন তো দূরস্থান, ফোনও চার্জ করা মুশকিল। মাঝে রাশিয়া এক জাহাজ-ভর্তি তেল পাঠালেও, তা শেষ হয়ে গিয়েছে। এক দিকে গত জানুয়ারিতে তাদের তেলসমৃদ্ধ মিত্ররাষ্ট্র ভেনেজ়ুয়েলার উপর আমেরিকার হামলা, অন্য দিকে কিউবা সরকার আমেরিকার জাতীয় নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক— ট্রাম্প প্রশাসনের এই ঘোষণার পর কমিউনিস্ট-শাসিত দেশটি সাম্প্রতিক কালে তেল অবরোধের সম্মুখীন। ট্রাম্প প্রশাসন কিউবার শীর্ষ নেতৃত্ব অপসারণ করতে নানা চাপ সৃষ্টি করছে। যদিও নাগরিকরা এখনও সরকারের পক্ষে।

পাঠশালা বন্ধ?

গণআন্দোলনে উত্তাল আর্জেন্টিনা। মানুষের ক্ষোভ মূলত বর্তমান হাভিয়ের মিলেই প্রশাসনের সরকারি শিক্ষায় আর্থিক হ্রাস নিয়ে। আসলে, সরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর পরিচালন-ব্যয় নির্বাহ এবং উচ্চ মূল্যবৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে শিক্ষকদের বেতন বৃদ্ধির জন্য সে দেশের সংসদ ২০২৪ ও ২০২৫ সালে দু’টি আইন অনুমোদন করেছে। কিন্তু মিলেই সরকার সেগুলি মানতে নারাজ, আইনগুলি নাকি তাঁদের রাজস্ব নীতির পরিপন্থী। তাঁর সময়ে শিক্ষাখাতে অনুদান থেকে শিক্ষকদের বেতন, সবই তুলনামূলক ভাবে কমেছে। বিষয়টি এ বার সে দেশের সর্বোচ্চ আদালতে যাওয়ার কথা।

এই প্রথম

এডিনবরা চিড়িয়াখানার কর্মীদের খুশির অন্ত নেই। এই প্রথম সেখানে, এবং বলতে গেলে গোটা স্কটল্যান্ডেই— জন্ম নিয়েছে এক স্লথ-শাবক: ফেইরা ও নিকো স্লথ-দম্পতির প্রথম ছানা। কর্মীরা তার নাম রেখেছেন ‘অ্যাটি’, ডেভিড অ্যাটেনবরো-র প্রতি শ্রদ্ধায়। বিশ্বখ্যাত এই প্রকৃতিপ্রাণবিশারদ গত ৮ মে একশো বছর পূর্ণ করলেন। কয়েক বছর আগে বিবিসি-র এক সাক্ষাৎকারে যখন তাঁকে জিজ্ঞেস করা হয়েছিল ‘একটি দিনের জন্য কোন প্রাণী হয়ে বাঁচতে চান’, তিনি উত্তর দিয়েছিলেন, ‘স্লথ’। গত বুধবার থেকে এই চিড়িয়াখানার স্লথ হাউস খুলে গেছে দর্শকদের জন্য। তবে সাক্ষাৎলাভের সুযোগ কতটা মিলবে বলা মুশকিল, স্লথেরা দিনে পনেরো ঘণ্টাই ঘুমোয় কিনা!

দর্শন: এডিনবরার আকর্ষণ অ্যাটি।

দর্শন: এডিনবরার আকর্ষণ অ্যাটি।

পাখনা মেলো

দূষণ ও বাসস্থান সঙ্কোচনে ব্রিটেনের অর্ধেকেরও বেশি প্রজাপতি-প্রজাতি সঙ্কটে। সমস্যা মোকাবিলায় নর্থউইচ পুর-পরিষদ ইংল্যান্ডের চতুর্থ কাউন্সিল অনুসারে নিজেদের ‘প্রজাপতিবান্ধব’ ঘোষণা করেছে। প্রধান রাস্তা থেকে নর্থউইচ স্টেশন পর্যন্ত প্রজাপতিবান্ধব পথ তৈরি হবে, ওদের বাসস্থানগুলির সংযুক্তির চেষ্টায় পতঙ্গদের বন্ধু-গাছ লাগানো হবে, কুড়িটি স্কুলের পড়ুয়ারা এমন গাছ বাগানে লাগাবে। ক্ষতিকর কীটনাশক বন্ধ, জীববৈচিত্র রক্ষা, মধু-ভরা ফুলের গাছ লাগানো, বন্যপ্রাণের উপযুক্ত পরিবেশ গড়া— নানা পরিকল্পনা। প্রজাপতি ও মথ পরিবেশের সৌন্দর্য ও বলবর্ধক, তাদের সংরক্ষণে কেমব্রিজ ল্যাঙ্কাস্টার গিলিংহাম পুর-পরিষদ আগেই উদ্যোগী, এ বার যোগ দিল নর্থউইচ। প্রজাপতি কমছে ভারতের শহর-মফস্‌সলেও, আমরা জাগব কবে?

(এই প্রতিবেদনটি আনন্দবাজার পত্রিকার মুদ্রিত সংস্করণ থেকে নেওয়া হয়েছে)

Dunia Diary Donald Trump US-China Xi Jinping

আরও পড়ুন:

Share this article

CLOSE

Log In / Create Account

We will send you a One Time Password on this mobile number or email id

Or

By proceeding you agree with our Terms of service & Privacy Policy